লিয়াকত হোসাইন লায়ন, জামালপুর প্রতিনিধি ॥ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া বইছে দেশ জড়ে। গ্রামের সংসদ’চা-দোকানে গরম চায়ের কাপ সামনে নিয়ে আড্ডা-আলাপ চলছেই। আগামী নির্বাচনে জিতবে কোন দল? এবার কারা সরকারে যাবে? একজন বললেন, যত দিন যাচ্ছে ধানের শীষের অবস্থা ভালো। আরেকজন বললেন, ধানের শীষের টানাটানিতে দাঁড়িপাল্লা বেরিয়ে যেতে পারে।
চলছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসন বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল আর নদী ভাঙনে ক্ষতবিক্ষত এই জনপদে বইছে নির্বাচন প্রচারণার শেষ হাওয়া। শেষ মুহুর্তে চর আর বীর এই দুই ভাগে বিভক্ত ভোটারদের মন জয়ে মরিয়া প্রার্থীরা। এখানে মূল লড়াই হতে যাচ্ছে দুই সাবেক মিত্র বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। তবে দূর্গম যমুনার চরের অধিকাংশ মানুষ জানেন না গনভোট কি।
একদিকে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু, অন্যদিকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারী ড. সামিউল হক ফারুকী। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা সুলতান মাহমুদ ও সতন্ত্র প্রার্থী অর্নব ওয়ারেছ খান ঘোড়া মার্কা প্রতিক নিয়ে মাঠে রয়েছন। নির্বাচনী লড়াইয়ের সমীকরণ ৩৫৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত ইসলামপুর আসনটি একটি উপজেলা, একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার ২ লক্ষ ৮২ হাজার ৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ৪৫৮ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬২৯ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ জন।
বিগত ১২টি সংসদ নির্বাচনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিএনপি এই আসনে দুবার জয়ী হয়েছিল। একবার ১৯৯৬ সালের স্বল্পমেয়াদি নির্বাচনে এবং দ্বিতীয়বার ২০০১ সালে সুলতান মাহমুদ বাবু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। আসনটিকে নিজেদের তিলক হিসেবে বিবেচনা করে দীর্ঘ সময় ধরে মাঠ গুছিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ফলে জয়ের ব্যাপারে দুই পক্ষই শতভাগ আশাবাদী।
যমুনার দূর্গম চরাঞ্চলের ইন্দুলামারী গ্রামের আক্কাস আলী বলেন- ভোটের সময় অনেক কিছুই বলে কিন্তু ভোটের শেষে কিছুই বলেন না। আামাদের দাবি উন্নয়ন ও নদী ভাঙ্গন রোধ রক্ষা।
ইসলামপুরের মূল সংকট বন্যা ও নদীভাঙন। দূর্গমচরের শিক্ষার্থী শিহাব আলী বলেন-চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ এবার মুখিয়ে আছেন এমন একজনের জন্য, যিনি তাদের এই দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান করবেন।
নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত বিএনপির প্রার্থী সুলতান মাহমুদ বাবু বলেন, বিএনপি সবসময়ই এই এলাকায় শক্তিশালী ছিল আছে। তরুনরা এবার ধানের শীষের পক্ষ নিয়েছে। তারা উন্নয়ন চায়। বিগত দিনে অনেক উন্নয়ন করেছি তাই সবাই ঐক্যবদ্ধ। আগামী নির্বাচনে সকলে ধানের শীষে ভোট দেবে। বিজয় শতভাগ নিশ্চিত ইনশিআল্লাহ।
জামায়াত ইসলামী প্রার্থী ড. সামিউল হক ফারুকী বলেন, এবার তরুন ও নারী ভোটাররা জামায়াতকে বেছে নিয়েছে। আমরা যেহেতু তরুন বেকারদের হাতে কাজ তুলে দিতে চেয়েছি,নারীদের স্বাধিনতা নিশ্চিত করতে চেয়েছি সেহেতু নারী ও যুবকদের মধ্যে অভূতপূর্ব উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। সর্বস্তরের মানুষের সমর্থনে আমরা ইনশাআল্লাহ বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।
ইসলামপুরের নির্বাচনী মাঠে চর ও বীরের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার গলায় বিজয়ের মালা উঠবে, তা নির্ভর করছে নদীভাঙা এই মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতির ওপর।








