সংগৃহীত ছবি
অনলাইন ডেস্ক : ইরানের সাম্প্রতিক অস্থিরতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বড় ধরনের হাত থাকার বিষয়ে তেহরানের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
সোমবার তেহরানে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের এক সভায় তিনি এই অভিযোগ করেন। আরাঘচি জানান, ইরানে বিদেশি মদদপুষ্ট অনুপ্রবেশকারীরা বিক্ষোভকারী ও পুলিশ উভয়ের ওপরই গুলি চালিয়েছে, যাতে দেশটিতে সামরিক আগ্রাসন চালানোর একটি অজুহাত তৈরি করা যায়।
গত মাসের শেষের দিকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী এবং সাধারণ নাগরিকসহ বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। এই অস্থিরতার মধ্যে বিভিন্ন স্থানে মসজিদ, চিকিৎসাকেন্দ্র এবং সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচির মতে, দেশজুড়ে চলা এই বিক্ষোভকে পরিকল্পিতভাবে ‘সহিংস ও রক্তক্ষয়ী’ রূপ দেওয়া হয়েছে যেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের সুযোগ পান। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানে সংঘটিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জড়িত থাকার অসংখ্য নথি ও প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে।
আরাঘচি আরও জানান, বিক্ষোভকারীদের মাঝে সশস্ত্র অপতৎপরতাকারী বা অপারেটিভদের দেখা গেছে। তেহরানের হাতে এমন কিছু অডিও রেকর্ড রয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, ওই অপারেটিভদের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে বিক্ষোভকারী, পুলিশ এবং সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালানোর জন্য। তিনি উল্লেখ করেন, নিহতদের অনেকের শরীরেই পেছন দিক থেকে গুলির আঘাত পাওয়া গেছে।এসব ব্যক্তি সরাসরি বিদেশি শক্তির নির্দেশ পাচ্ছিল এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের ফরাসি ভাষী এজেন্টরা এই বিক্ষোভে অনুপ্রবেশ করেছিল বলে তাদের কাছে জীবন্ত প্রমাণ রয়েছে।
পশ্চিমা সরকারগুলোর সমালোচনা করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা সন্ত্রাসীদের নিন্দা না জানিয়ে উল্টো ইরানের পুলিশের সমালোচনা করছে। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানের বিভিন্ন শহরে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এই অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা এক পর্যায়ে সরকারি ভবনে হামলা চালায় এবং কেউ কেউ রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবি জানায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে ফোন নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয়। সূত্র: আরটি








