যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস ও অ্যাক্সিওসের পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে আলোচিত খসড়া চুক্তিতে একাধিক সংশোধনী যুক্ত করে তা পুনরায় ইরানের কাছে পাঠিয়েছেন।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর ওই খসড়া চুক্তিতে ‘কয়েকটি সংশোধনী’ আনার নির্দেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত ধারা আরও স্পষ্ট ও কঠোর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক খসড়ায় ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে না যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এতে আরও নির্দিষ্ট শর্ত বা অতিরিক্ত ছাড়ের বিষয় যুক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস।
একজন জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, “এটি মূলত এমন কিছু নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত সংগ্রহ করবে এবং সেই প্রক্রিয়ার সময়সূচি কী হবে- তা আরও স্পষ্ট করা হচ্ছে।”
এছাড়া দ্বিতীয় একটি সূত্র জানায়, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয়ে ব্যবহৃত ভাষাও পরিবর্তন করতে চান ট্রাম্প। এ বিষয়টি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
অন্যদিকে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সম্ভাব্য সমঝোতা কাঠামোর শর্ত ‘আরও কঠোর’ করেছেন এবং সংশোধিত প্রস্তাবটি ইরানের কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা সম্ভব হয়নি বলে জানায় পত্রিকাটি।
সূত্রগুলো আরও জানায়, ইরানের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবের জবাব আসতে আনুমানিক তিন দিন সময় লাগতে পারে। এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, “সপ্তাহের শুরুতেই আমরা একটি প্রতিক্রিয়া পাওয়ার আশা করছি।”
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কঠোর হওয়ায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা প্রক্রিয়া আরও জটিল হতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা, নিউ ইয়র্ক টাইমস, অ্যাক্সিওস








