বিরাজনৈতিকীকরণের প্রক্রিয়া চলছে

ছবি সংগৃহীত

 

ড. শাহদীন মালিক : রাষ্ট্র সংস্কারের নামে জুলাই সনদ তৈরিতে যেসব প্রস্তাব নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা চলছে, তা দেশকে বিরাজনৈতিকীকরণের একটি প্রক্রিয়া বলেই মনে হয়।

 

রাজনীতি বলতে আমি যা বুঝি সেটি হচ্ছে—বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আদর্শ থাকবে, উদ্দেশ্য থাকবে এবং সেসব আদর্শ-উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের বিভিন্ন পথ-পদ্ধতি থাকবে। এখন ৩০টি রাজনৈতিক দল অনেক বিষয়ে যদি একমত হয়ে যায় তাহলে দলগুলো তো সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনে পরিণত হয়। এখন ঐকমত্যের নামে সেই বিরাজনৈতিকীকরণের প্রক্রিয়াই চলছে।

গণতান্ত্রিক দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থাকে। তাদের আদর্শ, লক্ষ্য ও বাস্তবায়নের পথ ভিন্ন থাকে। কিন্তু দলগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যদি একমত হয়ে যায়, তাহলে বিভিন্ন দল থাকার তো কোনো প্রয়োজন নেই। এ ক্ষেত্রে প্রকারান্তরে একদলীয় শাসনব্যবস্থাতেই ফিরে যাচ্ছি আমরা।

 

সব রাজনৈতিক দল যদি ৩০টি পয়েন্টে একমত হয়, তাহলে রাজনীতির পরিবর্তে বিরাজনৈতিকীকরণ হয়ে যাবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থাকার মানেই তো হলো তাদের মধ্যে ভিন্নতা আছে। সেই ভিন্নতার মধ্যে পছন্দের আদর্শ-উদ্দেশ্য যাদের রয়েছে সেই দলকে খুঁজে নেওয়ার সুযোগ থাকবে দেশের মানুষের। আবার জুলাই ঘোষণায় দেশের ১৫ বছরের ইতিহাস রয়েছে।

 

এই ১৫ বছরের বিভিন্ন ঘটনার কথা বলা আছে। এই সময়ে নানা অপরাধ হয়েছে, লুটপাট হয়েছে তা সত্য। কিন্তু এসব ইতিহাস তো কখনো আইনের অংশ হতে পারে না, সংবিধানের অংশ হতে পারে না। যেমন ধরুন, শেখ হাসিনার সময় একটা আইন পাস হলো, তাতে বলা হলো, তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধু জাতির জনক ছিলেন, তিনি একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে রয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন…এসব তো আইনের অংশ হতে পারে না। আমার বিবেচনায়, জুলাই ঘোষণা ছাড়াও এখন যা হচ্ছে তার পুরো বিষয়টিই বিরাজনৈতিকীকরণ।

 

আমরা না বুঝেই বিরাজনৈতিকীকরণের পথে হাঁটছি। রাজনৈতিক দলগুলোও প্রচুর উৎসাহে নিজেদের অস্তিত্ব বিলীন করার প্রক্রিয়ায় শামিল হয়ে গেছে। এটি রাজনৈতিক দলগুলোর দৈন্যের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। সংস্কারের জন্য, জুলাই সনদ তৈরির জন্য ঐকমত্যের যে আলোচনা চলছে, তা বাস্তায়িত হলে দলগুলো এই সনদের বাইরে নিজেদের আদর্শ-উদ্দেশ্যের কথা বলতে পারবে না। তবে ঐকমত্য কমিশন কতটা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারছে, কবে নাগাদ জুলাই সনদ তৈরি ও বাস্তবায়ন হবে সেটা জানার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। আমরা যদি মনে করি মই বেয়ে চাঁদে যাব, তাহলে কিভাবে যে মই তৈরি হবে তা নিয়ে আলোচনা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।

ড. শাহদীন মালিক : সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী  সূএ:  । বাংলাদেশ  প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» তারেক রহমানের পজিটিভ রাজনীতি সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে চাই: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

» রাজধানীতে আওয়ামী লীগের মিছিলের প্রস্তুতি, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যান কর্মীরা

» অমিতাভ বচ্চনের মেসেজের জবাব দেন না প্রীতি জিনতা

» যুদ্ধ নয়, দর-কষাকষির ময়দানে ফেরার চেষ্টায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

» বিএনপি সরকারের অধীনে স্বজনপ্রীতিভিত্তিক ব্যবসা চলবে না : অর্থমন্ত্রী

» আমরা সবাই বাংলাদেশের অধিবাসী, কেউ ‘আদিবাসী’ নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

» গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ : ইসি সচিব

» ৫০তম বিসিএসের ভাইভা প্রার্থীদের জন্য পিএসসির নতুন নির্দেশনা

» জামালপুরে নসিমনের চাপায় সাইকেল আরোহী নিহত

» প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সুবিধা দিতে পিকেএসএফ-এর সাথে ব্র্যাক ব্যাংকের চুক্তি

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

বিরাজনৈতিকীকরণের প্রক্রিয়া চলছে

ছবি সংগৃহীত

 

ড. শাহদীন মালিক : রাষ্ট্র সংস্কারের নামে জুলাই সনদ তৈরিতে যেসব প্রস্তাব নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা চলছে, তা দেশকে বিরাজনৈতিকীকরণের একটি প্রক্রিয়া বলেই মনে হয়।

 

রাজনীতি বলতে আমি যা বুঝি সেটি হচ্ছে—বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আদর্শ থাকবে, উদ্দেশ্য থাকবে এবং সেসব আদর্শ-উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের বিভিন্ন পথ-পদ্ধতি থাকবে। এখন ৩০টি রাজনৈতিক দল অনেক বিষয়ে যদি একমত হয়ে যায় তাহলে দলগুলো তো সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনে পরিণত হয়। এখন ঐকমত্যের নামে সেই বিরাজনৈতিকীকরণের প্রক্রিয়াই চলছে।

গণতান্ত্রিক দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থাকে। তাদের আদর্শ, লক্ষ্য ও বাস্তবায়নের পথ ভিন্ন থাকে। কিন্তু দলগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যদি একমত হয়ে যায়, তাহলে বিভিন্ন দল থাকার তো কোনো প্রয়োজন নেই। এ ক্ষেত্রে প্রকারান্তরে একদলীয় শাসনব্যবস্থাতেই ফিরে যাচ্ছি আমরা।

 

সব রাজনৈতিক দল যদি ৩০টি পয়েন্টে একমত হয়, তাহলে রাজনীতির পরিবর্তে বিরাজনৈতিকীকরণ হয়ে যাবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থাকার মানেই তো হলো তাদের মধ্যে ভিন্নতা আছে। সেই ভিন্নতার মধ্যে পছন্দের আদর্শ-উদ্দেশ্য যাদের রয়েছে সেই দলকে খুঁজে নেওয়ার সুযোগ থাকবে দেশের মানুষের। আবার জুলাই ঘোষণায় দেশের ১৫ বছরের ইতিহাস রয়েছে।

 

এই ১৫ বছরের বিভিন্ন ঘটনার কথা বলা আছে। এই সময়ে নানা অপরাধ হয়েছে, লুটপাট হয়েছে তা সত্য। কিন্তু এসব ইতিহাস তো কখনো আইনের অংশ হতে পারে না, সংবিধানের অংশ হতে পারে না। যেমন ধরুন, শেখ হাসিনার সময় একটা আইন পাস হলো, তাতে বলা হলো, তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধু জাতির জনক ছিলেন, তিনি একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে রয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন…এসব তো আইনের অংশ হতে পারে না। আমার বিবেচনায়, জুলাই ঘোষণা ছাড়াও এখন যা হচ্ছে তার পুরো বিষয়টিই বিরাজনৈতিকীকরণ।

 

আমরা না বুঝেই বিরাজনৈতিকীকরণের পথে হাঁটছি। রাজনৈতিক দলগুলোও প্রচুর উৎসাহে নিজেদের অস্তিত্ব বিলীন করার প্রক্রিয়ায় শামিল হয়ে গেছে। এটি রাজনৈতিক দলগুলোর দৈন্যের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। সংস্কারের জন্য, জুলাই সনদ তৈরির জন্য ঐকমত্যের যে আলোচনা চলছে, তা বাস্তায়িত হলে দলগুলো এই সনদের বাইরে নিজেদের আদর্শ-উদ্দেশ্যের কথা বলতে পারবে না। তবে ঐকমত্য কমিশন কতটা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারছে, কবে নাগাদ জুলাই সনদ তৈরি ও বাস্তবায়ন হবে সেটা জানার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। আমরা যদি মনে করি মই বেয়ে চাঁদে যাব, তাহলে কিভাবে যে মই তৈরি হবে তা নিয়ে আলোচনা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।

ড. শাহদীন মালিক : সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী  সূএ:  । বাংলাদেশ  প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com