লুটেরাদের হাতে ব্যাংক দিলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শ্রমিকরা: আখতার

ফাইল ছবি

 

অনলাইন ডেস্ক : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের এমপি আখতার হোসেন বলেছেন, ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করা ব্যক্তিদের পুনরায় ব্যাংকের মালিকানা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। দেশের অর্থনীতি বর্তমানে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে। ব্যাংক খাতে লুটপাটের সুবিধাভোগীদের আবার মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ শ্রমিকসহ সাধারণ জনগণের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।

শুক্রবার রাজধানীর শাহাবাগে আন্তর্জাতিক মে দিবস উপলক্ষে জাতীয় শ্রমিক শক্তি আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

আখতার হোসেন বলেন, মাত্র সাড়ে ৫ শতাংশ টাকা দিয়ে যদি তারা আবার ব্যাংকের মালিক হয়ে যায়, তাহলে যারা একসময় লুট করেছে, তারা আবারও একই কাজ করবে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শ্রমিকরা। এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবাহ ভেঙে পড়বে এবং কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়ে শ্রমিকদের মজুরি আরও কমে যাবে।

তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ শ্রমিক এখনো ন্যূনতম মজুরির নিচে জীবনযাপন করছেন। শ্রমিক পরিবারের সন্তানরা শিক্ষা ও উন্নতির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা বংশানুক্রমিকভাবে শ্রমজীবী জীবনেই আটকে যাচ্ছে।

আখতার হোসেন বলেন, যারা একসময় ব্যাংক থেকে টাকা লুট করেছে, তাদের হাতে আবার মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া মানে রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিকে আরো দুর্বল করে দেওয়া।

একইদিন নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ ও এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসুদ বলেছেন, দেশের অর্থনীতি টিকে আছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর। এক কোটি মানুষ বাবা-মা, পরিবার-পরিজন ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা দেশে গিয়ে শ্রম দিচ্ছে। তারা টাকা পাঠায়, আর এই দেশের দুর্নীতিবাজরা তা লুটপাট করে খায়। সেই দুর্নীতিবাজরাই আবার সংসদে গিয়ে বড় বড় কথা বলে।

তিনি আরো বলেন, ১১ হাজার কোটি টাকা জনগণের অর্থ মেরে দিয়েছে—তারাই যখন সংসদে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেয়, তখন লজ্জা লাগে। আমরা একজন অর্থনীতিবিদকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে চেয়েছিলাম। কিন্তু দেখা গেল, একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ীকে সেখানে বসানো হয়েছে। গার্মেন্টস পণ্য আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি অর্থপাচার হয়। আর সেই খাতের একজন প্রতিনিধিকেই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ বলেন, গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে তা স্বীকৃতি পায়নি এবং পরবর্তী সময়ে তাদের সঙ্গে কার্যকর কোনো সংলাপ হয়নি, ফলে কলকারখানা বন্ধ, কর্মসংস্থান সংকট ও জীবনমানের অবনতি ঘটেছে; এ অবস্থায় শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপত্তা ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» আ.লীগের ১৫ বছরে অফিসিয়াল-আন অফিসিয়াল ৫৬ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

» হজযাত্রী সেজে হাজি ক্যাম্প থেকে সৌদি রিয়াল চুরি, গ্রেপ্তার ১

» আহারে ব্রো লাইফটাই স্পয়েল হয়ে গেল তোমার: আসিফ মাহমুদকে কটাক্ষ করে পোস্ট নীলার

» লুটেরাদের হাতে ব্যাংক দিলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শ্রমিকরা: আখতার

» দেশে এখনো ন্যূনতম মজুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি: রিজভী

» গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে জনগণ রাজপথেই সিদ্ধান্ত নেবে: এটিএম আজহারুল ইসলাম

» অসুস্থ সারজিস আলমকে দেখতে গেলেন বিরোধীদলীয় নেতা

» মালিক-শ্রমিকের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্কে বিশ্বাসী জামায়াত: শফিকুর রহমান

» সুপার লিগ বাতিল করে ডিপিএলে নতুন নিয়ম

» সেন্সর বোর্ডে আটকে গেল সঞ্জয়ের ‘আখরি সওয়াল’

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

লুটেরাদের হাতে ব্যাংক দিলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শ্রমিকরা: আখতার

ফাইল ছবি

 

অনলাইন ডেস্ক : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের এমপি আখতার হোসেন বলেছেন, ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করা ব্যক্তিদের পুনরায় ব্যাংকের মালিকানা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। দেশের অর্থনীতি বর্তমানে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে। ব্যাংক খাতে লুটপাটের সুবিধাভোগীদের আবার মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ শ্রমিকসহ সাধারণ জনগণের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।

শুক্রবার রাজধানীর শাহাবাগে আন্তর্জাতিক মে দিবস উপলক্ষে জাতীয় শ্রমিক শক্তি আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

আখতার হোসেন বলেন, মাত্র সাড়ে ৫ শতাংশ টাকা দিয়ে যদি তারা আবার ব্যাংকের মালিক হয়ে যায়, তাহলে যারা একসময় লুট করেছে, তারা আবারও একই কাজ করবে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শ্রমিকরা। এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবাহ ভেঙে পড়বে এবং কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়ে শ্রমিকদের মজুরি আরও কমে যাবে।

তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ শ্রমিক এখনো ন্যূনতম মজুরির নিচে জীবনযাপন করছেন। শ্রমিক পরিবারের সন্তানরা শিক্ষা ও উন্নতির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা বংশানুক্রমিকভাবে শ্রমজীবী জীবনেই আটকে যাচ্ছে।

আখতার হোসেন বলেন, যারা একসময় ব্যাংক থেকে টাকা লুট করেছে, তাদের হাতে আবার মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া মানে রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিকে আরো দুর্বল করে দেওয়া।

একইদিন নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ ও এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসুদ বলেছেন, দেশের অর্থনীতি টিকে আছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর। এক কোটি মানুষ বাবা-মা, পরিবার-পরিজন ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা দেশে গিয়ে শ্রম দিচ্ছে। তারা টাকা পাঠায়, আর এই দেশের দুর্নীতিবাজরা তা লুটপাট করে খায়। সেই দুর্নীতিবাজরাই আবার সংসদে গিয়ে বড় বড় কথা বলে।

তিনি আরো বলেন, ১১ হাজার কোটি টাকা জনগণের অর্থ মেরে দিয়েছে—তারাই যখন সংসদে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেয়, তখন লজ্জা লাগে। আমরা একজন অর্থনীতিবিদকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে চেয়েছিলাম। কিন্তু দেখা গেল, একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ীকে সেখানে বসানো হয়েছে। গার্মেন্টস পণ্য আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি অর্থপাচার হয়। আর সেই খাতের একজন প্রতিনিধিকেই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ বলেন, গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে তা স্বীকৃতি পায়নি এবং পরবর্তী সময়ে তাদের সঙ্গে কার্যকর কোনো সংলাপ হয়নি, ফলে কলকারখানা বন্ধ, কর্মসংস্থান সংকট ও জীবনমানের অবনতি ঘটেছে; এ অবস্থায় শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপত্তা ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com