জেলেদের জালে ধরা পড়ল ৪ মণ ওজনের দুই পাখি মাছ

সংগৃহীত ছবি

 

অনলাইন ডেস্ক : কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির দুটি পাখি মাছ। যা বৈজ্ঞানিকভাবে ‘সেইল ফিশ’ নামে পরিচিত। বিশাল আকৃতির এই মাছ দুটির ওজন প্রায় ১৬০ কেজি বা ৪ মণ।

রোববার দুপুরে মাছ দুটি মহিপুর মৎস্য বাজারে বিক্রির জন্য আনা হলে এক নজর দেখতে ভিড় করেন স্থানীয় মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। বিশাল পৃষ্ঠীয় পাখনা ও লম্বাটে শরীরের কারণে মাছ দুটি মুহূর্তেই সবার দৃষ্টি কাড়ে।

স্থানীয় মৎস্য আড়তদার ও জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নৌকার পালের মতো বড় পৃষ্ঠীয় পাখনার কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে এ মাছ ‘পাখি মাছ বা গোলপাতা’ নামে পরিচিত। সাধারণত বঙ্গোপসাগরের গভীর পানিতে এ ধরনের মাছ ধরা পড়ে।

স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী মোস্তাফিজ বলেন, উপকূলীয় এলাকায় পাখি মাছের চাহিদা তুলনামূলক কম হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যায় না। তাই সব সময় মাছগুলো বিক্রির জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে খোলা বাজারে উন্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে মাছ দুটি মোট ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

মাছ দুটি প্রতি কেজি ১৫৬ টাকা দরে কিনে নেন ‘টিপু ফিস’-এর স্বত্বাধিকারী টিপু সুলতান। তিনি বলেন, ঢাকায় এই মাছের ভালো চাহিদা রয়েছে। বাড়তি দামে বিক্রির আশায় মাছগুলো প্রসেসিং করে রাজধানীতে পাঠানো হবে।

মাছ দুটি ধরে আনা জেলে কামাল মাঝি বলেন, জাল টানার সময় দেখি অন্য মাছের সঙ্গে বিরল এই দুটি পাখি মাছ উঠে এসেছে। এত বড় মাছ সচরাচর ধরা পড়ে না। কিন্তু চাহিদা কম থাকায় তুলনামূলক কম দাম পেয়েছি।

মাছটির ক্রেতারা জানান, পাখি মাছ অত্যন্ত বিরল এবং এটি বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। দেশের নামিদামি রেস্টুরেন্টগুলোতে এই মাছের বিশেষ কদর রয়েছে। কেটে ও প্রসেসিং করে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে ইকোফিশ-বাংলাদেশের গবেষণা সহকারী বখতিয়ার রহমান বলেন, সেইল ফিশ পৃথিবীর দ্রুততম মাছগুলোর একটি। এটি ঘণ্টায় প্রায় ১১০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার বেগে চলতে পারে। শিকারের সময় রং পরিবর্তনের অসাধারণ ক্ষমতাও এ মাছের রয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, পাখি মাছ মূলত গভীর সমুদ্রের মাছ। বৈজ্ঞানিকভাবে একে সেইল ফিশ বলা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার আগে যা যা চেক করা জরুরি

» কবজি ব্যথা: কারণ ও করণীয়

» বার কাউন্সিল পরীক্ষায় ববির ৪০ শিক্ষার্থীর সাফল্য

» আগামীতে আপনাদের সাথে কাজের মাধ্যমে দেখা হবে: ডেপুটি স্পিকার

» যে কারণে ইরানের সাউথ পারস গ্যাসক্ষেত্রে হামলা এক ভয়াবহ মোড়: দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ

» ঈদের দিন সারা দেশে কালবৈশাখী ঝড়ের আভাস

» ২১ ঘণ্টা পর উত্তরের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

» কোস্ট গার্ডের অভিযানে ২ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা জব্দ

» শাহবাগের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় হত্যার ঘটনায় আরো চারজন গ্রেপ্তার

» পদ্মা সেতুতে একদিনে টোল আদায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

জেলেদের জালে ধরা পড়ল ৪ মণ ওজনের দুই পাখি মাছ

সংগৃহীত ছবি

 

অনলাইন ডেস্ক : কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির দুটি পাখি মাছ। যা বৈজ্ঞানিকভাবে ‘সেইল ফিশ’ নামে পরিচিত। বিশাল আকৃতির এই মাছ দুটির ওজন প্রায় ১৬০ কেজি বা ৪ মণ।

রোববার দুপুরে মাছ দুটি মহিপুর মৎস্য বাজারে বিক্রির জন্য আনা হলে এক নজর দেখতে ভিড় করেন স্থানীয় মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। বিশাল পৃষ্ঠীয় পাখনা ও লম্বাটে শরীরের কারণে মাছ দুটি মুহূর্তেই সবার দৃষ্টি কাড়ে।

স্থানীয় মৎস্য আড়তদার ও জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নৌকার পালের মতো বড় পৃষ্ঠীয় পাখনার কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে এ মাছ ‘পাখি মাছ বা গোলপাতা’ নামে পরিচিত। সাধারণত বঙ্গোপসাগরের গভীর পানিতে এ ধরনের মাছ ধরা পড়ে।

স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী মোস্তাফিজ বলেন, উপকূলীয় এলাকায় পাখি মাছের চাহিদা তুলনামূলক কম হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যায় না। তাই সব সময় মাছগুলো বিক্রির জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে খোলা বাজারে উন্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে মাছ দুটি মোট ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

মাছ দুটি প্রতি কেজি ১৫৬ টাকা দরে কিনে নেন ‘টিপু ফিস’-এর স্বত্বাধিকারী টিপু সুলতান। তিনি বলেন, ঢাকায় এই মাছের ভালো চাহিদা রয়েছে। বাড়তি দামে বিক্রির আশায় মাছগুলো প্রসেসিং করে রাজধানীতে পাঠানো হবে।

মাছ দুটি ধরে আনা জেলে কামাল মাঝি বলেন, জাল টানার সময় দেখি অন্য মাছের সঙ্গে বিরল এই দুটি পাখি মাছ উঠে এসেছে। এত বড় মাছ সচরাচর ধরা পড়ে না। কিন্তু চাহিদা কম থাকায় তুলনামূলক কম দাম পেয়েছি।

মাছটির ক্রেতারা জানান, পাখি মাছ অত্যন্ত বিরল এবং এটি বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। দেশের নামিদামি রেস্টুরেন্টগুলোতে এই মাছের বিশেষ কদর রয়েছে। কেটে ও প্রসেসিং করে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে ইকোফিশ-বাংলাদেশের গবেষণা সহকারী বখতিয়ার রহমান বলেন, সেইল ফিশ পৃথিবীর দ্রুততম মাছগুলোর একটি। এটি ঘণ্টায় প্রায় ১১০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার বেগে চলতে পারে। শিকারের সময় রং পরিবর্তনের অসাধারণ ক্ষমতাও এ মাছের রয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, পাখি মাছ মূলত গভীর সমুদ্রের মাছ। বৈজ্ঞানিকভাবে একে সেইল ফিশ বলা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com