ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : দুবাই থেকে তেল আবিবগামী একটি উড়োজাহাজে হামলার ঘটনায় মুহূর্তের জন্য তৈরি হয়েছিল ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা। গুরুতর আহত অবস্থাতেও হামলাকারীকে প্রতিহত করে ককপিটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সুযোগ করে দেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। তার সেই সাহসিকতার স্বীকৃতি দিতে এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে সম্মান জানানোর প্রস্তাব উঠেছে।
গত ৫ অক্টোবর মার্কিন কংগ্রেস সদস্য জশ গটহাইমার, ডন বেকন ও মাইকেল ম্যাককল যৌথভাবে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। পরে তা প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়। এতে ক্যাপ্টেন স্মিতের পাশাপাশি উড়োজাহাজের ক্রু, দায়িত্বে না থাকা অন্য পাইলট ও যাত্রীদের সাহসিকতারও প্রশংসা করা হয়েছে।
প্রস্তাবে বলা হয়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড়াল দেয় ফ্লাইদুবাইয়ের ১০৭৩ নম্বর ফ্লাইট। উড়োজাহাজটিতে ছিলেন প্রায় ১৭৪ জন যাত্রী। তাদের মধ্যে চারজন মার্কিন নাগরিক ও ২৭ জন শিশু ছিলেন।
উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, সহকারী পাইলট হামাম আল-হামামি জরুরি ব্যবহারের কুঠার দিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর হামলা করেন এবং উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। হামলার পর মাত্র ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে উড়োজাহাজটি ১৬ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমে যায়।
গুরুতর আহত হয়েও হাল ছাড়েননি স্মিত। তিনি হামলাকারীকে প্রতিহত করার পাশাপাশি নিজের অবশিষ্ট শক্তি দিয়ে ককপিটের দরজা খুলে দেন। এতে দায়িত্বে না থাকা অন্য পাইলটরা দ্রুত ককপিটে ঢুকে উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হন।
এরপর কেবিন ক্রু ও যাত্রীরা মিলে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে নেন। উড়োজাহাজটির গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। শেষ পর্যন্ত উড়োজাহাজে থাকা সব যাত্রী ও ক্রুকে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের প্রস্তাবে ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তার ওপর গুরুতর হামলা হিসেবে নিন্দা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে জানাতেও বলা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল গত ৩ অক্টোবর জানান, তদন্তে সহকারী পাইলটের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ঘটনার সময় পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছিল যে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রাখে। উড়োজাহাজটি তেল আবিবের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় ককপিটের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া না পাওয়ায় সেটিকে সম্ভাব্য ছিনতাই বা হামলার উড়োজাহাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ইসরায়েলের আকাশসীমাও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে যখন নিশ্চিত হওয়া যায়, উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের দিকে ঘুরে গেছে এবং জরুরি অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো ফিরিয়ে নেওয়া হয়। সৌদি আরবও পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুদ্ধবিমান প্রস্তুত করেছিল বলে জানা গেছে।
হামলায় গুরুতর আহত ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের শারীরিক অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভারতীয় দূতাবাস। দূতাবাসটি তার পরিবার, চিকিৎসক ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় দূতাবাস জানায়, স্মিত ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তার পরিবারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তার দ্রুত আরোগ্যের জন্য সবার কাছে প্রার্থনার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
এর আগে, আবুধাবির বিএপিএস হিন্দু মন্দিরে স্মিতের দ্রুত সুস্থতা কামনায় বিশেষ প্রার্থনা ও ঐতিহ্যবাহী অভিষেক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সাধু, সম্প্রদায়ের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা অংশ নেন।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ফ্লাইদুবাইয়ের ওই উড়োজাহাজে হামলার ঘটনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইরানকে দায়ী মনে করেন।
এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে ককপিটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার সুযোগ তৈরি করে শতাধিক মানুষের জীবন বাঁচানোর ঘটনায় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের সাহসিকতা এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের প্রস্তাব সেই স্বীকৃতিকে আরও আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পথে এগোচ্ছে। সূত্র: এএনআই নিউজ








