স্নেহের ছায়াতলে

সুলেখা আক্তার শান্তা :
শীতের সকাল। মা মুনা উঠানে রৌদ্রে পাটি বিছিয়ে ছেলে সিফাতকে ভাত খাওয়াচ্ছেন। কিন্তু সিফাত মুখ গোমড়া করে বসে আছে, ভাত খেতে চায় না।
— মা, ওই কুকুরটা কীভাবে তাকাচ্ছে দেখো! এমন করে তাকালে কি ভাত খাওয়া যায়?
মা বললেন, ঠিক আছে বাবা, আমি ওকে তাড়িয়ে দেই।
মুনা লাঠি নিয়ে কুকুরটিকে তাড়াতে চেষ্টা করেন, কিন্তু কুকুরটি যায় না। আহা! যাচ্ছে না কেন?
সিফাত বলল, মা, আমি ভাত খাব না। ওকে আমার ভাত দিয়ে দাও।
— না বাবা, আগে তুমি খাও। তারপর ওকে দেবো।
মা রাজি হলেন। যখন মা কুকুরটিকে খাবার দিলেন, কুকুরটি তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলল।
সিফাত অবাক! মা, দেখো না, কুকুরটা এত তাড়াতাড়ি খেলো?
— বাবা, ও তো অনেক ক্ষুধার্ত। তাই এত দ্রুত খেলো। খাওয়া শেষে কুকুরটি ধপ করে পড়ে গেল।
— মা, খেলে তো শক্তি পায়। তাহলে ও পড়ে গেল কেন?
— মনে হয় না খেয়ে ছিল। খাওয়ার পর ক্লান্তিতে গা ছেড়ে দিয়েছে।
সিফাত চুপচাপ কুকুরটির দিকে তাকিয়ে থাকে। তার ছোট্ট মনে জন্ম নেয় মমতা। সে বলল, মা, এখন থেকে আমরা কুকুরটিকে নিয়মিত খাবার দেবো।
মা মুনা হাসলেন, ঠিক আছে বাবা। তবে একটা শর্ত আছে। তুমি খাবার নিয়ে আর তালবাহানা করবে না। খাবারের সময় ঠিকমতো খেতে হবে।
— আচ্ছা মা, আমি খাব।
এরপর থেকে প্রতিদিন খাবার খাওয়ার সময়, এসে দাঁড়ায় কুকুরটি। মা মুনা ওকে খাবার দেন।
একদিন সিফাত বলল, মা, আমি কুকুরটার নাম রাখবো।
— ঠিক আছে বাবা, রেখো।
— ওকে আমি জিবু বলে ডাকবো। আজ থেকে তোমার নাম জিবু! জিবু নাম শুনে দৌড়ে আসে, সিফাতের পাশে বসে থাকে। সিফাত যেখানেই যায়, জিবু সেখানেই যায়।
স্কুলে যাওয়া-আসার পথে সঙ্গী হয় জিবু। সিফাতের খুব আনন্দ লাগে, জিবু তার সঙ্গে থাকে দেখে।
মুনা ছেলেকে বললেন, বাবা, চলো আজ আমরা তোমার মামা বাড়ি বেড়াতে যাই।
সিফাত খুশিতে লাফিয়ে উঠল, মামাবাড়ি! হ্যাঁ মা, আমি যাবো! কিন্তু হঠাৎ তার মুখ গোমড়া হয়ে গেল। চুপচাপ হয়ে গেল সে। মা, আমি বেড়াতে যেতে চাই না।
মা অবাক হয়ে বললেন, কেন বাবা? তুমি তো কতদিন মামাবাড়ি যাওয়ার কথা বলছো! এখন যেতে চাচ্ছো না কেন?
সিফাত চোখ মুছে বলল, মা, আমরা যদি বেড়াতে যাই, তাহলে জিবুর কী হবে? জিবু না খেয়ে থাকবে! ওতো জানে না আমরা কোথায় যাচ্ছি!
মা বললেন, বাবা, চিন্তা কোরো না। আমি জিবুর জন্য শুকনো খাবার রেখে যাবো। জিবু ওগুলো খাবে। আমরা তো মাত্র দুই-একদিন থাকবো, তারপরই ফিরে আসব।
সিফাত একটু নিশ্চিন্ত হলো। তারপর মা আর ছেলে রওনা হলো মামাবাড়ির পথে।
মামাবাড়িতে পৌঁছে সিফাত খুব খুশি। মামা, মামী, খালা, মামাতো বোন সবাই মিলে আনন্দে মেতে ওঠে।
কিন্তু দিন দুয়েক পরেই সিফাত মন খারাপ করে। সে বারবার জানালা দিয়ে বাহিরে তাকায়।
— মা, চলো না, আমরা বাড়ি চলে যাই।
মা অবাক হয়ে বললেন, বাবা, কয়েকদিন থাকি?
সিফাত বলল, মা, জিবু না খেয়ে থাকবে! ও তো জানে না আমরা কোথায় গেছি। চলো মা, আমরা চলে যাই।
মা মুনা হেসে ফেললেন, আহা! তোমার জ্বালায় আর পারলাম না! চলো, আমরা বাড়ি চলে যাই।
সিফাতের মুখে হাসি ফুটে উঠল। তার ছোট্ট মন জানে, ভালোবাসা মানেই পাশে থাকা, যত্ন নেওয়া।
মুনা ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফিরলেন। বাড়িতে এসে দেখেন, জিবুর গায়ে বড় একটা কোপের দাগ! মুনা চমকে উঠলেন, কে এমন করলো? একটা প্রাণীকে কেউ এমনভাবে আঘাত করে? ও তো কারও কোনো ক্ষতি করেনি!
সিফাত কাঁদো কাঁদো গলায় বলল, মা, জিবুকে কারা এমন করলো?
— জানি না বাবা। চলো, ওকে ডাক্তার দেখাই। মুনা জিবুকে নিয়ে গেলেন পশু চিকিৎসকের কাছে। এরপর ধীরে ধীরে জিবু সুস্থ হয়ে উঠল।
— যাক, আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে জিবু সুস্থ হয়েছে। তারপর থেকেই জিবু আর সিফাতের বন্ধুত্ব
আরও গভীর হলো।
রাতে বাড়ির আশেপাশে কোনো শব্দ পেলেই জিবু ঘেউ ঘেউ করে ওঠে। দিন হোক বা রাত, অচেনা কাউকে দেখলেই জিবু পাহারায় দাঁড়ায়। আর যদি দেখে পরিচিত কেউ, তখন শান্ত হয়ে বসে থাকে।
জিবু এখন শুধু বন্ধু নয়, সে সিফাতদের বাড়ির রক্ষাকর্তা।
একদিন সিফাত পুকুরে গোসল করতে নামল। কিন্তু সে তো সাঁতার জানে না! পানিতে হাবুডুবু খেতে লাগল। তার মুখ ঢেকে ফেলল পানিতে, হাত-পা ছুঁড়ে বাঁচার চেষ্টা করছে। দূর থেকে দেখে জিবু। সে আর দেরি করে না, দৌড়ে পানিতে ঝাঁপ দেয়! জিবু সিফাতের পরনের শার্ট টেনে ধরে, ধীরে ধীরে তাকে টেনে তোলে পাড়ে। সিফাতের তো প্রাণ যায় যায়! মা মুনা ছুটে এসে ছেলেকে জড়িয়ে ধরেন। আমার ছেলের কী হলো! আল্লাহ! তুমি ঠিক আছো তো বাবা? জিবু পাশে, তার চোখে জল, সে কাঁদে। সিফাত বলে, ভালোবাসা শুধু অনুভব নয়, জীবনও বাঁচাতে পারে। জিবু সিফাতের দিকে তাকিয়ে থাকে, তার দু’চোখে অশ্রু ঝরে পড়ে। মুনা ছেলের চিকিৎসা করান, ধীরে ধীরে সিফাত সুস্থ হয়ে ওঠে। সুস্থ হওয়ার পর, সিফাত জিবুকে নিয়ে নানা জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। জিবু দৌড়ে বেড়ায়, লাফায়, উল্লাসে ভরে ওঠে।
একদিন সিফাত মাকে বলল, মা, সবাই ভালোবাসা পেতে চায়। ভালোবাসা পেলে সবকিছুই সুন্দর হয়ে যায়। দেখো মা, একটা প্রাণীও ভালোবাসা পেয়ে আমার বিপদ বুঝতে পেরেছে। সে উপলব্ধি করেছে আমি পানিতে পড়েছি, আমাকে তুলে না তুললে আমি মারা যেতাম।
— কি তার অনুভব! কী তার ভালোবাসা!
মা মুনা ছেলের কথা শুনে আবেগে ভরে ওঠেন। তিনি বুঝলেন, ভালোবাসা শুধু মানুষের হৃদয়ে নয়, প্রাণীর হৃদয়েও ভালোবাসা আছে।
সিফাত মাকে বলল, হ্যাঁ মা, আমাদের উচিত চারপাশের প্রাণীগুলোকেও ভালোবাসা। ওদের যত্ন নেওয়া, খাওয়ানো, আদর করা। না হলে ওরা অনাহারে, অনাদরে অসুস্থ হয়ে পড়বে, মৃত্যুবরণ করবে। এতে পরিবেশও নষ্ট হবে। কিন্তু মা, যদি আমরা ওদের ভালোবাসি, তাহলে দেখবে, ওরাও আমাদের ভালোবাসবে।
মা মুনা মাথা নাড়লেন, একদম ঠিক বলেছো বাবা। ভালোবাসা দিলে ভালোবাসা পাওয়া যায়।
সিফাত হাসল, জিবুর দিকে তাকিয়ে বলল, যেমন জিবু আমাকে ভালোবেসেছে। আমার বিপদে পাশে থেকেছে, আমাকে বাঁচিয়েছে।
জিবু তখন সিফাতের গায়ে মুখ ঘষে, তার চোখে মমতা, ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতা।
সেই মুহূর্তে মা-ছেলে বুঝে গেল, ভালোবাসা শুধু শব্দ নয়, এটা এক শক্তি, যা মানুষ আর প্রাণীকে এক সুতোয় বেঁধে রাখে।
সিফাত মাকে বলল, হ্যাঁ মা, আমাদের উচিত চারপাশের প্রাণীগুলোকেও ভালোবাসা। ওদের যত্ন নেওয়া, খাওয়ানো, আদর করা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» স্নেহের ছায়াতলে

» চট্টগ্রামে তারেক রহমান; কাল চার জেলায় ৬ জনসভা

» ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপি হারলে তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত হেরে যাবে: রাশেদ খান

» জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হলো লেবার পার্টি

» জুলাই আন্দোলনের সুফল পেতে চাইলে জামায়াতকে জয়যুক্ত করা ছাড়া আর বিকল্প পথ নেই: জামায়াত আমির

» আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নতুন সূচি ঘোষণা

» জুলাই যোদ্ধাদের নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘অভ্যুত্থান বাস্তবায়ন আন্দোলন’

» প্রত্যেক নাগরিকের চিকিৎসার নিশ্চয়তা দেওয়া দায়িত্ব রাষ্ট্রের: সাকি

» চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন তারেক রহমান

» আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: ই-মেইল : [email protected],

মোবাইল :০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

স্নেহের ছায়াতলে

সুলেখা আক্তার শান্তা :
শীতের সকাল। মা মুনা উঠানে রৌদ্রে পাটি বিছিয়ে ছেলে সিফাতকে ভাত খাওয়াচ্ছেন। কিন্তু সিফাত মুখ গোমড়া করে বসে আছে, ভাত খেতে চায় না।
— মা, ওই কুকুরটা কীভাবে তাকাচ্ছে দেখো! এমন করে তাকালে কি ভাত খাওয়া যায়?
মা বললেন, ঠিক আছে বাবা, আমি ওকে তাড়িয়ে দেই।
মুনা লাঠি নিয়ে কুকুরটিকে তাড়াতে চেষ্টা করেন, কিন্তু কুকুরটি যায় না। আহা! যাচ্ছে না কেন?
সিফাত বলল, মা, আমি ভাত খাব না। ওকে আমার ভাত দিয়ে দাও।
— না বাবা, আগে তুমি খাও। তারপর ওকে দেবো।
মা রাজি হলেন। যখন মা কুকুরটিকে খাবার দিলেন, কুকুরটি তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলল।
সিফাত অবাক! মা, দেখো না, কুকুরটা এত তাড়াতাড়ি খেলো?
— বাবা, ও তো অনেক ক্ষুধার্ত। তাই এত দ্রুত খেলো। খাওয়া শেষে কুকুরটি ধপ করে পড়ে গেল।
— মা, খেলে তো শক্তি পায়। তাহলে ও পড়ে গেল কেন?
— মনে হয় না খেয়ে ছিল। খাওয়ার পর ক্লান্তিতে গা ছেড়ে দিয়েছে।
সিফাত চুপচাপ কুকুরটির দিকে তাকিয়ে থাকে। তার ছোট্ট মনে জন্ম নেয় মমতা। সে বলল, মা, এখন থেকে আমরা কুকুরটিকে নিয়মিত খাবার দেবো।
মা মুনা হাসলেন, ঠিক আছে বাবা। তবে একটা শর্ত আছে। তুমি খাবার নিয়ে আর তালবাহানা করবে না। খাবারের সময় ঠিকমতো খেতে হবে।
— আচ্ছা মা, আমি খাব।
এরপর থেকে প্রতিদিন খাবার খাওয়ার সময়, এসে দাঁড়ায় কুকুরটি। মা মুনা ওকে খাবার দেন।
একদিন সিফাত বলল, মা, আমি কুকুরটার নাম রাখবো।
— ঠিক আছে বাবা, রেখো।
— ওকে আমি জিবু বলে ডাকবো। আজ থেকে তোমার নাম জিবু! জিবু নাম শুনে দৌড়ে আসে, সিফাতের পাশে বসে থাকে। সিফাত যেখানেই যায়, জিবু সেখানেই যায়।
স্কুলে যাওয়া-আসার পথে সঙ্গী হয় জিবু। সিফাতের খুব আনন্দ লাগে, জিবু তার সঙ্গে থাকে দেখে।
মুনা ছেলেকে বললেন, বাবা, চলো আজ আমরা তোমার মামা বাড়ি বেড়াতে যাই।
সিফাত খুশিতে লাফিয়ে উঠল, মামাবাড়ি! হ্যাঁ মা, আমি যাবো! কিন্তু হঠাৎ তার মুখ গোমড়া হয়ে গেল। চুপচাপ হয়ে গেল সে। মা, আমি বেড়াতে যেতে চাই না।
মা অবাক হয়ে বললেন, কেন বাবা? তুমি তো কতদিন মামাবাড়ি যাওয়ার কথা বলছো! এখন যেতে চাচ্ছো না কেন?
সিফাত চোখ মুছে বলল, মা, আমরা যদি বেড়াতে যাই, তাহলে জিবুর কী হবে? জিবু না খেয়ে থাকবে! ওতো জানে না আমরা কোথায় যাচ্ছি!
মা বললেন, বাবা, চিন্তা কোরো না। আমি জিবুর জন্য শুকনো খাবার রেখে যাবো। জিবু ওগুলো খাবে। আমরা তো মাত্র দুই-একদিন থাকবো, তারপরই ফিরে আসব।
সিফাত একটু নিশ্চিন্ত হলো। তারপর মা আর ছেলে রওনা হলো মামাবাড়ির পথে।
মামাবাড়িতে পৌঁছে সিফাত খুব খুশি। মামা, মামী, খালা, মামাতো বোন সবাই মিলে আনন্দে মেতে ওঠে।
কিন্তু দিন দুয়েক পরেই সিফাত মন খারাপ করে। সে বারবার জানালা দিয়ে বাহিরে তাকায়।
— মা, চলো না, আমরা বাড়ি চলে যাই।
মা অবাক হয়ে বললেন, বাবা, কয়েকদিন থাকি?
সিফাত বলল, মা, জিবু না খেয়ে থাকবে! ও তো জানে না আমরা কোথায় গেছি। চলো মা, আমরা চলে যাই।
মা মুনা হেসে ফেললেন, আহা! তোমার জ্বালায় আর পারলাম না! চলো, আমরা বাড়ি চলে যাই।
সিফাতের মুখে হাসি ফুটে উঠল। তার ছোট্ট মন জানে, ভালোবাসা মানেই পাশে থাকা, যত্ন নেওয়া।
মুনা ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফিরলেন। বাড়িতে এসে দেখেন, জিবুর গায়ে বড় একটা কোপের দাগ! মুনা চমকে উঠলেন, কে এমন করলো? একটা প্রাণীকে কেউ এমনভাবে আঘাত করে? ও তো কারও কোনো ক্ষতি করেনি!
সিফাত কাঁদো কাঁদো গলায় বলল, মা, জিবুকে কারা এমন করলো?
— জানি না বাবা। চলো, ওকে ডাক্তার দেখাই। মুনা জিবুকে নিয়ে গেলেন পশু চিকিৎসকের কাছে। এরপর ধীরে ধীরে জিবু সুস্থ হয়ে উঠল।
— যাক, আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে জিবু সুস্থ হয়েছে। তারপর থেকেই জিবু আর সিফাতের বন্ধুত্ব
আরও গভীর হলো।
রাতে বাড়ির আশেপাশে কোনো শব্দ পেলেই জিবু ঘেউ ঘেউ করে ওঠে। দিন হোক বা রাত, অচেনা কাউকে দেখলেই জিবু পাহারায় দাঁড়ায়। আর যদি দেখে পরিচিত কেউ, তখন শান্ত হয়ে বসে থাকে।
জিবু এখন শুধু বন্ধু নয়, সে সিফাতদের বাড়ির রক্ষাকর্তা।
একদিন সিফাত পুকুরে গোসল করতে নামল। কিন্তু সে তো সাঁতার জানে না! পানিতে হাবুডুবু খেতে লাগল। তার মুখ ঢেকে ফেলল পানিতে, হাত-পা ছুঁড়ে বাঁচার চেষ্টা করছে। দূর থেকে দেখে জিবু। সে আর দেরি করে না, দৌড়ে পানিতে ঝাঁপ দেয়! জিবু সিফাতের পরনের শার্ট টেনে ধরে, ধীরে ধীরে তাকে টেনে তোলে পাড়ে। সিফাতের তো প্রাণ যায় যায়! মা মুনা ছুটে এসে ছেলেকে জড়িয়ে ধরেন। আমার ছেলের কী হলো! আল্লাহ! তুমি ঠিক আছো তো বাবা? জিবু পাশে, তার চোখে জল, সে কাঁদে। সিফাত বলে, ভালোবাসা শুধু অনুভব নয়, জীবনও বাঁচাতে পারে। জিবু সিফাতের দিকে তাকিয়ে থাকে, তার দু’চোখে অশ্রু ঝরে পড়ে। মুনা ছেলের চিকিৎসা করান, ধীরে ধীরে সিফাত সুস্থ হয়ে ওঠে। সুস্থ হওয়ার পর, সিফাত জিবুকে নিয়ে নানা জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। জিবু দৌড়ে বেড়ায়, লাফায়, উল্লাসে ভরে ওঠে।
একদিন সিফাত মাকে বলল, মা, সবাই ভালোবাসা পেতে চায়। ভালোবাসা পেলে সবকিছুই সুন্দর হয়ে যায়। দেখো মা, একটা প্রাণীও ভালোবাসা পেয়ে আমার বিপদ বুঝতে পেরেছে। সে উপলব্ধি করেছে আমি পানিতে পড়েছি, আমাকে তুলে না তুললে আমি মারা যেতাম।
— কি তার অনুভব! কী তার ভালোবাসা!
মা মুনা ছেলের কথা শুনে আবেগে ভরে ওঠেন। তিনি বুঝলেন, ভালোবাসা শুধু মানুষের হৃদয়ে নয়, প্রাণীর হৃদয়েও ভালোবাসা আছে।
সিফাত মাকে বলল, হ্যাঁ মা, আমাদের উচিত চারপাশের প্রাণীগুলোকেও ভালোবাসা। ওদের যত্ন নেওয়া, খাওয়ানো, আদর করা। না হলে ওরা অনাহারে, অনাদরে অসুস্থ হয়ে পড়বে, মৃত্যুবরণ করবে। এতে পরিবেশও নষ্ট হবে। কিন্তু মা, যদি আমরা ওদের ভালোবাসি, তাহলে দেখবে, ওরাও আমাদের ভালোবাসবে।
মা মুনা মাথা নাড়লেন, একদম ঠিক বলেছো বাবা। ভালোবাসা দিলে ভালোবাসা পাওয়া যায়।
সিফাত হাসল, জিবুর দিকে তাকিয়ে বলল, যেমন জিবু আমাকে ভালোবেসেছে। আমার বিপদে পাশে থেকেছে, আমাকে বাঁচিয়েছে।
জিবু তখন সিফাতের গায়ে মুখ ঘষে, তার চোখে মমতা, ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতা।
সেই মুহূর্তে মা-ছেলে বুঝে গেল, ভালোবাসা শুধু শব্দ নয়, এটা এক শক্তি, যা মানুষ আর প্রাণীকে এক সুতোয় বেঁধে রাখে।
সিফাত মাকে বলল, হ্যাঁ মা, আমাদের উচিত চারপাশের প্রাণীগুলোকেও ভালোবাসা। ওদের যত্ন নেওয়া, খাওয়ানো, আদর করা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: ই-মেইল : [email protected],

মোবাইল :০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com