ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : একসময় সমুদ্র শাসন করা ব্রিটিশ রয়্যাল নেভি এখন নিজেদের জাহাজসংকটে পড়ে জার্মানির কাছ থেকে যুদ্ধজাহাজ ধার করতে বাধ্য হয়েছে। ব্রিটেনের সামরিক সক্ষমতার এই নজিরবিহীন টানাপোড়েন নিয়ে তীব্র বিদ্রূপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ব্রিটিশ বিমানবাহী রণতরিগুলোকে মার্কিন জাহাজের তুলনায় ‘খেলনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সরাসরি বলেন, ব্রিটেনের এই জাহাজগুলো মোটেও সেরা মানের নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশালাকায় রণতরিগুলোর সামনে এগুলো নেহাতই তুচ্ছ।
মূলত উত্তর আটলান্টিকে ন্যাটোর একটি মিশনে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ব্রিটিশ ডেস্ট্রয়ার ‘এইচএমএস ড্রাগন’-এর। কিন্তু ইরান সংকটের কারণে জাহাজটিকে জরুরি ভিত্তিতে সাইপ্রাসে মোতায়েন করায় ন্যাটোর ওই মিশনের জন্য ব্রিটেনের হাতে আর কোনো জাহাজ উদ্বৃত্ত ছিল না। ফলে ব্রিটিশ নৌবাহিনীকে এখন জার্মান ফ্রিগেট ‘এফজিএস সাচসেন’ ধার করে সেটির ওপর থেকে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এই ঘটনাকে ব্রিটেনের জন্য গভীর অবমাননাকর হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ১০২ বছর বয়সী প্রবীণ রয়্যাল মেরিন যোদ্ধা ডাগ চেশায়ার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, উইনস্টন চার্চিল বেঁচে থাকলে এই অবস্থার জন্য পুরো প্রশাসনকে বরখাস্ত করতেন। জার্মানির কাছ থেকে জাহাজ ধার করার ঘটনাকে তিনি চরম লজ্জাজনক বলে অভিহিত করেন।
এদিকে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করলেও জানিয়েছেন যে, একটি নতুন যুদ্ধজাহাজ তৈরি করতে অন্তত ছয় বছর সময় লাগে। তবে ন্যাটোর সাম্প্রতিক রিপোর্টে দেখা গেছে, ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা বাজেট জিডিপির ২.৪ শতাংশ হওয়ার কথা থাকলেও তা কমে ২.২৮ শতাংশে নেমে এসেছে।
সাবেক নৌপ্রধান অ্যাডমিরাল লর্ড ওয়েস্ট সতর্ক করে বলেছেন, মিত্র দেশগুলো এখন বুঝতে পারছে যে ব্রিটেন আর আগের মতো শক্তিশালী নেই। কয়েক সপ্তাহ আগে সাইপ্রাসে ইরানি ড্রোন হামলার সময়ও কোনো ব্রিটিশ জাহাজ সেখানে পাহারায় ছিল না, যার ফলে ফ্রান্স ও ইতালির সাহায্য নিতে হয়েছিল। সব মিলিয়ে ‘ব্রিটানিয়া রুলস দ্য ওয়েভস’ বা সমুদ্র শাসনের সেই গৌরবময় অধ্যায় এখন বড় ধরনের অস্তিত্বসংকটের মুখে পড়েছে। সূত্র: ডেইলি মেইল









