“আমি একজন ফ্রিডম ফাইটার, একাত্তরে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমি যুদ্ধ করেছি”: শেখ হাসিনার পক্ষের আইনজীবী

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এইচ এ এম জহিরুল ইসলাম খান (পান্না)। জেড আই খান পান্না নামে পরিচিত এই আইনজীবী বিভিন্ন সময়ে শেখ হাসিনার পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনা উপস্থিত না থাকায় তিনি সেটা পারেননি। তবে আইনের বিধান অনুসারে আদালত যে কোনো আইনজীবীকে অভিযুক্তের (পলাতক) পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ করতে পারেন।

প্রথমবার অন্য আইনজীবী নিয়োগ পাওয়ায় তিনি নিয়োজিত হতে বিফল হলেও এবার আইনজীবী জেড আই খান পান্না নিয়োগ পেয়েছেন। পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান গুমের অভিযোগে দুটি মামলায় এবার তিনি স্টেট ডিফেন্স হিসেবে মামলা পরিচালনা করবেন।

ডিফেন্স কাউন্সেল সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ১২ নম্বর ধারার ১ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে, যেখানে একজন অভিযুক্তকে কোনো আইনজীবী যদি প্রতিনিধিত্ব না করেন, ট্রাইব্যুনাল মামলার যেকোনো পর্যায়ে সরকারি খরচে সেই অভিযুক্তের পক্ষে একজন আইনজীবী নিয়োগ দিতে পারবেন।

রোববার নিয়োগ পাওয়ার পর আইনজীবী জেড আই খান পান্না সাংবাদিকদের বলেন, “আমি একজন ফ্রিডম ফাইটার। একাত্তরে আমি যুদ্ধ করেছি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে, তার আহ্বানে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। তার কন্যা (শেখ হাসিনা) উইদাউট প্রপার ডিফেন্স, আগেও প্রপার ডিফেন্স ছিল। আমি কাউকে ছোট করতেছি না। আমার কাছে মনে হয়েছে তাকে আরও প্রপার ওয়েতে ডিফেন্স দেওয়ার দরকার। দ্যাটস হোয়াই আমি স্টেট ডিফেন্স….। আমি প্রথমে বলেছি অন বিহাফ অব শেখ হাসিনা। তো (আদালত) বলছেন যে, এটা তো আপনি পারেন না। বিকজ শি ইজ ফিউজিটিভ। আমি তখন বলেছি, ওকে। প্রসিকিউশন বলল, স্টেট ডিফেন্স। আমি বললাম আমার কোনো আপত্তি নেই। দ্যাটস অল।”

শেখ হাসিনার একটি মামলায় সাজা হয়ে গেছে— এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সেটা তো আমি কিছু করতে পারব না, এখন আপাতত।”

এ সময় এক সাংবাদিক প্রশ্নে করেন— আপনার সাথে কি যোগাযোগ হয়েছে? জবাবে জেড আই খান পান্না বলেন, ‘কার?’ তখন ওই সাংবাদিক বলেন, ‘শেখ হাসিনার’। জবাবে তিনি বলেন, ‘ডোন্ট আস্ক অব দিজ টাইপ অব কোয়েশ্চেন’।

এর আগে চলতি বছরের ১২ আগস্টে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী হতে আবেদন করেছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান (পান্না)। তবে আবেদনে সাড়া দেননি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। আদালতে আইনজীবী জেড আই খান পান্নার পক্ষে আবেদনটি উপস্থাপন করেছিলেন আইনজীবী নাজনীন নাহার।

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক থাকায় আইনের বিধান অনুসারে তাদের পক্ষে ২৪ জুন স্টেট ডিফেন্স (রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী) নিয়োগ দেওয়া হয়। সেই মামলায় ইতোমধ্যে আসামিদের দণ্ড হয়েছে।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৮-এর সাবেক বিশেষ পিপি ও আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবী আমির হোসেনকে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে নিয়োগ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

ওই দিন আইনজীবী নাজনীন নাহার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্না সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে একজন আইনজীবী হতে চেয়েছিলেন, সেটা আগেই আপনাদের জানিয়েছিলেন। পরে তিনি ট্রাইব্যুনাল বরাবর আবেদন করেছিলেন। যেহেতু আইনজীবী নিয়োগ হয়ে গেছে, সেক্ষেত্রে রেজিস্ট্রার অপরাগতা প্রকাশ করেন। তিনি (জেড আই খান পান্না) এই আবেদন ডাকযোগেও পাঠিয়েছিলেন। আজকে আমি জেড আই খান পান্নার পক্ষে আবেদনটি পুট ইন করেছিলাম কোর্টে। কোর্টকে ওনার ইচ্ছাটা জানিয়েছিলাম। কোর্ট বলেছেন—যেহেতু একজন আইনজীবী অলরেডি নিয়োগ হয়েছে, এটা এখন আর সম্ভব না। কোর্ট আরও যেটা বলেছেন যে, যেহেতু এটায় সময় নেই, অন্য কোনো মামলায় যদি দরকার হয় উনি বায়োডাটা সাবমিট করে আসতে পারেন।

আইনজীবী নাজনীন নাহার আরও বলেছিলেন, আমার প্রতি ওনার আরেকটা মেসেজ ছিল, আদালত যদি ওনাকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী না করেন তাহলে ওনাকে যেন অ্যাসিস্ট করার জন্য (আদালতকে আইনগত সহায়তা) অনুমতি দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রেও কোর্ট বলেছেন সম্ভব না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» স্বাস্থ্য খাতে স্বস্তির বার্তা, দ্রুত কাটবে হাসপাতালের সংকট: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

» ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই শহিদ সাংবাদিক তুরাব হত্যার বিচার হওয়া উচিত: ডা. শফিকুর রহমান

» রাষ্ট্রপতিকে আইনের আওতায় আনা যায় না, এটা ‘ভুল কনসেপ্ট’: আখতার হোসেন

» বঙ্গভবন ছাড়লেন সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

» কথা কম, কাজ বেশি নীতিতে চলবে ডিএনসিসি : প্রশাসক

» অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর দিচ্ছে সরকার : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

» গণতন্ত্র যতবারই হোঁচট খেয়েছে, ততবারই মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে: ডা. জাহিদ

» মেধাবী ও আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গড়ে তোলা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী

» আগস্ট-সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২৩ দিন বন্ধ

» সাংবাদিক হাফিজুর রহমান এর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার,  মুক্তি’র দাবিতে  নারায়ণগঞ্জে মানববন্ধন

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

“আমি একজন ফ্রিডম ফাইটার, একাত্তরে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমি যুদ্ধ করেছি”: শেখ হাসিনার পক্ষের আইনজীবী

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এইচ এ এম জহিরুল ইসলাম খান (পান্না)। জেড আই খান পান্না নামে পরিচিত এই আইনজীবী বিভিন্ন সময়ে শেখ হাসিনার পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনা উপস্থিত না থাকায় তিনি সেটা পারেননি। তবে আইনের বিধান অনুসারে আদালত যে কোনো আইনজীবীকে অভিযুক্তের (পলাতক) পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ করতে পারেন।

প্রথমবার অন্য আইনজীবী নিয়োগ পাওয়ায় তিনি নিয়োজিত হতে বিফল হলেও এবার আইনজীবী জেড আই খান পান্না নিয়োগ পেয়েছেন। পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান গুমের অভিযোগে দুটি মামলায় এবার তিনি স্টেট ডিফেন্স হিসেবে মামলা পরিচালনা করবেন।

ডিফেন্স কাউন্সেল সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ১২ নম্বর ধারার ১ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে, যেখানে একজন অভিযুক্তকে কোনো আইনজীবী যদি প্রতিনিধিত্ব না করেন, ট্রাইব্যুনাল মামলার যেকোনো পর্যায়ে সরকারি খরচে সেই অভিযুক্তের পক্ষে একজন আইনজীবী নিয়োগ দিতে পারবেন।

রোববার নিয়োগ পাওয়ার পর আইনজীবী জেড আই খান পান্না সাংবাদিকদের বলেন, “আমি একজন ফ্রিডম ফাইটার। একাত্তরে আমি যুদ্ধ করেছি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে, তার আহ্বানে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। তার কন্যা (শেখ হাসিনা) উইদাউট প্রপার ডিফেন্স, আগেও প্রপার ডিফেন্স ছিল। আমি কাউকে ছোট করতেছি না। আমার কাছে মনে হয়েছে তাকে আরও প্রপার ওয়েতে ডিফেন্স দেওয়ার দরকার। দ্যাটস হোয়াই আমি স্টেট ডিফেন্স….। আমি প্রথমে বলেছি অন বিহাফ অব শেখ হাসিনা। তো (আদালত) বলছেন যে, এটা তো আপনি পারেন না। বিকজ শি ইজ ফিউজিটিভ। আমি তখন বলেছি, ওকে। প্রসিকিউশন বলল, স্টেট ডিফেন্স। আমি বললাম আমার কোনো আপত্তি নেই। দ্যাটস অল।”

শেখ হাসিনার একটি মামলায় সাজা হয়ে গেছে— এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সেটা তো আমি কিছু করতে পারব না, এখন আপাতত।”

এ সময় এক সাংবাদিক প্রশ্নে করেন— আপনার সাথে কি যোগাযোগ হয়েছে? জবাবে জেড আই খান পান্না বলেন, ‘কার?’ তখন ওই সাংবাদিক বলেন, ‘শেখ হাসিনার’। জবাবে তিনি বলেন, ‘ডোন্ট আস্ক অব দিজ টাইপ অব কোয়েশ্চেন’।

এর আগে চলতি বছরের ১২ আগস্টে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী হতে আবেদন করেছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান (পান্না)। তবে আবেদনে সাড়া দেননি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। আদালতে আইনজীবী জেড আই খান পান্নার পক্ষে আবেদনটি উপস্থাপন করেছিলেন আইনজীবী নাজনীন নাহার।

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক থাকায় আইনের বিধান অনুসারে তাদের পক্ষে ২৪ জুন স্টেট ডিফেন্স (রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী) নিয়োগ দেওয়া হয়। সেই মামলায় ইতোমধ্যে আসামিদের দণ্ড হয়েছে।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৮-এর সাবেক বিশেষ পিপি ও আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবী আমির হোসেনকে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে নিয়োগ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

ওই দিন আইনজীবী নাজনীন নাহার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্না সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে একজন আইনজীবী হতে চেয়েছিলেন, সেটা আগেই আপনাদের জানিয়েছিলেন। পরে তিনি ট্রাইব্যুনাল বরাবর আবেদন করেছিলেন। যেহেতু আইনজীবী নিয়োগ হয়ে গেছে, সেক্ষেত্রে রেজিস্ট্রার অপরাগতা প্রকাশ করেন। তিনি (জেড আই খান পান্না) এই আবেদন ডাকযোগেও পাঠিয়েছিলেন। আজকে আমি জেড আই খান পান্নার পক্ষে আবেদনটি পুট ইন করেছিলাম কোর্টে। কোর্টকে ওনার ইচ্ছাটা জানিয়েছিলাম। কোর্ট বলেছেন—যেহেতু একজন আইনজীবী অলরেডি নিয়োগ হয়েছে, এটা এখন আর সম্ভব না। কোর্ট আরও যেটা বলেছেন যে, যেহেতু এটায় সময় নেই, অন্য কোনো মামলায় যদি দরকার হয় উনি বায়োডাটা সাবমিট করে আসতে পারেন।

আইনজীবী নাজনীন নাহার আরও বলেছিলেন, আমার প্রতি ওনার আরেকটা মেসেজ ছিল, আদালত যদি ওনাকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী না করেন তাহলে ওনাকে যেন অ্যাসিস্ট করার জন্য (আদালতকে আইনগত সহায়তা) অনুমতি দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রেও কোর্ট বলেছেন সম্ভব না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com