ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক : যশোরে সুজন (২২) নামের এক ব্যক্তি স্ত্রীকে হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার ভোর ৫টার দিকে যশোর সদর উপজেলার শেখহাটি তমালতলা এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম সামিনা আক্তার সাম্মিকে (২০)। তিনি সদর উপজেলার তরফ নওয়াপাড়া এলাকার শফিয়ার রহমানের মেয়ে। তার স্বামী সুজন টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার শান্তিনগর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে তাকে পুলিশ পাহারায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নিহত সামিনার মামা মোস্তাফিজুর রহমান পিয়াস জানান, প্রেমের সম্পর্কের জেরে পরিবারের অমতে চার মাস আগে বিয়ে করেন মামাতো-ফুফাতো ভাই-বোন সুজন ও সামিনা। বিয়ের পর সামিনা সুজনের মাদকাসক্তির বিষয়টি জানতে পারেন। নেশার টাকার জন্য প্রায় সামিনাকে মারধর করতো সুজন। এমনকি গত শুক্রবার সুজন নিজের মাকেও ছুরিকাঘাত করেছিল। এ অবস্থায় দুই পরিবার উদ্যোগ নেয় সুজনকে মালয়েশিয়া পাঠানোর জন্য। সোমবারই তার বিমানে ওঠার কথা ছিল।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার ভোরে নেশার টাকার জন্য সুজন ও সামিনার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সুজন ধারালো চাকু দিয়ে সামিনাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। তার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এসে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সামিনাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে স্ত্রীকে হত্যার পর সুজন নিজেই নিজের শরীরে চাকু দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সুজনকে হাসপাতালে ভর্তির পর সামিনার ক্ষুব্ধ স্বজনরা সুজনের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। এ সময় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। সেই সঙ্গে সুজনের বাবা-মাকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক সাকিরুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই সামিনার মৃত্যু হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন তিনি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে।
যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুজনের পিতা-মাতাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।








