ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা র্যাব। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে বিচারকাজ। ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নিখোঁজ হওয়ার পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ত্বকীর মরদেহ উদ্ধার করা হলেও আজ অবধি বিচার প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার ও বিশিষ্ট নাগরিকরা।
২০১৩ সালে হত্যাকাণ্ডের পর ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি সদর মডেল থানায় মামলা করেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তভার পায় র্যাব। তদন্ত চলাকালে বিভিন্ন সময়ে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের মধ্যে ৪ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়াউল ইসলাম কাজল বলেন, ‘আসামিরা কে, কোথায়, কীভাবে হত্যা করেছে তার বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়ার পরও আদালতে চার্জশিট না আসাটা রহস্যজনক। আমরা বারবার ন্যায়বিচারের দাবিতে চার্জশিট জমা দেওয়ার তাগিদ দিচ্ছি।’
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই নিহতের পরিবার তৎকালীন প্রভাবশালী ওসমান পরিবারকে এই খুনের জন্য দায়ী করে আসছে। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে বিচারের আশা দেখলেও এখনো দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দু-চারজন গ্রেফতার ও জবানবন্দি দিলেও মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। শামীম ওসমানের টাকার প্রভাবে বা যোগসাজশে বিচার বিলম্বিত হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। আমরা আশা করি, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার এই হত্যার বিচার করবে।’
অভিযোগপত্র দাখিলে বিলম্বের বিষয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পি পি) আবুল কালাম আজাদ জাকির জানান, বিগত সরকারের প্রভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট করে ফেলায় তদন্তে বিঘ্ন ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) খুনিদের শনাক্ত করতে পারলেও লাশ ফেলার স্থানের কিছু ক্লু বা প্রমাণ এখনো সংগ্রহ করতে পারেননি। তবে তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে, আশা করছি দ্রুতই চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে।’
বাদীপক্ষের তথ্যমতে, এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১১ জন গ্রেফতার হলেও তাদের মধ্যে ৮ জন জামিনে মুক্ত আছেন। ১ জন কারাগারে থাকলেও বাকি ২ জন এখনও পলাতক।








