ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান জানিয়েছেন, বাংলাদেশের যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ আছে-গত সাত মাসে একটা গুম হয়নি, একটা রাজনৈতিক কর্মী গ্রেপ্তার হয়নি। একটা অত্যাচারিত হওয়ার ঘটনাও ঘটেনি।
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেছেন, বিরোধী দল সেই আওয়ামী লীগের স্টাইলে বক্তব্য দিচ্ছে। তারা লংমার্চ করছে। লংমার্চ করে বলে, এই মুহূর্তে সরকারের পতন ঘটাবো। লংমার্চ করে বলে, আমরা খুব তাড়াতাড়ি এক দফার ঘোষণা দেবো। কিসের এক দফা, কিসের সরকারের পতন? আওয়ামী লীগের সুরে বিরোধী দল কথা বলে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, বিএনপির একটা এমপি একটা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তো এই সাত মাসে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ আনতে পারেনি। আগামী দিনেও পারবে না। তাহলে কেন এই উশৃঙ্খলা আন্দোলন? আজকে বাংলাদেশের যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ আছে- গত সাত মাসে একটা গুম হয়নি, একটা রাজনৈতিক কর্মী গ্রেপ্তার হয়নি। একটা অত্যাচারিত হওয়ার ঘটনাও ঘটেনি। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, বিরোধী দল আপনারা গঠনমূলক রাজনীতি করুন, আমরা আপনাদের সহযোগিতা দেবো। জনগণ যে জাতীয় সংসদ তৈরি করে দিয়েছে, আপনাদের যত কথা, আপনারা জাতীয় সংসদে বলুন। সকল আন্দোলন, সকল আলোচনা, সকল সমস্যা, সকল ভুলত্রুটির কেন্দ্রবিন্দু হোক জাতীয় সংসদ। তবেই তো সংসদীয় রাজনীতি প্রতিষ্ঠা লাভ করবে।
আহমেদ আযম খান বলেন, সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন-আমি বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব। দিনরাত কাজ করেছেন, আর তার সহকর্মী হিসেবে আমরাও দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। আমরা সংসদে বিরোধী দলকে বারবার আহ্বান জানিয়েছি। আসুন- বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা নয়, আর জ্বালাও পোড়াও নয়। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হয়েছে, এবার আমরা একটি গণতান্ত্রিক দেশ গড়তে চাই। আমরা অর্থনীতিকে পুনর্র্নিমাণ করতে চাই। আমরা বিশ্ব দরবারে জাতিকে একটি সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড় করাতে চাই।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ আমরা দেখেছি, বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেত্রী যখন সরকার গঠন করলে আওয়ামী লীগ নেত্রী বলেছিল, এক মুহূর্তের জন্য শান্তিতে থাকতে দেবো না। বলেছিল না? বলেছিল। আর এই সুর এখনকার বিরোধী দল শুধু এতটুকুই বলছে না; এক মিনিটের জন্য শান্তিতে থাকতে দেবো না। কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ড ওইরকম, অর্থাৎ ওই সুর, ওই অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা। যে আসনগুলো পেয়েছেন, ধরে রাখার চেষ্টা করেন, নইলে এই ধরনের উসকানিমূলক কথা বললে, এভাবে অযথা লংমার্চ করলে, এক দফার আন্দোলনের কল্পকাহিনি বললে আগামী দিনে কিন্তু ওই কয়টা আসনও মানুষ দিবে না।
আপনাদের বলব, আপনারা গঠনমূলক রাজনীতি করুন। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর ‘মানি না, মানব না’ ও জ্বালাও পোড়াওয়ের রাজনীতি বাদ দিন। নতুন বাংলাদেশে নতুন রাজনীতি করুন-উল্লেখ করেন তিনি।








