পাকিস্তান কি শেষ পর্যন্ত চীন-আমেরিকার অস্ত্র-ফাঁদ থেকে বের হতে পারবে?

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের তৈরি দূরপাল্লার বিভিআর ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাজ’-এর সফল প্রথম পরীক্ষা চালিয়েছে পাকিস্তান। এই পদক্ষেপটি পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষায় এক বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। ভারতের সাথে সীমান্ত যুদ্ধ এবং বিদেশি প্রতিরক্ষা সহযোগীদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে পাকিস্তান নিজেদের অস্ত্র বহরকে আরো শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি পাকিস্তান তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি দেশের প্রথম দূরপাল্লার বিমান থেকে বিমান উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাআজ’-এর সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। একটি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান থেকে কমলা রঙের ‘ফাআজ-আইআইআর’ সংস্করণের ক্ষেপণাস্ত্রটি পরীক্ষা করা হয়। এই মিসাইলটি ইমেজিং ইনফ্রারেড সিকারের সাহায্যে এবং মাঝপথে ইনার্শিয়াল নেভিগেশন ও এয়ারক্রাফট ডেটালিংকের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।

পাকিস্তানের ‘এয়ার ওয়েপনস কমপ্লেক্স’ এটি তৈরি করেছে এবং গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড ডিফেন্স সলিউশনস বা জিআইডিএস এটি বাজারে আনছে। ঘণ্টায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটারের বেশি গতিবেগের এই মিসাইলটি ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম। কেবল ইনফ্রারেড নয়, পাকিস্তান এর রাডার-গাইডেড সংস্করণ ‘ফাআজ-আরএফ’, ১৮০ কিলোমিটার পাল্লার ‘ফাজ-২’ এবং একটি স্বল্পপাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা সংস্করণও তৈরি করছে।

মূলত চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো এবং যুদ্ধ চলাকালীন বিদেশি নিষেধাজ্ঞা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যই পাকিস্তান নিজেদের এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। এটি বর্তমানে ব্যবহার করা চীনা ‘পিএল-১৫ই’ এবং মার্কিন ‘এআইএম-১২০’ মিসাইলের একটি চমৎকার বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।

২০২৫ সালের মে মাসে কাশ্মীরে আকাশ যুদ্ধের পর আধুনিক বিভিআর বা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। সামরিক বিশ্লেষকরা জানান, চীনের পিএল-১৫ই মিসাইল ব্যবহার করে পাকিস্তান ১৬০ থেকে ১৯০ কিলোমিটার দূরের ভারতীয় বিমানে আঘাত হানতে পেরেছিল। এটি পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষাকে বিশাল সুবিধা দেয়। বিশেষজ্ঞরা আরও জানান যে, এই ধরণের যুদ্ধ কেবল অস্ত্রের সংখ্যা দিয়ে জেতা যায় না, বরং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, সেন্সর প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ওপর বিজয় নির্ভর করে।

তবে চীনের তৈরি অস্ত্রের ওপর পাকিস্তানের এই অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে পাকিস্তানের নিজস্ব স্বাধীনতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ২০২৬ সালের সিপ্রি (SIPRI) রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চীনের সব সামরিক রপ্তানির ৬১ শতাংশই কিনেছে পাকিস্তান।

প্রতিরক্ষা গবেষকদের মতে, চীনা অস্ত্র ব্যবহার করায় পাকিস্তানকে চীনের যুদ্ধ পদ্ধতি ও তাদের তৈরি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার ওপরই নির্ভরশীল থাকতে হচ্ছে। এর ফলে যুদ্ধ চলাকালীন নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কমে যায়। পাশাপাশি চীন তাদের স্পর্শকাতর কোড অন্য কোনো দেশকে সরবরাহ করে না, যা পাকিস্তানের জন্য একটি বড় বড় সীমাবদ্ধতা। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকিস্তান এখন চীনের অস্ত্র পরীক্ষার একটি কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের পুরোনো মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমানগুলোর কার্যকারিতাও ধীরে ধীরে কমে আসছে। প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি এফ-১৬ বিমান থাকলেও সেগুলোর বিভিআর মিসাইলের পাল্লা মাত্র ১০০ কিলোমিটারের মতো। ফলে ভারতের সুখোই-৩০এমকেআই বিমানের সামনে এগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। এ কারণেই গত বছরের কাশ্মীর সংঘর্ষের সময় পাকিস্তান তাদের এফ-১৬ বিমানগুলো সরাসরি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নামায়নি। কিন্তু, এগুলো পরিচালনা করতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র কিছু সংস্কার এবং রাডার রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা অনুমোদন করলেও ভারতের সাথে আমেরিকার কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে আমেরিকা ভবিষ্যতে পাকিস্তানকে আর কোনো নতুন সামরিক সহায়তা দেবে কি না, তা অনিশ্চিত।

এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে নিজেদের ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল গ্রহণ করেছে। প্রথমত, চীনের সাথে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন; দ্বিতীয়ত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের খাতিরে পুরোনো বিমান রক্ষা করা; এবং তৃতীয়ত, নিজেদের দেশে অস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধি করা। সূত্র: এশিয়া টাইমস 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে এশিয়া কাপে বাংলাদেশের প্রথম জয়

» সীরাতের বাস্তবায়ন ছাড়া রাষ্ট্রে শান্তি আসবে না: চরমোনাই পীর

» দায়িত্ব কোনো সামাজিক মর্যাদা নয়, গুরুত্বপূর্ণ আমানত : হামিদুর রহমান আযাদ

» এক দশকের পর সেই সিনেমার সিক্যুয়েল নিয়ে ফিরছেন প্রিয়াঙ্কা

» পাকিস্তান কি শেষ পর্যন্ত চীন-আমেরিকার অস্ত্র-ফাঁদ থেকে বের হতে পারবে?

» ‘কনসার্ট ফর সলিডারিটি’ দেখতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ভিড়

» তাহসিফ হত্যা মামলা: রিমান্ড শেষে কারাগারে দীপ

» আজানের প্রতি সম্মান জানিয়ে ছয় মিনিট নীরবে দাঁড়িয়ে থাকলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

» নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, ২১ বছর পর আবারও রাজপথে তারেক রহমান

» প্রয়োজনে টিকিট পাঠিয়ে দেব, তবু আসুন: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: dhakacrimenewsbd@gmail.com

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

পাকিস্তান কি শেষ পর্যন্ত চীন-আমেরিকার অস্ত্র-ফাঁদ থেকে বের হতে পারবে?

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের তৈরি দূরপাল্লার বিভিআর ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাজ’-এর সফল প্রথম পরীক্ষা চালিয়েছে পাকিস্তান। এই পদক্ষেপটি পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষায় এক বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। ভারতের সাথে সীমান্ত যুদ্ধ এবং বিদেশি প্রতিরক্ষা সহযোগীদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে পাকিস্তান নিজেদের অস্ত্র বহরকে আরো শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি পাকিস্তান তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি দেশের প্রথম দূরপাল্লার বিমান থেকে বিমান উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাআজ’-এর সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। একটি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান থেকে কমলা রঙের ‘ফাআজ-আইআইআর’ সংস্করণের ক্ষেপণাস্ত্রটি পরীক্ষা করা হয়। এই মিসাইলটি ইমেজিং ইনফ্রারেড সিকারের সাহায্যে এবং মাঝপথে ইনার্শিয়াল নেভিগেশন ও এয়ারক্রাফট ডেটালিংকের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।

পাকিস্তানের ‘এয়ার ওয়েপনস কমপ্লেক্স’ এটি তৈরি করেছে এবং গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড ডিফেন্স সলিউশনস বা জিআইডিএস এটি বাজারে আনছে। ঘণ্টায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটারের বেশি গতিবেগের এই মিসাইলটি ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম। কেবল ইনফ্রারেড নয়, পাকিস্তান এর রাডার-গাইডেড সংস্করণ ‘ফাআজ-আরএফ’, ১৮০ কিলোমিটার পাল্লার ‘ফাজ-২’ এবং একটি স্বল্পপাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা সংস্করণও তৈরি করছে।

মূলত চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো এবং যুদ্ধ চলাকালীন বিদেশি নিষেধাজ্ঞা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যই পাকিস্তান নিজেদের এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। এটি বর্তমানে ব্যবহার করা চীনা ‘পিএল-১৫ই’ এবং মার্কিন ‘এআইএম-১২০’ মিসাইলের একটি চমৎকার বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।

২০২৫ সালের মে মাসে কাশ্মীরে আকাশ যুদ্ধের পর আধুনিক বিভিআর বা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। সামরিক বিশ্লেষকরা জানান, চীনের পিএল-১৫ই মিসাইল ব্যবহার করে পাকিস্তান ১৬০ থেকে ১৯০ কিলোমিটার দূরের ভারতীয় বিমানে আঘাত হানতে পেরেছিল। এটি পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষাকে বিশাল সুবিধা দেয়। বিশেষজ্ঞরা আরও জানান যে, এই ধরণের যুদ্ধ কেবল অস্ত্রের সংখ্যা দিয়ে জেতা যায় না, বরং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, সেন্সর প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ওপর বিজয় নির্ভর করে।

তবে চীনের তৈরি অস্ত্রের ওপর পাকিস্তানের এই অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে পাকিস্তানের নিজস্ব স্বাধীনতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ২০২৬ সালের সিপ্রি (SIPRI) রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চীনের সব সামরিক রপ্তানির ৬১ শতাংশই কিনেছে পাকিস্তান।

প্রতিরক্ষা গবেষকদের মতে, চীনা অস্ত্র ব্যবহার করায় পাকিস্তানকে চীনের যুদ্ধ পদ্ধতি ও তাদের তৈরি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার ওপরই নির্ভরশীল থাকতে হচ্ছে। এর ফলে যুদ্ধ চলাকালীন নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কমে যায়। পাশাপাশি চীন তাদের স্পর্শকাতর কোড অন্য কোনো দেশকে সরবরাহ করে না, যা পাকিস্তানের জন্য একটি বড় বড় সীমাবদ্ধতা। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকিস্তান এখন চীনের অস্ত্র পরীক্ষার একটি কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের পুরোনো মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমানগুলোর কার্যকারিতাও ধীরে ধীরে কমে আসছে। প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি এফ-১৬ বিমান থাকলেও সেগুলোর বিভিআর মিসাইলের পাল্লা মাত্র ১০০ কিলোমিটারের মতো। ফলে ভারতের সুখোই-৩০এমকেআই বিমানের সামনে এগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। এ কারণেই গত বছরের কাশ্মীর সংঘর্ষের সময় পাকিস্তান তাদের এফ-১৬ বিমানগুলো সরাসরি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নামায়নি। কিন্তু, এগুলো পরিচালনা করতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র কিছু সংস্কার এবং রাডার রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা অনুমোদন করলেও ভারতের সাথে আমেরিকার কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে আমেরিকা ভবিষ্যতে পাকিস্তানকে আর কোনো নতুন সামরিক সহায়তা দেবে কি না, তা অনিশ্চিত।

এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে নিজেদের ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল গ্রহণ করেছে। প্রথমত, চীনের সাথে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন; দ্বিতীয়ত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের খাতিরে পুরোনো বিমান রক্ষা করা; এবং তৃতীয়ত, নিজেদের দেশে অস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধি করা। সূত্র: এশিয়া টাইমস 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: dhakacrimenewsbd@gmail.com

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com