ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : বর্ণিল শোভাযাত্রা, লোকজ খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও মেলার আয়োজনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়েছে। দীর্ঘদিন পর চারুকলা ইনস্টিটিউট ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে কেন্দ্রীয়ভাবে আয়োজিত এ উৎসব ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় স্মরণ চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। বেলুন উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান। শোভাযাত্রাটি স্মরণ চত্বর থেকে শুরু হয়ে কাটা পাহাড় প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনার হয়ে জারুলতলায় গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রা শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পুতুল নাচ, বলি খেলা, বউচি, কাবাডি, ম্যাজিক শো ও বায়োস্কোপসহ নানা লোকজ আয়োজন শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করে। জারুলতলায় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং ক্যাম্পাসজুড়ে মেলাও ছিল উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বাংলা নববর্ষের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, পহেলা বৈশাখের শেকড় মোগল আমলের খাজনা আদায়ের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সময়ের পরিক্রমায় এটি বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতীক হয়ে উঠেছে। ১৯৬৭ সালে ছায়ানটের রমনা বটমূলে আয়োজন ছিল সাংস্কৃতিক প্রতিবাদের এক ঐতিহাসিক নিদর্শন, যা পরবর্তীতে জাতীয় উৎসবে রূপ নেয়।
চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান বলেন, পহেলা বৈশাখ এ ভূখণ্ডের সকল মানুষের উৎসব এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। তিনি মত ও পথের বৈচিত্র্যকে সম্মান জানিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, এ দিনটি জাতির ইতিহাস, ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতীক, যা নতুন প্রজন্মকে ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করে।
চাকসু ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি তার বক্তব্যে এবারের আয়োজনকে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্ত উল্লেখ করে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রশংসা করেন। বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ আল আমীন বাংলা নববর্ষকে বাঙালির ইতিহাস ও সংস্কৃতির উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।
উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, নববর্ষ সম্প্রীতির বার্তা বহন করে এবং নতুন প্রত্যয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মীর হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ উদযাপনের মধ্য দিয়ে দেশের বহুত্ববাদী চেতনা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চবির উৎসবমুখর পরিবেশ তাকে আশাবাদী করেছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে চাকসুর উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা ও জব ফেয়ার আয়োজন করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মাঝে বাড়তি আগ্রহ সৃষ্টি করেছে ।
সূএ : বাংলাদেশ প্রতিদিন








