ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক : প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ বলেছেন, গত ৫৪ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো দেশকে বদলে দেওয়ার সুযোগ এসেছে। আমরা ফ্যাসিবাদ মোকাবিলা করতে পেরেছি ঐক্যের মাধ্যমে, আর সেই ঐক্যের মাধ্যমেই ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা সম্ভব। আগামী নির্বাচনে মার্কার ব্যালটে যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দিতে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন। বাংলাদেশের মানুষ যদি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলে রাষ্ট্র কাঠামো বদলানোর ম্যান্ডেট দেয়, তাহলে কোনো রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা নেই সেটি অস্বীকার করার বা বাস্তবায়ন না করার।
বুধবার বিকেলে রংপুর শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে আয়োজিত বিভাগীয় ইমাম সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, মানুষকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন শুধু নিজে ভোট দিতে যাবেন না, অন্যদেরও সঙ্গে নিয়ে যাবেন। এবার ভোটে দু’টি ব্যালট থাকবে-একটি সাদা, অন্যটি গোলাপি। সাদা ব্যালটে থাকবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের নাম ও মার্কা। যাকে যোগ্য মনে করবেন, যাকে ইচ্ছা, তাকেই ভোট দেবেন। এটি সম্পূর্ণ আপনার সিদ্ধান্ত। আর গোলাপি ব্যালটটি হবে গণভোটের জন্য। সেখানে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’-এই দু’টি অপশন থাকবে। গণভোটের মার্কা হলো টিক চিহ্ন। সেখানে ‘হ্যাঁ’-তে সিল দিতে হবে।”
তিনি বলেন, গণভোট হচ্ছে একটি দরজা, আর দেশের চাবি জনগণের হাতে। সেই চাবি দিয়ে দরজা খুলতে হবে। সামনে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। যে ঐক্যের মধ্য দিয়ে আমরা ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছি, সেই ঐক্যের মাধ্যমেই ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে নতুন বাংলাদেশের সূচনা করতে হবে।
উপস্থিত ইমামদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা সমাজের নেতৃত্ব দেন। আপনারা মানুষকে বোঝাতে পারবেন যে ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের মূল প্রশ্নটি কী। প্রশ্ন একটাই-আপনি কি পুরোনো ব্যবস্থাকে বহাল রাখতে চান, নাকি নতুন করে দেশ গড়তে চান?
তিনি আরও বলেন, নতুন করে দেশ গড়তে হলে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। শুধু নিজে বললেই হবে না, অন্যদেরও বোঝাতে হবে। মানুষ পরিবর্তন চায় বলেই জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। আপনারা যদি পরিবর্তনের এই প্রশ্নগুলো মানুষকে বুঝিয়ে বলতে পারেন, তাহলে নিঃসন্দেহে জনগণ জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলবে।
কারমাইকেল কলেজ মসজিদের খতিব মোহাম্মদ আলী সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আরেক বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, ধর্ম সচিব কামাল উদ্দিন, বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান।
এছাড়া জাতীয় ইমাম সমিতির বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, মুলাটোল মদিনাতুল উলুম কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আজগর আলী, কারমাতিয়া জামে মসজিদের খতিব মাওলানা বায়েজিদ ইসলামসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।








