লিয়াকত হোসাইন লায়ন, জামালপুর সংবাদদাতা : জামালপুরের ইসলামপুরের মাঠে মাঠে
এখন নয়নাভিরাম সরিষার হলুদ ফুলের সমারোহ। বিস্তৃত মাঠ যেন ঢেকে আছে অপার
সুন্দর এক হলুদ গালিচায়। সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে এসব জমির পাশে পোষা
মৌমাছির শত শত বাক্স নিয়ে হাজির হয়েছেন মৌয়ালরা। বাক্স থেকে হাজার হাজার
মৌমাছি উড়ে গিয়ে মধু সংগ্রহে ঘুরে বেড়া”েছ সরিষা ফুলের মাঠে। যেন মধু
সংগ্রহে পেশাদার মৌয়ালদের মহোৎসব চলছে। এ অপরূপ দৃশ্যে মুগ্ধ হ”েছ ¯’ানীয় শিশু-
কিশোর থেকে প্রকৃতিপ্রেমী প্রতিটি মানুষ।
সরেজমিনে,ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা,পলবান্ধা,পাথর্শী,চরপুটিমারী,চরগোয়ালিনী,
গোয়ালেরচর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বেশিরভাগ ফসলি জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে।
এসব জমিতে সরিষার ফুল ফুটেছে। আর ফুলের মধু আহরণে নেমেছেন মৌয়ালরা।
মৌয়ালদের বাক্স থেকে দলে দলে উড়ে যা”েছ পোষা মৌমাছি। ঘুরে বেড়া”েছ এ ফুল থেকে ও
ফুলে। সংগ্রহ করছে মধু। মুখভরা মধু নিয়ে এরা ফিরে যা”েছ মৌয়ালদের বাক্সে রাখা
মৌচাকে। সেখানে মধু জমা করে ফের ফিরে আসছে সরিষার জমিতে। এভাবে সারাদিন
মৌমাছিরা যেমন মধু সংগ্রহ করে, আবার বিভিন্ন ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়াতে গিয়ে
পুরো জমির পরাগায়নেও সহায়তা করে। এ মৌসুমে মৌয়ালরা পোষা মৌমাছি দিয়ে
প্রচুর মধু উৎপাদন করে যেমন লাভবান হ”েছন ঠিক তেমনি মৌমাছির ব্যাপক পরাগায়নে
সরিষার বাম্পার ফলন হওয়ায় চাষীরাও আশা রাখছেন।
উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের চন্দনপুর এলাকায় সরিষার ফুলের মধু সংগ্রহে
সোনারগাও থেকে আসা পেশাদার মৌয়াল ফজলুল রহমান জানান, তিনি পোষা মৌমাছির
১৩০টি বাক্স নিয়ে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহ করছেন। এখানে সরিষার ফুল থেকে
মৌমাছি দিয়ে মধু সংগ্রহ করে তিনি যেমন লাভবান হ”েছন ঠিক তেমনি মৌমাছির
ব্যাপক পরাগায়নে সরিষার বাম্পার ফলন হওয়ায় ¯’ানীয় চাষীরাও আশার আলো দেখছেন। একই উপজেলার পাথর্শী ইউনিয়নের দেলিরপাড় গ্রামে সরিষার ফুল থেকে পোষা মৌমাছি
দিয়ে মধু সংগ্রহে নারায়ন গঞ্জ থেকে আসা পেশাদার মৌয়াল জামাল হোসেন জানান,
প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও পোষা মৌমাছির ১৬০টি বাক্স নিয়ে সরিষার ফুলের মধু
সংগ্রহে ইসলামপুরে এসেছেন। প্রতি সপ্তাহে গড়ে নয় মণ মধু সংগ্রহ করতে পারেন।
মৌয়ালদের আরো জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দেড় শতাধিক পেশাদার মৌয়াল
জামালপুরের সাতটি উপজেলায় সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহের কাজ করছেন। এসব মধু
বিক্রি করে স্বাবলম্বী হ”েছন মৌয়ালরা। আবার মধ্যস্বত্তভোগীরা এ মধু বিদেশ রপ্তানি করে
প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল জানান, চলতি রবি মৌসুমে
উপজেলায় ৬ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৬ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হ”েছ। প্রতি হেক্টরে গড়ে প্রায়
১দশমিক ৫ টন সরিষা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও উপজেলায় ২৫টি স্পটে
মৌয়ালরা মধু সংগ্রহের ২হাজার ৯শত ২০টি বক্স বসিয়েছে। সরিষার ভালো ফলনের
সম্ভাবনা ও মধু উৎপাদন উভয় ক্ষেত্রেই ইসলামপুর উপজেলার কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক
প্রভাব ফেলবে।








