এই গ্রামের পুরুষদের লক্ষ্যই পালোয়ান হওয়া

ছবি সংগৃহীত

 

ফিচার ডেস্ক  : বলিউডের ভাইজান খ্যাত সালমান খানের সুলতান সিনেমা দেখেননি এমন কোনো সিনেমাপ্রেমী কে খুঁজে পাওয়া কঠিন। সেখানে সালমান খান থাকেন একজন পালোয়ানের চরিত্রে। নব্বই দশকের অনেক পুরুষ সালমান খানকে অনুসরণ করতেন। বিশেষ করে তার ফিটনেসের দিকটায়। তার মতো শরীরের গঠন বানাতে নানান শারীরিক কসরত করতেন।

বর্তমানে স্বাস্থ্য সচেতন প্রায় সবাই। কমবেশি সবাই ফিটনেসের দিকে নজর দিচ্ছেন। তবে আজকের বিশ্বে ফিটনেস শুধু স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয় নয়, বরং অনেকের কাছে এটি একটি জীবনধারা। জিম, যোগব্যায়াম, বডিবিল্ডিং কিংবা কুস্তি-সবকিছুর প্রতিই মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। তবে ভারতের রাজধানী দিল্লির উপকণ্ঠে এমন একটি গ্রাম রয়েছে, যেখানে ফিটনেস কোনো ট্রেন্ড নয়; এটি মানুষের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং পরিচয়ের অংশ। দক্ষিণ দিল্লির আসোলা-ফতেহপুর বেরি গ্রামকে অনেকে ‘বাউন্সার ভিলেজ’ বা ‘ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী গ্রাম’ নামে চেনেন।

jagonewsদিল্লির শহুরে ব্যস্ততার খুব কাছেই অবস্থিত এই গ্রামটি বহু বছর ধরেই কুস্তি, শরীরচর্চা এবং শক্তিমত্তার জন্য পরিচিত। ভোরের আলো ফোটার আগেই গ্রামের বিভিন্ন আখড়া ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রে শুরু হয়ে যায় অনুশীলন। এখানকার যুবকদের বড় একটি অংশ নিয়মিত শরীরচর্চা করে এবং নিজেদের ফিট রাখাকে সামাজিক দায়িত্বের মতো মনে করে।

গ্রামের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এখানকার আখড়া সংস্কৃতি। আধুনিক জিমের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় কুস্তি বা ‘পহেলওয়ানি’ এখনও অত্যন্ত জনপ্রিয়। মাটির আখড়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা কুস্তি অনুশীলন করেন তরুণরা। অনেকেই ওজন তোলার পাশাপাশি ট্র্যাক্টর টানা, ভারী টায়ার বহন করা, দড়ি বেয়ে ওঠা কিংবা সহনশীলতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কসরত করে থাকেন। এসব অনুশীলন শুধু পেশিশক্তি নয়, মানসিক দৃঢ়তাও বাড়ায়।

আসোলা-ফতেহপুর বেরিতে ফিটনেসের চর্চা শুরু হয় ছোটবেলা থেকেই। এখানের পুরুষদের ছোটবেলা থেকেই লক্ষ্য থাকে একজন পালোয়ান হওয়া। পরিবারের সদস্যরা শিশুদের খেলাধুলা ও শরীরচর্চায় উৎসাহিত করেন। স্থানীয় প্রবীণদের বিশ্বাস, নিয়মিত ব্যায়াম একজন মানুষকে শারীরিকভাবে শক্তিশালী করার পাশাপাশি তাকে আত্মনিয়ন্ত্রিত ও দায়িত্বশীল করে তোলে। তাই এখানে মোবাইল গেম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তুলনায় মাঠ, আখড়া ও খেলাধুলার গুরুত্ব বেশি।

jagonewsএই গ্রামের খাদ্যাভ্যাসও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কুস্তিগীর ও শরীরচর্চাকারীদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় থাকে দুধ, দই, ঘি, মাখন, বাদাম, ফল এবং উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। অনেকেই নিরামিষভোজী। ধূমপান, মাদক বা অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস থেকে দূরে থাকাকে এখানে সুস্থ জীবনের অন্যতম শর্ত হিসেবে দেখা হয়।

তবে এই গ্রামকে সবচেয়ে বেশি পরিচিত করেছে বাউন্সার পেশা। স্থানীয়দের দাবি, গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবার থেকেই অন্তত একজন সদস্য নিরাপত্তা পেশার সঙ্গে যুক্ত। দিল্লি-এনসিআরের বিভিন্ন নাইট ক্লাব, পাঁচতারা হোটেল, করপোরেট অনুষ্ঠান, কনসার্ট এবং ভিআইপি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এখানকার যুবকদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। শক্তিশালী গড়ন, শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন এবং কঠোর প্রশিক্ষণের কারণে তারা এই পেশায় বিশেষ সুনাম অর্জন করেছেন।

স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে কয়েকজন কুস্তিগীর প্রথম পেশাদার বাউন্সার হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর ধীরে ধীরে এটি গ্রামের অনেক তরুণের পেশায় পরিণত হয়। বর্তমানে শত শত যুবক এই খাতে কাজ করছেন এবং অনেকে জাতীয় পর্যায়ের কুস্তি ও বডিবিল্ডিং প্রতিযোগিতাতেও অংশ নিচ্ছেন।

আসোলা-ফতেহপুর বেরি আজ শুধু একটি গ্রামের নাম নয়; এটি অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা এবং আত্মনির্ভরতার প্রতীক। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক যুগে যেখানে শারীরিক পরিশ্রম কমে যাচ্ছে, সেখানে এই গ্রামের মানুষ দেখিয়ে দিচ্ছেন যে সুস্থ জীবন, কঠোর পরিশ্রম এবং দৃঢ় মানসিকতা এখনও সাফল্যের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি হতে পারে। সূএ : জাগোনিউজ২৪.কম

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আইজিপির বক্তব্য আতঙ্কজনক : মামুনুল হক

» ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বিদ্যুৎবিভ্রাট

» দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবক নিহত

» ১৭ বছরের অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাশুল দিতে হচ্ছে সরকারকে : জ্বালানিমন্ত্রী

» আইনজীবী তালিকাভুক্তির সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণের সিদ্ধান্ত

» ধ্বংসস্তূপ থেকে স্বাস্থ্যখাতের অগ্রযাত্রা শুরু করেছে সরকার: রাষ্ট্রপতি

» সারের দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ

» জাপানে জেরা’র এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী

» গাজীপুরে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট

» সংগ্রাম ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিএনপির অগ্রবাহিনী হয়েছে যুবদল: ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: dhakacrimenewsbd@gmail.com

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

এই গ্রামের পুরুষদের লক্ষ্যই পালোয়ান হওয়া

ছবি সংগৃহীত

 

ফিচার ডেস্ক  : বলিউডের ভাইজান খ্যাত সালমান খানের সুলতান সিনেমা দেখেননি এমন কোনো সিনেমাপ্রেমী কে খুঁজে পাওয়া কঠিন। সেখানে সালমান খান থাকেন একজন পালোয়ানের চরিত্রে। নব্বই দশকের অনেক পুরুষ সালমান খানকে অনুসরণ করতেন। বিশেষ করে তার ফিটনেসের দিকটায়। তার মতো শরীরের গঠন বানাতে নানান শারীরিক কসরত করতেন।

বর্তমানে স্বাস্থ্য সচেতন প্রায় সবাই। কমবেশি সবাই ফিটনেসের দিকে নজর দিচ্ছেন। তবে আজকের বিশ্বে ফিটনেস শুধু স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয় নয়, বরং অনেকের কাছে এটি একটি জীবনধারা। জিম, যোগব্যায়াম, বডিবিল্ডিং কিংবা কুস্তি-সবকিছুর প্রতিই মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। তবে ভারতের রাজধানী দিল্লির উপকণ্ঠে এমন একটি গ্রাম রয়েছে, যেখানে ফিটনেস কোনো ট্রেন্ড নয়; এটি মানুষের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং পরিচয়ের অংশ। দক্ষিণ দিল্লির আসোলা-ফতেহপুর বেরি গ্রামকে অনেকে ‘বাউন্সার ভিলেজ’ বা ‘ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী গ্রাম’ নামে চেনেন।

jagonewsদিল্লির শহুরে ব্যস্ততার খুব কাছেই অবস্থিত এই গ্রামটি বহু বছর ধরেই কুস্তি, শরীরচর্চা এবং শক্তিমত্তার জন্য পরিচিত। ভোরের আলো ফোটার আগেই গ্রামের বিভিন্ন আখড়া ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রে শুরু হয়ে যায় অনুশীলন। এখানকার যুবকদের বড় একটি অংশ নিয়মিত শরীরচর্চা করে এবং নিজেদের ফিট রাখাকে সামাজিক দায়িত্বের মতো মনে করে।

গ্রামের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এখানকার আখড়া সংস্কৃতি। আধুনিক জিমের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় কুস্তি বা ‘পহেলওয়ানি’ এখনও অত্যন্ত জনপ্রিয়। মাটির আখড়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা কুস্তি অনুশীলন করেন তরুণরা। অনেকেই ওজন তোলার পাশাপাশি ট্র্যাক্টর টানা, ভারী টায়ার বহন করা, দড়ি বেয়ে ওঠা কিংবা সহনশীলতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কসরত করে থাকেন। এসব অনুশীলন শুধু পেশিশক্তি নয়, মানসিক দৃঢ়তাও বাড়ায়।

আসোলা-ফতেহপুর বেরিতে ফিটনেসের চর্চা শুরু হয় ছোটবেলা থেকেই। এখানের পুরুষদের ছোটবেলা থেকেই লক্ষ্য থাকে একজন পালোয়ান হওয়া। পরিবারের সদস্যরা শিশুদের খেলাধুলা ও শরীরচর্চায় উৎসাহিত করেন। স্থানীয় প্রবীণদের বিশ্বাস, নিয়মিত ব্যায়াম একজন মানুষকে শারীরিকভাবে শক্তিশালী করার পাশাপাশি তাকে আত্মনিয়ন্ত্রিত ও দায়িত্বশীল করে তোলে। তাই এখানে মোবাইল গেম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তুলনায় মাঠ, আখড়া ও খেলাধুলার গুরুত্ব বেশি।

jagonewsএই গ্রামের খাদ্যাভ্যাসও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কুস্তিগীর ও শরীরচর্চাকারীদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় থাকে দুধ, দই, ঘি, মাখন, বাদাম, ফল এবং উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। অনেকেই নিরামিষভোজী। ধূমপান, মাদক বা অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস থেকে দূরে থাকাকে এখানে সুস্থ জীবনের অন্যতম শর্ত হিসেবে দেখা হয়।

তবে এই গ্রামকে সবচেয়ে বেশি পরিচিত করেছে বাউন্সার পেশা। স্থানীয়দের দাবি, গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবার থেকেই অন্তত একজন সদস্য নিরাপত্তা পেশার সঙ্গে যুক্ত। দিল্লি-এনসিআরের বিভিন্ন নাইট ক্লাব, পাঁচতারা হোটেল, করপোরেট অনুষ্ঠান, কনসার্ট এবং ভিআইপি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এখানকার যুবকদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। শক্তিশালী গড়ন, শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন এবং কঠোর প্রশিক্ষণের কারণে তারা এই পেশায় বিশেষ সুনাম অর্জন করেছেন।

স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে কয়েকজন কুস্তিগীর প্রথম পেশাদার বাউন্সার হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর ধীরে ধীরে এটি গ্রামের অনেক তরুণের পেশায় পরিণত হয়। বর্তমানে শত শত যুবক এই খাতে কাজ করছেন এবং অনেকে জাতীয় পর্যায়ের কুস্তি ও বডিবিল্ডিং প্রতিযোগিতাতেও অংশ নিচ্ছেন।

আসোলা-ফতেহপুর বেরি আজ শুধু একটি গ্রামের নাম নয়; এটি অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা এবং আত্মনির্ভরতার প্রতীক। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক যুগে যেখানে শারীরিক পরিশ্রম কমে যাচ্ছে, সেখানে এই গ্রামের মানুষ দেখিয়ে দিচ্ছেন যে সুস্থ জীবন, কঠোর পরিশ্রম এবং দৃঢ় মানসিকতা এখনও সাফল্যের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি হতে পারে। সূএ : জাগোনিউজ২৪.কম

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: dhakacrimenewsbd@gmail.com

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com