[ঢাকা, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬] দেশেই স্মার্টফোনের মাদারবোর্ড উৎপাদনে নতুন সারফেস
মাউন্ট টেকনোলজি (এসএমটি) লাইন চালু করেছে স্মার্ট হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।
এসএমটি লাইনে বিশেষায়িত যন্ত্রের সাহায্যে স্মার্টফোনের মাদারবোর্ডে সরাসরি
ইলেকট্রনিক উপাদান বসানো হয়। এর ফলে স্মার্টফোন উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ
এখন বাংলাদেশেই সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। এতে আমদানি করা যন্ত্রাংশ ও উপাদানের ওপর
নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
স্মার্ট হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড বাংলাদেশে অনার ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন উৎপাদন
করে। স্থানীয়ভাবে স্মার্টফোন উৎপাদনের এই পরিবর্তন এবং এর রপ্তানির সম্ভাবনা
যাচাইয়ে সিঙ্গাপুরের নানিয়াং বিজনেস স্কুলের এক্সিকিউটিভ এমবিএ প্রোগ্রামের চার
সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল স্মার্ট হাইটেকের কারখানা পরিদর্শন করেছে। বাংলাদেশে
স্মার্টফোন উৎপাদন কীভাবে রপ্তানির সুযোগ তৈরি করতে পারে, তা নিয়েও কাজ করছে
দলটি।
নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির স্প্যান ক্যাপস্টোন কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত
নয় মাসের প্রকল্প ‘প্রজেক্ট স্মার্টঅ্যাসেন্ড’-এর অংশ হিসেবে এ সফর অনুষ্ঠিত হয়।
প্রকল্পটি চলবে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। বাংলাদেশে স্মার্টফোন উৎপাদন বাড়ানো
এবং রপ্তানির বাজার গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কী ধরনের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা নিয়ে
কাজ করছে প্রতিনিধি দলটি।
এ বিষয়ে স্মার্ট হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ
জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘এ সফরের মাধ্যমে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা প্রতিষ্ঠানটির
উৎপাদনপ্রক্রিয়া ও বাজার পরিস্থিতি সরাসরি দেখার সুযোগ পেয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘এই কারখানা চালুর সময় আমরা বলেছিলাম, বাংলাদেশেই বিশ্বমানের ইলেকট্রনিক পণ্য তৈরি সম্ভব। নতুন এসএমটি লাইন সেই লক্ষ্যকে আরও এগিয়ে নিচ্ছে। আমরা শুধু ফোন সংযোজন করছি না, ফোন তৈরি করছি। আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য রপ্তানি। দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও অন্যান্য অঞ্চলে “মেড ইন বাংলাদেশ” স্মার্টফোন পৌঁছে দিতে চাই।’
নানিয়াংয়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকা গ্লেন লিম বলেন, কারখানা পরিদর্শন ও স্থানীয়
বাজার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দলের সদস্যরা স্মার্টফোন শিল্প সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা
অর্জন করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কারখানা পরিদর্শনের সুযোগ করে দেওয়ায় স্মার্ট হাইটেকের সবাইকে
ধন্যবাদ।’
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগে কারখানাটি চালু করে স্মার্ট হাইটেক।
সেখানে উৎপাদিত প্রথম অনার স্মার্টফোন ছিল অনার এক্স৬সি, যা ‘মেড ইন বাংলাদেশ’
পরিচয়ে বাজারে আসে।








