ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : আগামী জুনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে একযোগে শুরু হতে যাওয়া ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রিটিশ কলম্বিয়া কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ফিফার কংগ্রেস সভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ফুটবলে সর্বোচ্চ সংস্থার ৭৬তম কংগ্রেস বৈঠকে ফুটবলের প্রভাবশালী প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। এতে ২০০টিরও বেশি সদস্য সংস্থার প্রায় ১,৬০০ প্রতিনিধির আলোচনায় ইরান যুদ্ধ, বিশ্বকাপের আয়োজন সংক্রান্ত জটিলতা এবং রাশিয়ার আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার অমীমাংসিত প্রশ্নটি স্থান পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর মধ্যে রানি ফুটবল ফেডারেশনের(এফএফআইআরআই) কর্মকর্তাদের এই সপ্তাহের শুরুতে টরন্টোতে অবতরণের পর হঠাৎ করেই কানাডা প্রবেশে বাধা এবং ভ্যাঙ্কুভারে তাদের পরবর্তী যাত্রা বাতিল করেন তুরস্কে ফিরে যান।
ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, এফএফআইআরআই-এর সভাপতি মেহেদি তাজ, যিনি তেহরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একজন সাবেক সদস্য। স্থানীয় বুধবার (২৯ এপ্রিল) কানাডা সরকার জানিয়েছে, ২০২৪ সালে আইআরজিসি-কে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছিল। তাই সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দেশে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে।
কানাডার অভিবাসন সংস্থা এক বিবৃতিতে বলেছে, গোপনীয়তা আইনের কারণে ব্যক্তিগত বিষয়ে মন্তব্য করতে না পারলেও, সরকার স্পষ্ট এবং ধারাবাহিকভাবে বলে আসছে, আইআরজিসি কর্মকর্তারা কানাডায় অগ্রহণযোগ্য এবং তাদের দেশে তাদের কোনো স্থান নেই।
এই ঘটনাটি ইরানের বিশ্বকাপ মর্যাদায় নতুন করে অনিশ্চয়তা যোগ করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার মধ্য দিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইতোমধ্যেই সংশয়ে ছিল।
গত মাসে ইরানের ফুটবল কর্মকর্তারা জানিয়েছিল, তারা তাদের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্র থেকে সহ-আয়োজক মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সেই আবেদনটি নাকচ করে দেন।
ইনফান্তিনো এএফপিকে বলেন, ড্র অনুযায়ী ইরান বিশ্বকাপে সেখানেই খেলবে, ‘যেখানে তাদের খেলার কথা রয়েছে’।
গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জোর দিয়ে বলেন, টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য ইরানের ফুটবলারদের স্বাগত জানানো হবে।
কিন্তু রুবিও সতর্ক করে দেন, আইআরজিসি-র সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ইরানি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের প্রবেশে যুক্তরাষ্ট্র বাধা দিতে পারে।
বিশ্বকাপের টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের কারণে সমালোচনার মুখে পড়ে বৈঠকে বসছেন ফিফা প্রধান।
গতকাল ফিফা ঘোষণা করেছে, তারা বিশ্বকাপের আর্থিক বরাদ্দ বাড়িয়ে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার করেছে, যা ডিসেম্বরে ঘোষিত প্রাথমিক ৭২৭ মিলিয়ন ডলার থেকে বেশি। এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি বিশ্বকাপ-যোগ্যতা অর্জনকারী দলের সতর্কবার্তার পর, যেখানে তারা ভ্রমণ, কর এবং সামগ্রিক পরিচালন ব্যয়ের উচ্চ খরচের কথা উল্লেখ করে জানায়, এই বিশাল টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে তাদের অর্থ হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো ফিফা প্রতিনিধিদের কাছে বিশ্বকাপে আগত দর্শনার্থীরা ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন দমন অভিযানের কবলে পড়ার কোনো ঝুঁকিতে থাকবেন না বলে দাবি জানিয়েছেন। যদিও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এখনও প্রকাশ্যে কোনো রূপরেখা দেননি। ইনফান্তিনো ফিফা শান্তি পুরস্কার বাতিলের চাপেরও সম্মুখীন হচ্ছেন, যা তিনি গত ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে প্রদান করেছিলেন।
নরওয়েজিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিস ক্লাভেনেজ এই সপ্তাহে সাংবাদিকদের বলেন, আমরা (পুরস্কারটি) বাতিল দেখতে চাই। আমরা মনে করি না যে এই ধরনের পুরস্কার দেওয়া ফিফার ম্যান্ডেটের অংশ।
বৃহস্পতিবারের কংগ্রেসে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে রাশিয়ার চলমান নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও আলোচিত হতে পারে, যা ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে কার্যকর রয়েছে। ইনফান্তিনো এই বছরের শুরুতে রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পক্ষে কথা বলেছিলেন। এ বিষয়ে ব্রিটেনের স্কাই নিউজকে ফিফা সভাপতি বলেছেন, অবশ্যই, আমাদেরকে (রাশিয়াকে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি) খতিয়ে দেখতেই হবে। এই নিষেধাজ্ঞা কোনো ফল দেয়নি, এটি কেবল আরও হতাশা ও ঘৃণা সৃষ্টি করেছে।








