জেন জি’রা আসছে, সাবধান ভারত

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : আপাতত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দিয়ে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন সামলাতে পেরেছে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। তবে এই আন্দোলন সরকারি দল নয় শুধু, প্রচলিত ধারার সব রাজনৈতিক দলের সামনেই পালাবদলের বড় ঈঙ্গিত এনে দিয়েছে। দুর্নীতি করে, অনিয়ম করে, মানুষের সামনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করে কিছু করার দিন শেষ। ২০২৯ সালের নির্বাচনের সময় জেন জি প্রজন্মই হবে ভারতের সবচেয়ে বড় ভোটার গোষ্ঠি। শুধু সংখ্যায় নয়, প্রভাবের বিচারেও তারাই হবে নির্ধারক। মাত্র ৩৭ দিনের আন্দোলনে তারা গোটা জাতিকে দেখিয়ে দিয়েছে, তাদের সক্ষমতা।

২০২৯ সালের মধ্যে ভারতে ১৮ থেকে ৩২ বছর বয়সী জেনারেশন জেড-এর সংখ্যা প্রায় ৩৮ কোটিতে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার মধ্যে থাকবে প্রায় ১৯ কোটি ৯০ লাখ পুরুষ এবং ১৮ কোটি ১০ লাখ নারী। এটি তাদের ভারতের বৃহত্তম প্রাপ্তবয়স্ক প্রজন্মে পরিণত করবে। এমনকি ২০২৯ সালের মধ্যে জেন জি’রা তাদের আগের প্রজন্ম মিলেনিয়ালদেরও ছাড়িয়ে যাবে। ২০২৯ সালে মিলেনিয়াল প্রজন্মের সংখ্যা দাড়াতে পারে ৩৫ কোটি ৭০ লাখে।

এই পরিবর্তনের তাৎপর্য কেবল জনসংখ্যার হিসাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দেশের শিক্ষার্থী, প্রথমবার ভোট দেওয়া ভোটার, কর্মজীবনের শুরুতে থাকা পেশাজীবী এবং তরুণ পরিবারের সবচেয়ে বড় অংশটি আসবে এই জেন জি থেকে। তাই কর্মসংস্থান, শিক্ষা, জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সুশাসনের মতো বিষয়গুলো রাজনৈতিকভাবে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। আর জেন জি’র পেছনে অপেক্ষা করছে আরও বিশাল আকারের জেন আলফা। যদিও ২০২৯ সালে আলফা প্রজন্মের সদস্যরা ভোটাধিকারের বয়সের নিচে থাকবে, তবুও তাদের সংখ্যা ৪১ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা তাদের সামগ্রিকভাবে ভারতের বৃহত্তম প্রজন্মে পরিণত করবে।

জেন জি’রা ভারতের বৃহত্তম ভোটার গোষ্ঠিতে পরিণত হলেও সামগ্রিক ভোটার তালিকায় তরুণ ভোটারদের অনুপাত ক্রমাগত কমছে। কারণ চিকিতসা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ফলে ভারতে প্রবীণ জনগোষ্ঠির সংখ্যা বাড়ছে। ১৯৮৮ সালে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীরা ভারতের মোট ভোটারের ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল। ২০২৪ সালের মধ্যে সেই অনুপাত ৩০ দশমিক ১ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০২৯ সালের মধ্যে তা ২৭ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

তবে শুধু সংখ্যা দিয়ে জেন জি’দের বিচার করলে রাজনীতিবিদরা ভুল করবে। জেন জি’রা অন্যরকম। ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে জন্ম নেয়া মিলেনিয়ালরা অ্যানালগ থেকে বিশ্বের ডিজিটালে রূপান্তর দেখেছে। কিন্তু ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেয়া জেন জি’দের জন্মই হয়েছে ডিজিটাল দুনিয়ায়। আধুনিক প্রযুক্তি শুধু ভারত নয়, সারাবিশ্বকে জেন জি‘দের হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে। তারা প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ। মুহূর্তেই নিজেদের আপডেট করে নিতে পারে। তাই আগের মত জেন জি’দের ভুলভাল বুঝিয়ে পার পাওয়া সম্ভব নয়। এরা প্রচলিত রাজনীতিতে আগ্রহী না হলেও রাজনীতি সচেতন। শুধু রাজনীতি নয়; জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার, লিঙ্গ সমতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে জেন জি’রা অত্যন্ত সোচ্চার ও সচেতন। যেকোনো প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাব্যবস্থা বা সরকারের কাছ থেকে তারা স্পষ্টতা, সততা এবং জাবাবদিহিতা আশা করে। নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য এরা খুব দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনমত গড়ে তুলতে এবং একত্রিত হতে পারে। কতটা পারে সেটা কিন্তু শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেপালের পর ভারতও দেখেছে।

তাই কেবল সংখ্যার অনুপাতই রাজনৈতিক প্রভাব নির্ধারণ করে না। জেন জি তাদের বিপুল সংখ্যার সাথে নজিরবিহীন ডিজিটাল যোগাযোগ, উচ্চতর শিক্ষাগত আকাঙ্ক্ষা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে দ্রুত সংগঠিত হওয়ার ক্ষমতাকে যুক্ত করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য তাই প্রবীণ ভোটারদের মন জয় করা যত সহজ, জেন জি’দের মন বোঝা ততটাই কঠিন। যন্তর-মন্তরে টানা ৩৭ দিনের সফল আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে গোট ভারতে। এই সাফল্য জেন জি’দের আরো আত্মবিশ্বাসী, আরো সোচ্চার ও সচেতন করেছে। ২০২৯ সালের নির্বাচন তাই প্রচলিত ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা। যারা যত তাড়াতাড়ি জেন জি’দের সাথে নিজেদের কানেক্ট করতে পারবে, রাজনীতিবিদরা যত দ্রুত তাদের ভাষা বুঝতে পারবে; ততই মঙ্গল। জেন জি’দের উপেক্ষা করা বা অবহেলা করার ভুল যেন ‍ভুলেও কেউ না করে। তাহলে তাদের নিশ্চিত পস্তাতে হবে

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় নতুন দাবানল নিয়ে শঙ্কায় ফ্রান্স

» নোয়াখালীতে নতুন গ্যাস কূপ খনন শুরু, দৈনিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সম্ভাবনা

» রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ২৪৬৫ মামলা

» বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৭ জন গ্রেপ্তার

» পেলে-মেসিকে ছাড়িয়ে ইয়ামালের নতুন ইতিহাস

» জুলাই ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নয়, জাতির অর্জন: শেখ রবিউল

» ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিতে তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষা ১ আগস্ট

» স্থানীয় নির্বাচনে এমপিও শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ চায় জামায়াত

» সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনে বাধা নেই বিএনপির সরোয়ারের: আইনজীবী

» ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতিতে চলছে সবকিছু: সেলিম উদ্দিন

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

জেন জি’রা আসছে, সাবধান ভারত

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : আপাতত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দিয়ে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন সামলাতে পেরেছে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। তবে এই আন্দোলন সরকারি দল নয় শুধু, প্রচলিত ধারার সব রাজনৈতিক দলের সামনেই পালাবদলের বড় ঈঙ্গিত এনে দিয়েছে। দুর্নীতি করে, অনিয়ম করে, মানুষের সামনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করে কিছু করার দিন শেষ। ২০২৯ সালের নির্বাচনের সময় জেন জি প্রজন্মই হবে ভারতের সবচেয়ে বড় ভোটার গোষ্ঠি। শুধু সংখ্যায় নয়, প্রভাবের বিচারেও তারাই হবে নির্ধারক। মাত্র ৩৭ দিনের আন্দোলনে তারা গোটা জাতিকে দেখিয়ে দিয়েছে, তাদের সক্ষমতা।

২০২৯ সালের মধ্যে ভারতে ১৮ থেকে ৩২ বছর বয়সী জেনারেশন জেড-এর সংখ্যা প্রায় ৩৮ কোটিতে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার মধ্যে থাকবে প্রায় ১৯ কোটি ৯০ লাখ পুরুষ এবং ১৮ কোটি ১০ লাখ নারী। এটি তাদের ভারতের বৃহত্তম প্রাপ্তবয়স্ক প্রজন্মে পরিণত করবে। এমনকি ২০২৯ সালের মধ্যে জেন জি’রা তাদের আগের প্রজন্ম মিলেনিয়ালদেরও ছাড়িয়ে যাবে। ২০২৯ সালে মিলেনিয়াল প্রজন্মের সংখ্যা দাড়াতে পারে ৩৫ কোটি ৭০ লাখে।

এই পরিবর্তনের তাৎপর্য কেবল জনসংখ্যার হিসাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দেশের শিক্ষার্থী, প্রথমবার ভোট দেওয়া ভোটার, কর্মজীবনের শুরুতে থাকা পেশাজীবী এবং তরুণ পরিবারের সবচেয়ে বড় অংশটি আসবে এই জেন জি থেকে। তাই কর্মসংস্থান, শিক্ষা, জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সুশাসনের মতো বিষয়গুলো রাজনৈতিকভাবে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। আর জেন জি’র পেছনে অপেক্ষা করছে আরও বিশাল আকারের জেন আলফা। যদিও ২০২৯ সালে আলফা প্রজন্মের সদস্যরা ভোটাধিকারের বয়সের নিচে থাকবে, তবুও তাদের সংখ্যা ৪১ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা তাদের সামগ্রিকভাবে ভারতের বৃহত্তম প্রজন্মে পরিণত করবে।

জেন জি’রা ভারতের বৃহত্তম ভোটার গোষ্ঠিতে পরিণত হলেও সামগ্রিক ভোটার তালিকায় তরুণ ভোটারদের অনুপাত ক্রমাগত কমছে। কারণ চিকিতসা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ফলে ভারতে প্রবীণ জনগোষ্ঠির সংখ্যা বাড়ছে। ১৯৮৮ সালে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীরা ভারতের মোট ভোটারের ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল। ২০২৪ সালের মধ্যে সেই অনুপাত ৩০ দশমিক ১ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০২৯ সালের মধ্যে তা ২৭ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

তবে শুধু সংখ্যা দিয়ে জেন জি’দের বিচার করলে রাজনীতিবিদরা ভুল করবে। জেন জি’রা অন্যরকম। ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে জন্ম নেয়া মিলেনিয়ালরা অ্যানালগ থেকে বিশ্বের ডিজিটালে রূপান্তর দেখেছে। কিন্তু ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেয়া জেন জি’দের জন্মই হয়েছে ডিজিটাল দুনিয়ায়। আধুনিক প্রযুক্তি শুধু ভারত নয়, সারাবিশ্বকে জেন জি‘দের হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে। তারা প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ। মুহূর্তেই নিজেদের আপডেট করে নিতে পারে। তাই আগের মত জেন জি’দের ভুলভাল বুঝিয়ে পার পাওয়া সম্ভব নয়। এরা প্রচলিত রাজনীতিতে আগ্রহী না হলেও রাজনীতি সচেতন। শুধু রাজনীতি নয়; জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার, লিঙ্গ সমতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে জেন জি’রা অত্যন্ত সোচ্চার ও সচেতন। যেকোনো প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাব্যবস্থা বা সরকারের কাছ থেকে তারা স্পষ্টতা, সততা এবং জাবাবদিহিতা আশা করে। নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য এরা খুব দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনমত গড়ে তুলতে এবং একত্রিত হতে পারে। কতটা পারে সেটা কিন্তু শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেপালের পর ভারতও দেখেছে।

তাই কেবল সংখ্যার অনুপাতই রাজনৈতিক প্রভাব নির্ধারণ করে না। জেন জি তাদের বিপুল সংখ্যার সাথে নজিরবিহীন ডিজিটাল যোগাযোগ, উচ্চতর শিক্ষাগত আকাঙ্ক্ষা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে দ্রুত সংগঠিত হওয়ার ক্ষমতাকে যুক্ত করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য তাই প্রবীণ ভোটারদের মন জয় করা যত সহজ, জেন জি’দের মন বোঝা ততটাই কঠিন। যন্তর-মন্তরে টানা ৩৭ দিনের সফল আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে গোট ভারতে। এই সাফল্য জেন জি’দের আরো আত্মবিশ্বাসী, আরো সোচ্চার ও সচেতন করেছে। ২০২৯ সালের নির্বাচন তাই প্রচলিত ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা। যারা যত তাড়াতাড়ি জেন জি’দের সাথে নিজেদের কানেক্ট করতে পারবে, রাজনীতিবিদরা যত দ্রুত তাদের ভাষা বুঝতে পারবে; ততই মঙ্গল। জেন জি’দের উপেক্ষা করা বা অবহেলা করার ভুল যেন ‍ভুলেও কেউ না করে। তাহলে তাদের নিশ্চিত পস্তাতে হবে

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com