সংগৃহীত ছবি
অনলাইন ডেস্ক : ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি শনিবার বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে আগামী দুই রাত রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি শহরের কেন্দ্র দখল করে রাখার প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি ও পরিবহন খাতের শ্রমিকদের দেশজুড়ে ধর্মঘট শুরুর অনুরোধ করেন।
প্রতিবাদকারীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় পাহলভি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার তার ডাকে সাড়া দিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের রাস্তায় নামাকে সাহস ও দৃঢ়তার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই গণজমায়েত ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নেতৃত্বের হুমকির জবাব দিয়েছে এবং শাসকগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভঙ্গুরতা প্রকাশ করেছে।
পাহলভি বলেন, আন্দোলনের পরবর্তী ধাপে কেবল রাস্তায় উপস্থিতি নয়, অর্থনৈতিক চাপও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রের আর্থিক জোগান বন্ধ করতে পারলে দমন-পীড়ন চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ প্রেক্ষিতে পরিবহন, তেল-গ্যাস এবং সামগ্রিক জ্বালানি খাতের শ্রমিকদের জাতীয় পর্যায়ে ধর্মঘটে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার ও রবিবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে আবারও রাস্তায় নামতে বিক্ষোভকারীদের অনুরোধ জানিয়ে পাহলভি বলেন, জাতীয় পতাকা, প্রতীক ও ছবি নিয়ে জনসমাগমস্থলগুলো পুনর্দখল করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, লক্ষ্য এখন আর প্রতীকী প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বড় শহরগুলোর কেন্দ্রীয় এলাকাগুলো দখল করে ধরে রাখার প্রস্তুতি নিতে হবে।
এ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দিক থেকে শহরের কেন্দ্রে এগোনো, বিচ্ছিন্ন জমায়েতগুলোকে যুক্ত করা এবং দীর্ঘ সময় রাস্তায় থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী আগেভাগে জোগাড় করার কথাও বলেন তিনি। একই সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র ইউনিটের সেই সদস্যদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, যারা বিরোধী পক্ষের ‘ডিফেকশন প্ল্যাটফর্ম’-এর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, তারা যেন দমনযন্ত্রকে ধীর ও ব্যাহত করতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেন।
পাহলভি জানান, তিনি ইরানে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এবং যাকে তিনি জাতীয় বিপ্লবের বিজয় বলে অভিহিত করছেন, সেই মুহূর্তে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তার মতে, সেই সময় দ্রুত এগিয়ে আসছে। সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল








