ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : পেরুর দক্ষিণাঞ্চলে ৬ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুভূত শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে কমপক্ষে তিনজন আহত হয়েছেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়, দেশটির কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল আপাহুয়াচো শহরের প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং রাজধানী লিমা থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ৯৯ কিলোমিটার।
তবে পেরুর জিওফিজিক্যাল ইনস্টিটিউট (আইজিপি) ভূমিকম্পটির মাত্রা ৭.২ বলে জানিয়েছে। তাদের হিসাবে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০৮ কিলোমিটার গভীরে।
প্রাথমিক হিসাবে ভূমিকম্পে অন্তত ২২টি বাড়ি, ছয়টি স্কুল এবং ১২টি চিকিৎসাকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব করতে কর্তৃপক্ষ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
জরুরি উদ্ধার ও সহায়তা দলকে আন্দিজ পর্বতমালার পুকিও ও কোরাকোরা শহরে পাঠানো হয়েছে।
পেরুর সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও ও ছবিতে কোরাকোরার আশপাশের পাহাড় থেকে পাথর ও মাটি ধসে পড়তে দেখা গেছে। আয়াকুচো অঞ্চলের কোরাকোরা ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের সবচেয়ে কাছের শহর। শহরটির জনসংখ্যা প্রায় ১০ হাজার।
কোরাকোরার মেয়র ইয়োনি ওদোন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে ফোনে বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
পেরুর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সিভিল ডিফেন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে ভূমিকম্পটি মাঝারি থেকে শক্তিশালী মাত্রায় অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ৪.২ মাত্রার একটি আফটারশক অনুভূত হয় বলে জানিয়েছে আইজিপি।
ভূমিকম্পের কম্পন কুসকো, আরেকুইপা এবং রাজধানী লিমাতেও অনুভূত হয়েছে। তবে এসব এলাকায় কম্পনের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে কম ছিল বলে এএফপির সাংবাদিকরা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত জুন থেকে দক্ষিণ আমেরিকার এ অঞ্চলে এটি তৃতীয় বড় ধরনের ভূমিকম্প। গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি বড় ভূমিকম্পে ৬ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া গত সপ্তাহে কলম্বিয়ায় একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রায় ৩০০ মানুষ নিহত হয়।








