৭০ আসনে ভালো ফল পাওয়ার আশা জাতীয় পার্টির

সংগৃহীত ছবি

 

অনলাইন ডেস্ক :  আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত হলে ৪০ থেকে ৭০টি আসনে জাতীয় পার্টি ভালো ফল পেতে পারে বলে মনে করেন দলটির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী।

রোববার (১১ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আশার কথা জানান।

শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, গতকাল দলের ১৩ প্রার্থী মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করেন। এর মধ্যে ১১ জনের আপিল গ্রহণ হয়েছে, দুজনের নামঞ্জুর হওয়ায় তারা উচ্চ আদালতে যাবেন। আজ পর্যন্ত কুমিল্লা-১ আসনের সৈয়দ মোহাম্মদ ইফতেকার আহসান ও বগুড়া-২ আসনের মো. শরিফুল ইসলাম জিন্নার আপিলও গ্রহণ করা হয়েছে।

জাপা মহাসচিব জানান, আজ আরও চারটি এবং আগামীকাল ছয়–সাতটি আপিল শুনানি হবে। আপিল ট্রাইব্যুনাল কারিগরি ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ দিচ্ছে, ফলে আরও প্রার্থী নির্বাচনে ফিরে আসতে পারছেন।

শামীম হায়দার বলেন, ১২–২৯ ডিসেম্বর দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ থাকায় অনেক প্রার্থী সময়মতো মনোনয়ন জমা দিতে পারেননি। অতীতে ছোটখাটো ভুল রিটার্নিং কর্মকর্তারা সংশোধনের সুযোগ দিতেন, এবার তা হয়নি। রিটার্নিং কর্মকর্তারা মবের ভয় ও ট্যাগিংয়ের কারণে ইতিবাচক বিবেচনা করতে পারেননি, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বাধা।

সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, আইনশৃঙ্খলা মূলত ঢাকা ও কয়েকটি এলাকায় সীমাবদ্ধ, প্রশাসন দৃঢ় না হলে মানহীন নির্বাচন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বগুড়া জেলা পার্টি কার্যালয় দখলের ঘটনা নজিরবিহীন, প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে, উল্টো মিথ্যা জিডি করা হয়েছে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

পাটোয়ারী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো মূলত ঢাকা ও কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় কেন্দ্রীভূত। কোথাও কোনো ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হেজিটেন্ট ও ধীরগতির দেখা যাচ্ছে। ব্যাপক সেনা ও পুলিশ মোতায়েন এবং প্রশাসনকে দৃঢ় না করলে মানহীন নির্বাচন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক বিভাজন নিয়ে তিনি বলেন, দলটি নানা বিভক্তির মধ্য দিয়ে গেলেও মূল অংশটি জিএম কাদেরের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী। জাতীয় পার্টি ২৪৪টি আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ২০০টির মতো বৈধ হয়েছে। আপিল শেষে আরও ২০–২৫টি আসনে প্রার্থী যুক্ত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সব মিলিয়ে দলটি ২২০ থেকে ২৪০টি আসনে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে।

জাপা মহাসচিব বলেন, ভোটের মাঠ অত্যন্ত ফ্লুইড। যদি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয় এবং সুষ্ঠু ভোট হয়, তাহলে জাতীয় পার্টি ৪০ থেকে ৭০টি আসনে ভালো ফল করতে পারে। এখনই রাজনৈতিক সমঝোতার সময়। নির্বাচন কমিশন, প্রধান উপদেষ্টা অথবা বড় রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্যোগে সব দলকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ২০১৭ সালে মির্জা ফখরুলের ওপর হামলা : দ্রুত চার্জশিট দাখিলের নির্দেশ

» ঋণ খেলাপিদের সংসদের বাইরে পাঠাতেই এবারের নির্বাচন: হাসনাত

» গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে: চরমোনাই পীর

» জামায়াত আমিরের সঙ্গে সাবেক মার্কিন স্টেট সেক্রেটারির সাক্ষাৎ

» বিপিএল ছেলের বিধ্বংসী ব্যাটিং নন-স্ট্রাইকে দাঁড়িয়ে দেখলেন নবী

» বিএফডিসি পরিদর্শনে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা

» রুল খারিজ, সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া আরেকটি বিয়ে নয়

» শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ ও প্রচারণা নিষিদ্ধ

» গণভোটের মার্কা টিকচিহ্ন : আলী রীয়াজ

» গণভোটে সরকারের প্রচারণা চালানোর ক্ষেত্রে আইনগত বাধা নেই

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: ই-মেইল : [email protected],

মোবাইল :০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

৭০ আসনে ভালো ফল পাওয়ার আশা জাতীয় পার্টির

সংগৃহীত ছবি

 

অনলাইন ডেস্ক :  আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত হলে ৪০ থেকে ৭০টি আসনে জাতীয় পার্টি ভালো ফল পেতে পারে বলে মনে করেন দলটির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী।

রোববার (১১ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আশার কথা জানান।

শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, গতকাল দলের ১৩ প্রার্থী মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করেন। এর মধ্যে ১১ জনের আপিল গ্রহণ হয়েছে, দুজনের নামঞ্জুর হওয়ায় তারা উচ্চ আদালতে যাবেন। আজ পর্যন্ত কুমিল্লা-১ আসনের সৈয়দ মোহাম্মদ ইফতেকার আহসান ও বগুড়া-২ আসনের মো. শরিফুল ইসলাম জিন্নার আপিলও গ্রহণ করা হয়েছে।

জাপা মহাসচিব জানান, আজ আরও চারটি এবং আগামীকাল ছয়–সাতটি আপিল শুনানি হবে। আপিল ট্রাইব্যুনাল কারিগরি ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ দিচ্ছে, ফলে আরও প্রার্থী নির্বাচনে ফিরে আসতে পারছেন।

শামীম হায়দার বলেন, ১২–২৯ ডিসেম্বর দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ থাকায় অনেক প্রার্থী সময়মতো মনোনয়ন জমা দিতে পারেননি। অতীতে ছোটখাটো ভুল রিটার্নিং কর্মকর্তারা সংশোধনের সুযোগ দিতেন, এবার তা হয়নি। রিটার্নিং কর্মকর্তারা মবের ভয় ও ট্যাগিংয়ের কারণে ইতিবাচক বিবেচনা করতে পারেননি, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বাধা।

সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, আইনশৃঙ্খলা মূলত ঢাকা ও কয়েকটি এলাকায় সীমাবদ্ধ, প্রশাসন দৃঢ় না হলে মানহীন নির্বাচন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বগুড়া জেলা পার্টি কার্যালয় দখলের ঘটনা নজিরবিহীন, প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে, উল্টো মিথ্যা জিডি করা হয়েছে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

পাটোয়ারী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো মূলত ঢাকা ও কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় কেন্দ্রীভূত। কোথাও কোনো ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হেজিটেন্ট ও ধীরগতির দেখা যাচ্ছে। ব্যাপক সেনা ও পুলিশ মোতায়েন এবং প্রশাসনকে দৃঢ় না করলে মানহীন নির্বাচন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক বিভাজন নিয়ে তিনি বলেন, দলটি নানা বিভক্তির মধ্য দিয়ে গেলেও মূল অংশটি জিএম কাদেরের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী। জাতীয় পার্টি ২৪৪টি আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ২০০টির মতো বৈধ হয়েছে। আপিল শেষে আরও ২০–২৫টি আসনে প্রার্থী যুক্ত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সব মিলিয়ে দলটি ২২০ থেকে ২৪০টি আসনে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে।

জাপা মহাসচিব বলেন, ভোটের মাঠ অত্যন্ত ফ্লুইড। যদি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয় এবং সুষ্ঠু ভোট হয়, তাহলে জাতীয় পার্টি ৪০ থেকে ৭০টি আসনে ভালো ফল করতে পারে। এখনই রাজনৈতিক সমঝোতার সময়। নির্বাচন কমিশন, প্রধান উপদেষ্টা অথবা বড় রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্যোগে সব দলকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: ই-মেইল : [email protected],

মোবাইল :০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com