সরকার আবারও নাটক করে নির্বাচন করতে চায়: মির্জা ফখরুল

সরকার আবারও অতীতের মতো নাটক করে আরেকটি নির্বাচন করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

তিনি বলেন, আগের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভিন্ন ভাষায় কথা বলতেন। কিন্তু বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার অত্যন্ত চমৎকারভাবে কথা বলেন। বিমোহিত করে বলেন- আগামীতে ভালো নির্বাচন হবে। গত নির্বাচনে দিনের ভোট রাতে হয়েছে, আগামী নির্বাচনে কী ভোট এক সপ্তাহ আগে হবে? এসব নাটক করে সরকার অতীতের মতো আগামীতে একটা নির্বাচন করতে চায়।

শুক্রবার  দুপুরে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

 

মির্জা ফখরুল বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগের মাধ্যমে সরকার সাম্প্রতিক সময়ে আবারও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। ইউক্রেনে রাশিয়া যেমন নির্মূল করছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইহুদিদের যেভাবে নির্মূল করা হয়েছে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা যেমন বাঙালি জাতির ওপর নির্মূল অভিযান চালিয়েছে, তেমনি বর্তমান সরকার বিরোধী দল নির্মূল করতে বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করছে।

 

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ২০১৮ সালে নির্বাচনের আগে বিরোধী দলকে নির্মূল করার জন্য নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে মাঠ শূন্য করার চেষ্টা করেছিল। ১৪ সালেও একইভাবে তারা সেই কাজটি করেছিল। এখন আবার একই চেহারায় আবির্ভূত হয় বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, মামলা, ভয়-ভীতি ছড়িয়ে নির্মূল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।

 

‘আওয়ামী লীগ ২০২৩ সালে যে তথাকথিত নির্বাচন করতে চায়, সেই নির্বাচনে তারা যেন এককভাবে আগের মতোই করতে পারে সেই কৌশল তারা অবলম্বন করেছে।

তিনি বলেন, আমরা বারবার বলেছি আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক দল নয়। তাদের অধীনে কখনোই কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। কোনো দলের শাসনামলে কখনই গণতন্ত্র একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে পারে না। আওয়ামী লীগের শাসনামলে কখনোই রাজনৈতিক দলগুলো ও গণতন্ত্র নিরাপদ নয়। আজ তারা গণতন্ত্রের মোরগ দিয়ে সম্পূর্ণভাবে একটি কর্তৃত্ববাদী একনায়কতন্ত্র ফ্যাসিবাদী রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে।

 

৭৫ সালে আওয়ামী লীগ একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। ঠিক একই কায়দায় তারা শুধু এখানে কৌশলটা পরিবর্তন করেছে। তারা এখানে গণতন্ত্রের একটি মোরগ, লেবাস পড়েছে। আর ভেতরে সম্পূর্ণভাবে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এটা করতে গিয়ে তারা বাংলাদেশের যে আত্মা সেটাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ মূল ক্ষতিটা করছে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে- যোগ করেন তিনি।

 

বিএনপির এ নেতা বলেন, গত ৬ এপ্রিল দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে লিফলেট বিতরণকালে বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে বিনা উস্কানিতে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় অনেক কর্মীদেরকে মারধরও করা হয়। পরে আদালত চত্বরে বিএনপি নেতাকর্মীদের নির্যাতন অত্যাচার করা হয়। এখন এই ঘটনায় ৮৮ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত নামা আরও দুইশ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। মহানগর দক্ষিণের নেতাদের ও সব থানা সভাপতি ও সম্পাদকের নামে এই মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য কী? সেই একই কায়দায় অজ্ঞাতনামা। একজন হজে গিয়েছেন আর তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে সাজানো মামলা দিয়ে সাজা দিয়েছে। এ মামলার মধ্যে কিছুই নেই। সব মিথ্যা কথা দিয়ে সাজানো। শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহবায়ক আব্দুস সালামসহ দক্ষিণ বিএনপি নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» সৎ নেতৃত্ব ছাড়া সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় …. ইঞ্জিনিয়ার মুহসীন আহমেদ

» ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ পবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের

» শতকোটি ছাড়াল পাগলা মসজিদের দানের টাকা

» আইএসপিআরের বিবৃতি প্রত্যাখ্যান গণঅধিকার পরিষদের

» জুলাই সনদে ঐকমত্য না হওয়া বিষয়গুলোর পরবর্তী সংসদে নির্ধারণ হবে : ফখরুল

» আ.লীগ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

» গাজরের বরফি তৈরির রেসিপি

» শিশুর ডিহাইড্রেশন হলে বুঝবেন যেভাবে

» ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট ঐন্দ্রিলার

» বিশেষ অভিযানে চার বোতল ভারতীয় মদসহ ভারতীয় নাগরিক আটক

  

 

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

সরকার আবারও নাটক করে নির্বাচন করতে চায়: মির্জা ফখরুল

সরকার আবারও অতীতের মতো নাটক করে আরেকটি নির্বাচন করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

তিনি বলেন, আগের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভিন্ন ভাষায় কথা বলতেন। কিন্তু বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার অত্যন্ত চমৎকারভাবে কথা বলেন। বিমোহিত করে বলেন- আগামীতে ভালো নির্বাচন হবে। গত নির্বাচনে দিনের ভোট রাতে হয়েছে, আগামী নির্বাচনে কী ভোট এক সপ্তাহ আগে হবে? এসব নাটক করে সরকার অতীতের মতো আগামীতে একটা নির্বাচন করতে চায়।

শুক্রবার  দুপুরে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

 

মির্জা ফখরুল বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগের মাধ্যমে সরকার সাম্প্রতিক সময়ে আবারও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। ইউক্রেনে রাশিয়া যেমন নির্মূল করছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইহুদিদের যেভাবে নির্মূল করা হয়েছে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা যেমন বাঙালি জাতির ওপর নির্মূল অভিযান চালিয়েছে, তেমনি বর্তমান সরকার বিরোধী দল নির্মূল করতে বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করছে।

 

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ২০১৮ সালে নির্বাচনের আগে বিরোধী দলকে নির্মূল করার জন্য নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে মাঠ শূন্য করার চেষ্টা করেছিল। ১৪ সালেও একইভাবে তারা সেই কাজটি করেছিল। এখন আবার একই চেহারায় আবির্ভূত হয় বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, মামলা, ভয়-ভীতি ছড়িয়ে নির্মূল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।

 

‘আওয়ামী লীগ ২০২৩ সালে যে তথাকথিত নির্বাচন করতে চায়, সেই নির্বাচনে তারা যেন এককভাবে আগের মতোই করতে পারে সেই কৌশল তারা অবলম্বন করেছে।

তিনি বলেন, আমরা বারবার বলেছি আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক দল নয়। তাদের অধীনে কখনোই কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। কোনো দলের শাসনামলে কখনই গণতন্ত্র একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে পারে না। আওয়ামী লীগের শাসনামলে কখনোই রাজনৈতিক দলগুলো ও গণতন্ত্র নিরাপদ নয়। আজ তারা গণতন্ত্রের মোরগ দিয়ে সম্পূর্ণভাবে একটি কর্তৃত্ববাদী একনায়কতন্ত্র ফ্যাসিবাদী রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে।

 

৭৫ সালে আওয়ামী লীগ একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। ঠিক একই কায়দায় তারা শুধু এখানে কৌশলটা পরিবর্তন করেছে। তারা এখানে গণতন্ত্রের একটি মোরগ, লেবাস পড়েছে। আর ভেতরে সম্পূর্ণভাবে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এটা করতে গিয়ে তারা বাংলাদেশের যে আত্মা সেটাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ মূল ক্ষতিটা করছে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে- যোগ করেন তিনি।

 

বিএনপির এ নেতা বলেন, গত ৬ এপ্রিল দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে লিফলেট বিতরণকালে বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে বিনা উস্কানিতে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় অনেক কর্মীদেরকে মারধরও করা হয়। পরে আদালত চত্বরে বিএনপি নেতাকর্মীদের নির্যাতন অত্যাচার করা হয়। এখন এই ঘটনায় ৮৮ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত নামা আরও দুইশ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। মহানগর দক্ষিণের নেতাদের ও সব থানা সভাপতি ও সম্পাদকের নামে এই মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য কী? সেই একই কায়দায় অজ্ঞাতনামা। একজন হজে গিয়েছেন আর তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে সাজানো মামলা দিয়ে সাজা দিয়েছে। এ মামলার মধ্যে কিছুই নেই। সব মিথ্যা কথা দিয়ে সাজানো। শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহবায়ক আব্দুস সালামসহ দক্ষিণ বিএনপি নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



  

 

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

Design & Developed BY ThemesBazar.Com