পরিবহন খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি: হাবিবুর রশিদ

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : পরিবহন খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি বর্তমান সময়ের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। তিনি বলেছেন, সামাজিক বাধা ও প্রচলিত ধারণার কারণে পরিবহন খাতে নারীদের উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত। তবে যথাযথ সুযোগ ও সহায়তা পেলে নারীরা এসব বাধা অতিক্রম করে সফলভাবে এগিয়ে যেতে পারেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর ব্র্যাক মিলনায়তনে নারী গাড়িচালকদের সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষিত নারী চালকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে ব্র্যাক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নারী চালকদের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করার পাশাপাশি নিজেদের প্রতিষ্ঠানেও ২৪ জন পেশাদার নারী চালক নিয়োগ দিয়েছে। আজকের আয়োজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী চালকদের সম্ভাব্য নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

তিনি জানান, সরকারের বিশেষ অনুরোধে ব্র্যাক ২০০১ সাল থেকে সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। ২০১২ সাল থেকে পরিচালিত ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুলের ১৩টি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার ৫০০ জনকে প্রাথমিক গাড়িচালনা, ১৩ হাজার ৫০০ জনকে নিরাপদ চালনা এবং ৪০৯ জনকে গাড়িচালনা প্রশিক্ষক হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।

হাবিবুর রশিদ বলেন, নারী চালক প্রশিক্ষণ, মোটরসাইকেল চালনা প্রশিক্ষণ, গবেষণা, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারে সচেতনতা, দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং গণপরিবহন ও জনপরিসরে নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও ব্র্যাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়ন ও নারী ক্ষমতায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন, গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নারীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা নারী গ্র্যাজুয়েটদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, তারা শুধু একটি পেশা বেছে নেননি, বরং সমাজে নারী সক্ষমতার শক্তিশালী উদাহরণ স্থাপন করেছেন। সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ব্র্যাকের মতো সংগঠনগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে একটি নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান, ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ, ব্র্যাকের সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিচালক আহমেদ নাজমুল হুসেইন এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপক এম খালিদ মাহমুদ।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুলে সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা ১০ জন নারীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ তুলে দেওয়া হয়। তারা তিন মাসের নিবিড় আবাসিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গাড়িচালনার তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায় যোগাযোগ দক্ষতা এবং জেন্ডার ও সুরক্ষা বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণও পেয়েছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» দূর থেকে দেখে লাভ হবে না আর: নুসরাত ফারিয়া

» গণমাধ্যমকর্মীর ওপর জামায়াত নেতাকর্মীদের হামলা, ছাত্রদলের নিন্দা-প্রতিবাদ

» মালয়েশিয়ার উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তার জন্য তারেক রহমানের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

» আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচের ভেন্যু ও সময়সূচি চূড়ান্ত

» বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

» অবশেষে ঢাকার রাস্তায় নিষিদ্ধ হচ্ছে অটোরিকশা

» ট্রাক্টরের ধাক্কায় ইজিবাইকের যাত্রী নিহত

» রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিজিবি মোতায়ন

» টোল আদায়ে অনিয়ম শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ২০ সেপ্টেম্বর

» পরিবহন খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি: হাবিবুর রশিদ

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

পরিবহন খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি: হাবিবুর রশিদ

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : পরিবহন খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি বর্তমান সময়ের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। তিনি বলেছেন, সামাজিক বাধা ও প্রচলিত ধারণার কারণে পরিবহন খাতে নারীদের উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত। তবে যথাযথ সুযোগ ও সহায়তা পেলে নারীরা এসব বাধা অতিক্রম করে সফলভাবে এগিয়ে যেতে পারেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর ব্র্যাক মিলনায়তনে নারী গাড়িচালকদের সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষিত নারী চালকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে ব্র্যাক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নারী চালকদের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করার পাশাপাশি নিজেদের প্রতিষ্ঠানেও ২৪ জন পেশাদার নারী চালক নিয়োগ দিয়েছে। আজকের আয়োজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী চালকদের সম্ভাব্য নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

তিনি জানান, সরকারের বিশেষ অনুরোধে ব্র্যাক ২০০১ সাল থেকে সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। ২০১২ সাল থেকে পরিচালিত ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুলের ১৩টি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার ৫০০ জনকে প্রাথমিক গাড়িচালনা, ১৩ হাজার ৫০০ জনকে নিরাপদ চালনা এবং ৪০৯ জনকে গাড়িচালনা প্রশিক্ষক হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।

হাবিবুর রশিদ বলেন, নারী চালক প্রশিক্ষণ, মোটরসাইকেল চালনা প্রশিক্ষণ, গবেষণা, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারে সচেতনতা, দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং গণপরিবহন ও জনপরিসরে নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও ব্র্যাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়ন ও নারী ক্ষমতায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন, গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নারীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা নারী গ্র্যাজুয়েটদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, তারা শুধু একটি পেশা বেছে নেননি, বরং সমাজে নারী সক্ষমতার শক্তিশালী উদাহরণ স্থাপন করেছেন। সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ব্র্যাকের মতো সংগঠনগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে একটি নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান, ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ, ব্র্যাকের সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিচালক আহমেদ নাজমুল হুসেইন এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপক এম খালিদ মাহমুদ।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুলে সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা ১০ জন নারীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ তুলে দেওয়া হয়। তারা তিন মাসের নিবিড় আবাসিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গাড়িচালনার তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায় যোগাযোগ দক্ষতা এবং জেন্ডার ও সুরক্ষা বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণও পেয়েছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com