ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক : রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেলের নিচে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার, মিরপুর ও তেজগাঁওয়ে বোমা আতঙ্ক এবং সাভারে শক্তিশালী বোমা নিষ্ক্রিয় করার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর রাজধানীসহ সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, এ ধরনের নির্দেশনা তাদের নিয়মিত নিরাপত্তা কার্যক্রমেরই অংশ।
পুলিশ সূত্র জানায়, বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ও সম্ভাব্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা নিয়মিতই দেওয়া হয়।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দিবাগত রাতে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, রাজধানীতে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের মতো ঘটনার পর সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু নজরে এলে প্রয়োজনীয় তল্লাশি ও যাচাই করা স্বাভাবিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ। ছিনতাই, ডাকাতি, রাহাজানি ও অন্যান্য অপরাধ দমনের পাশাপাশি নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্যরা যাতে অপরাধ বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে বিষয়েও পুলিশকে সতর্ক থাকতে বলা হয়।
তিনি আরও বলেন, শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সজাগ থাকার জন্য একটি বার্তা পাঠানো হয়।
এটি পুলিশের নিয়মিত নির্দেশনারই অংশ, বিশেষ কোনো পরিস্থিতির কারণে জারি করা হয়নি। ওই কর্মকর্তা জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন বলেন, পুলিশের সতর্কতামূলক তৎপরতা সবসময়ই চলমান থাকে। পুলিশ সদর দপ্তর এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তর থেকে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের প্রায় প্রতিদিনই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। এটি পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। এতে জনসাধারণের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বরং মাঠপর্যায়ে পুলিশের দায়িত্ব পালন আরও কার্যকর করতেই এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, পুলিশের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে গুলশান এলাকার একটি রেস্তোরাঁ থেকে আওয়ামী লীগের ছয়জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গুলশানের পুলিশ প্লাজার পঞ্চম তলার একটি রেস্তোরাঁয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী বৈঠক করছেন-এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-যশোরের চৌগাছা উপজেলার দুর্গাবরকাটি এলাকার মো. মেহেদী মাসুদ চৌধুরী (৫৫), চাঁদপুরের এস. এম. রেজওয়ান হাবিব আলিফ (৩৩), যশোরের লস্করপুর এলাকার মো. নান্নু মিয়া (৩৮), বাঘারপাড়া উপজেলার মো. আমিনুর রহমান (৪২), মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার তেলিকান্দী এলাকার সজল আহমেদ (২৯) এবং যশোরের চৌগাছা উপজেলার বেড় গোবিন্দপুর এলাকার মো. ইব্রাহিম হোসেন (৩৩)।
ওসি দাউদ হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের বৈঠকের উদ্দেশ্য এবং এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো অপরাধের অভিযোগ বা মামলা রয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র : বাংলানিউজ








