মালিতে গুপ্তচরবৃত্তি, ফরাসি কর্মকর্তার ২০ বছর জেল

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : গুপ্তচরবৃত্তি ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে মালিতে ফরাসি দূতাবাসের এক কর্মকর্তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এই রায়কে মালির সামরিক সরকারের সঙ্গে সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্সের সম্পর্কের অবনতিতে আরেকটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০২৫ সালের আগস্টে গ্রেফতার হওয়া ওই ফরাসি কর্মকর্তার নাম ইয়ান ভি। তাকে পাঁচ হাজার ৪০০ ইউরো জরিমানা এবং ২০ বছরের জন্য মালিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে বলে আদালতের তিনটি পৃথক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

গ্রেফতারের সময় মালির কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করে, ইয়ান ফরাসি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করতেন এবং বিদ্রোহ ও সন্ত্রাসবাদে জর্জরিত দেশটিকে অস্থিতিশীল করার জন্য বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর প্রচেষ্টার অংশ ছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট কয়েকজন মালিয়ান সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে তাকে আটক করা হয়। ওই কর্মকর্তারাও মালির সামরিক জান্তাকে উৎখাতের উদ্দেশ্যে অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করছিলেন বলে সন্দেহ করা হয়।

তবে, ফ্রান্স আবার দাবি করেছে, কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, আমাদের কর্মকর্তা ভিত্তিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তিনি নিরাপত্তা সহযোগিতা মিশনের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং কোনও অবস্থাতেই ফ্রান্স সরাসরি বা পরোক্ষভাবে মালিকে অস্থিতিশীল করার কোনও কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল না।

২০১২ সাল থেকে মালি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে ভুগছে। বিশেষ করে আল-কায়দা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী, ইসলামিক স্টেট ঘনিষ্ঠ জঙ্গি সংগঠন এবং স্থানীয় সশস্ত্র অপরাধী চক্রগুলোর সহিংসতায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

সামরিক নেতা অসীম গুইতার নেতৃত্বে মালি পশ্চিমা দেশগুলোর, বিশেষ করে ফ্রান্সের, সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।

মালির পাশাপাশি আফ্রিকার দেশ নাইজার এবং বুরকিনা ফাসো-তে সামরিক শাসকরা ক্ষমতায় রয়েছেন। তারা ক্ষমতা গ্রহণের সময় জনগণকে অধিক নিরাপত্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সরকারগুলো ক্ষমতায় আসার পর সাহেল অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» সিলেটে অনির্দিষ্টকাল পরিবহন ধর্মঘটের ডাক

» আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৫ সদস্য গ্রেফতার

» ক্যাপাসিটি চার্জের অপচয় বন্ধ করে বিদ্যুতের দাম কমানোর দাবি এবি পার্টির

» হাসপাতাল বন্ধ হোক আমরা চাই না, বললেন আদ্-দ্বীনে মারা যাওয়া এক শিশুর বাবা

» প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

» তিন দিনের সফরে কাল রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র

» দুদিনের সফরে কক্সবাজার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, প্রথম দিনেই যাবেন শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারতে

» ঢাবিকে ফোকাস কোচিং সেন্টার বানানোর অপচেষ্টা করছে ছাত্রশিবির: রাশেদ খাঁন

» ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতুতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা

» ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনে আইনের প্রয়োগ: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

মালিতে গুপ্তচরবৃত্তি, ফরাসি কর্মকর্তার ২০ বছর জেল

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : গুপ্তচরবৃত্তি ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে মালিতে ফরাসি দূতাবাসের এক কর্মকর্তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এই রায়কে মালির সামরিক সরকারের সঙ্গে সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্সের সম্পর্কের অবনতিতে আরেকটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০২৫ সালের আগস্টে গ্রেফতার হওয়া ওই ফরাসি কর্মকর্তার নাম ইয়ান ভি। তাকে পাঁচ হাজার ৪০০ ইউরো জরিমানা এবং ২০ বছরের জন্য মালিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে বলে আদালতের তিনটি পৃথক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

গ্রেফতারের সময় মালির কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করে, ইয়ান ফরাসি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করতেন এবং বিদ্রোহ ও সন্ত্রাসবাদে জর্জরিত দেশটিকে অস্থিতিশীল করার জন্য বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর প্রচেষ্টার অংশ ছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট কয়েকজন মালিয়ান সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে তাকে আটক করা হয়। ওই কর্মকর্তারাও মালির সামরিক জান্তাকে উৎখাতের উদ্দেশ্যে অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করছিলেন বলে সন্দেহ করা হয়।

তবে, ফ্রান্স আবার দাবি করেছে, কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, আমাদের কর্মকর্তা ভিত্তিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তিনি নিরাপত্তা সহযোগিতা মিশনের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং কোনও অবস্থাতেই ফ্রান্স সরাসরি বা পরোক্ষভাবে মালিকে অস্থিতিশীল করার কোনও কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল না।

২০১২ সাল থেকে মালি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে ভুগছে। বিশেষ করে আল-কায়দা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী, ইসলামিক স্টেট ঘনিষ্ঠ জঙ্গি সংগঠন এবং স্থানীয় সশস্ত্র অপরাধী চক্রগুলোর সহিংসতায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

সামরিক নেতা অসীম গুইতার নেতৃত্বে মালি পশ্চিমা দেশগুলোর, বিশেষ করে ফ্রান্সের, সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।

মালির পাশাপাশি আফ্রিকার দেশ নাইজার এবং বুরকিনা ফাসো-তে সামরিক শাসকরা ক্ষমতায় রয়েছেন। তারা ক্ষমতা গ্রহণের সময় জনগণকে অধিক নিরাপত্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সরকারগুলো ক্ষমতায় আসার পর সাহেল অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com