ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : আখচাষি পরিচয়ে সরকারি প্রণোদনার সাড়ে ১২ হাজার টাকা নিয়েছেন রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকালে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে ১৫ জন আখচাষি সরকারি প্রণোদনার চেক গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদও ছিলেন। তিনি ১২ হাজার ৫০০ টাকার চেক পেয়েছেন।
চেক পাওয়া অন্য ১৪ জন হলেন—আবদুল আউয়াল মালেক, আবদুল মান্নান মণ্ডল, ইমাজ উদ্দিন, মো. কাহার, গোলাম রব্বানী, সবিতা রানী, জালাল উদ্দিন মৃধা, জিয়াউল হক, মাহিদুল ইসলাম, আবদুল মাজেদ, নিরন্দ কুমার ঘোষ, শামীমুর রহমান, রিমা খাতুন ও রফিকুল ইসলাম।
চেক নেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। একজন সংসদ সদস্যের এই প্রণোদনা নেওয়া কতটা যৌক্তিক, সেই প্রশ্ন তুলেছেন কৃষক আন্দোলনের এক সংগঠক। তবে চাঁদের দাবি, তিনি এমপি হিসেবে নয়, একজন নিবন্ধিত আখচাষি হিসেবেই এই অর্থ পেয়েছেন।
মঙ্গলবার বিকালে রাজশাহীর জনসভায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে আখচাষিদের প্রণোদনার অর্থ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর দেশের ১৫টি সুগার মিল জোনের ১৫ জন আখচাষিকে মঞ্চে ডেকে প্রতীকী চেক দেওয়া হয়। প্রথমেই রাজশাহী সুগার মিলের আখচাষি হিসেবে চাঁদের নাম ঘোষণা করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে চেক নেন তিনি। পরে আরও ১৪ জন আখচাষি চেক গ্রহণ করেন। দেশের ১৫টি মিল জোনের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির হিসাবে মোট ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা পাঠানো হয়েছে।
চেক গ্রহণের পর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে ফেসবুকে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন আবু সাঈদ চাঁদ। তিনি লেখেন, ‘বংশপরম্পরায় আমার বাপ-দাদা থেকে শুরু করে আমি নিজেও দীর্ঘদিন ধরে আখ চাষ ও আখ সরবরাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ব্যক্তিগতভাবে আমি রাজশাহী সুগার মিলে শত শত গাড়ি আখ সরবরাহ করেছি। আগামীতেও করবো ইনশাআল্লাহ।’
তবে তার এই বক্তব্যেও সমালোচনা থামেনি। কৃষি ও কৃষক রক্ষা আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সংগঠক মাহমুদ জামাল কাদেরী প্রশ্ন তুলেছেন, একজন সংসদ সদস্যের কেন সরকারি এই প্রণোদনা নেওয়া প্রয়োজন। একজন সংসদ সদস্য তো অসচ্ছল কৃষক নন। তিনি কেন এই সামান্য সরকারি প্রণোদনা গ্রহণ করবেন?
কাদেরীর ভাষ্য, সরকার শতভাগ আখচাষিকে প্রণোদনা দেওয়ার কথা বললেও এ নিয়ে আমার সংশয় রয়েছে। জনপ্রতিনিধি হওয়ার পরও সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা রাজনৈতিক সংস্কৃতির দুর্বলতা প্রকাশ করে।
প্রধানমন্ত্রী যেখানে নানা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পরিহার করছেন, সেখানে একজন সংসদ সদস্যের এই অর্থ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সরকারি সুযোগ-সুবিধা বণ্টনে দলীয়করণের অভিযোগও করেন এই সংগঠক।
অভিযোগের জবাবে আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, ‘যারা এসব কথা বলছেন তারা বিষয়গুলো জানেন না। সুগার মিল থেকে তদন্ত হয়। যারা আখ চাষ করে, তারা প্রণোদনা পায়। গত বছর আমার ১৮-২০ বিঘা আখ ছিল। এবারও আছে। আমরা বাপ-বেটা মিলে ১৯ হাজার টাকা পেয়েছি। সেটা তো এমপি হিসেবে নয়। একজন আখচাষি হিসেবে পেয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে প্রতীকী চেক গ্রহণের জন্য তাকেই কেন নির্বাচন করা হলো এমন প্রশ্নে চাঁদ বলেন, ‘আমি নিতে চাইনি। ওরা (সুগার মিল কর্তৃপক্ষ) দিয়েছে। তাই নিতে হয়েছে।’
রাজশাহী সুগার মিলের উপমহাব্যবস্থাপক (কৃষি) তানজিমুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে চেক গ্রহণকারীদের নির্বাচন করতে মিল জোনের সব আখচাষির নাম কম্পিউটারে দেওয়া হয়েছিল। কম্পিউটার নামের আদ্যক্ষর অনুযায়ী তালিকা তৈরি করে। আবু সাঈদ চাঁদের নামের শুরুতে ‘আ’ থাকায় তালিকায় তার নাম প্রথমে আসে। এতে মিল কর্তৃপক্ষের আলাদা কোনও ভূমিকা ছিল না।
তানজিমুল ইসলাম আরও জানান, গত মৌসুমে আবু সাঈদ চাঁদ ২ একর ৫০ শতাংশ জমিতে আখের সঙ্গে সাথি ফসলের চাষ করেছেন। এ হিসাবেই তিনি সাড়ে ১২ হাজার টাকা প্রণোদনা পেয়েছেন। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আখ চাষ শুরু করতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাও এ প্রণোদনার উদ্দেশ্য। এ ছাড়া প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে নীতিমালার আরও কিছু শর্ত রয়েছে।
রাজশাহী সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা আক্তার জাহান বলেন, দেশের ১৫টি মিল জোনের কোনও আখচাষিই প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত হননি। আবু সাঈদ চাঁদও আখচাষি হিসেবে এই অর্থ পেয়েছেন। তিনি সংসদ সদস্য কি না, প্রণোদনা দেওয়ার ক্ষেত্রে তা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
তবে বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ) অ্যাডভোকেট শাহীন শওকত। তিনি বলেছেন, ‘আবু সাঈদ চাঁদ এমপি হলেও একজন নিবন্ধিত আখচাষি। তাকে এমপি হিসেবে বিবেচনা না করে একজন ব্যক্তি হিসেবে দেখলে বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ তিনি প্রণোদনা পেয়েছেন আখচাষি বা ব্যক্তি আবু সাঈদ চাঁদ হিসেবে।








