ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : গণহত্যা ও আলেম-ওলামার রক্তের দাগ যে আওয়ামী লীগের গায়ে লেগে আছে, সেই ফ্যাসিস্ট দলের আর এদেশের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, যারা গণহত্যা চালিয়েছে, আলেম-ওলামার রক্ত ঝরিয়েছে এবং মানুষকে মসজিদে ইবাদত পর্যন্ত করতে বাধা দিয়েছে, এ দেশে তাদের রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসার বার্ষিক মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মাদরাসাটির পরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমান বাংলাদেশে সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিভাজন থাকতে পারে, রাজনৈতিক বিরোধ থাকতে পারে, তবে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ প্রশ্নে সবাই এক।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদীদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে ১৭ বছর লেগেছে। এ আন্দোলনে আলেম-ওলামারা রক্ত দিয়েছেন। শাপলা চত্বরেও আলেমরা রক্ত দিয়েছেন। ইসলামবিদ্বেষী সরকারকে বিদায় করতে তারা ভূমিকা রেখেছেন।
মন্ত্রী বলেন, শুধু জুলাই-আগস্টেই জাতিসংঘের হিসাবে ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে হাজার হাজার মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন, লাখ লাখ মানুষ নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। যারা এসব ঘটনার জন্য অনুতপ্ত নয় এবং দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, তাদের প্রত্যাবর্তন বা রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
রাজনৈতিক বিভেদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে। তবে গণহত্যা, আলেম-ওলামার রক্তপাত এবং ধর্মীয় স্বাধীনতায় বাধা দেওয়ার প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জাতির মধ্যে কোনো বিভেদ দেখতে চান না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর দিকে ইঙ্গিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মুখে ইসলামের কথা বললেও তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইসলামের প্রতিফলন নেই। নির্বাচনি ইশতেহারে তারা ইসলাম বা শরিয়াভিত্তিক আইন প্রতিষ্ঠার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেনি। বরং ধর্মের নাম ব্যবহার করে বিভক্তি তৈরি করছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তারা ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাস করেন। দেশের সব জনগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চান। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পাশাপাশি সংবিধানে ইসলামি মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটাবেন বলেও জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সংবিধান থেকে যেসব বিষয় বাদ দিয়েছিলেন, সেগুলো পুনঃস্থাপন করা হবে। মহান আল্লাহর ওপর দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস সংবিধানে যুক্ত করা হবে। সংবিধানের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন।








