ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সংসদে সমাধান না হলে জনগণই রাজপথে এর সিদ্ধান্ত নেবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ (বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম।
তিনি বলেন, জনগণের দীর্ঘ আন্দোলন, ত্যাগ ও আত্মদানের মধ্য দিয়ে যে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, সেটিকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। এ জন্য সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারকে চাপ দিয়ে যাচ্ছে জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্য।
শুক্রবার (১ মে) দুপুরে রংপুর মডেল কলেজের হল রুমে জামায়াতে ইসলামী রংপুর মহানগর ও জেলা শাখার বাছাইকৃত রুকন সদস্যদের তিন দিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরের দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও বহু ত্যাগের বিনিময়ে আমরা নতুন একটি বাংলাদেশ পেয়েছি। প্রায় দেড় হাজারের বেশি ছাত্র-যুবকের আত্মদানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনার সরকারের পতন ঘটেছে। আমি এটিকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা মনে করি। এই পরিবর্তনের মাধ্যমেই আমি মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে এসেছি। জেল থেকে মুক্ত হয়েছি এবং জনগণের ভোটে সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, সংসদে গিয়ে তারা (জামায়াত) গণভোট বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ এর শপথ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু বিএনপি সেই শপথ নেয়নি এবং সংসদে গিয়ে বেশ কয়েকটি মৌলিক অধ্যাদেশ বাতিল করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করেছি, সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেছি এবং সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছি। এখন সংসদের ভেতরে ও বাইরে আন্দোলন করছি, যাতে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হয়।
সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের কথা বলেছেন। সেখানে সরকার ১২ জন সদস্য দিয়েছে এবং বাকি পাঁচজনের নাম জামায়াতের কাছে চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দলীয় ও সংসদীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
মুক্তিযুদ্ধ ও ঐক্যের রাজনীতি নিয়ে বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ সালে হয়েছে, আর বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৭৮ সালে। আপনাদের দলে মুক্তিযোদ্ধা থাকতে পারে, জামায়াতেও মুক্তিযোদ্ধা আছেন। অথচ আপনারাই আবার ঐক্যের কথা বলে বিভেদের রাজনীতি করছেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় ঐক্যের রাজনীতি ছিল প্রশংসনীয়। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ভূমিকাও ছিল উল্লেখযোগ্য।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ৭০ শতাংশ জনগণ গণভোটে যে রায় দিয়েছেন, সেটি বাস্তবায়ন করা হলে তা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আর বাস্তবায়ন না হলে জনগণ রাজপথেই এর ফয়সালা করবে। বিএনপিকে ভুলের রাজনীতি থেকে বের হতে হবে। জনগণের গণরায় উপেক্ষা করে ক্ষমতা আর গায়ের জোরে সবকিছু করতে চাইলে হবে না।
এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর সহকারী অঞ্চল পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর মহানগর আমির এটিএম আযম খান, মহানগর সেক্রেটারি কেএম আনোয়ারুল হক কাজল, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক, মহানগর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আলাষ আমিন হাসান, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাউসার আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।








