ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : ঈদুল ফিতরের জামাতের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। এবার এ ঈদগাহে ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টায় শুরু হবে ঈদ জামাত। এতে ইমামতি করবেন কিশোরগঞ্জ শহরের বড় বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ।
ঈদগাহ মাঠের দাগকাটা, মিম্বর ও দেয়ালে রং করা, মাটির নিচ দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন টানানো, মাইক স্থাপন, ওজুখানা ও টয়লেট সংস্কারসহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের পরিচ্ছন্নতা ও ঘষামাজার কাজ।
শোলাকিয়ায় ২০১৬ সালের জঙ্গি হামলাকে মাথায় রেখে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বসানো হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার এবং সিসিটিভি ক্যামেরা। ঈদের দিন নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হবে পুরো মাঠ।
বুধবার কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপার ডক্টর এস এম ফরহাদ হোসেন এবং র্যাব-১৪ সিপিসি-২ এর কমান্ডার মো. আলী নোমান শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিদর্শন করেন।
শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, ঈদ জামাতের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ঈদের দিন চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। সেনাবাহিনীর চার প্লাটুন, পাঁচ প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ছয়টি টিম, এক হাজার একশত পুলিশ সদস্য, পাঁচ প্লাটুন আনসার সদস্য এবং ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।
১৮২৮ সালে ঈদ জামাতের মধ্য দিয়ে শোলাকিয়া ঈদগাহের গোড়াপত্তন হয়। জনশ্রুতি আছে, শাহ সুফি সৈয়দ আহমদের ইমামতিতে প্রথমবার ঈদের জামাতে সোয়া লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর ষষ্ঠ বংশধর দেওয়ান মান্নান দাদ খাঁ ১৯৫০ সালে ঈদগাহের জন্য ৪ দশমিক ৩৫ একর জমি ওয়াকফ করেন। পরে আরও জমি যুক্ত হয়ে বর্তমানে প্রায় সাত একর জমির ওপর ঈদগাহটির অবস্থান।
ঈদের দিন দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একটি ট্রেন ভৈরব থেকে সকাল ৬টায় এবং অপরটি ময়মনসিংহ থেকে ভোর পৌনে ৬টায় কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে। জামাত শেষে ট্রেন দুটি কিশোরগঞ্জ স্টেশন থেকে ছেড়ে যাবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৭ জুলাই শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে জঙ্গি হামলায় দুই পুলিশ সদস্য, স্থানীয় এক নারী এবং এক জঙ্গিসহ চারজন নিহত হন। হামলায় পুলিশসহ ১৬ মুসল্লি আহত হন। এরপরও ঈদগাহে মুসল্লিদের সমাগমে কোনো ভাটা পড়েনি।
লাখো মুসল্লির সঙ্গে নামাজ আদায় করলে দোয়া কবুল হয়—এই আশায় দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজ আদায় করতে আসেন।








