ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সংসদে বললেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন, গণহত্যা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং বিদেশে পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিচারের আওতায় আনতে সরকার রাষ্ট্রের সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে আখতার হোসেন সম্প্রতি ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরেন। তার অভিযোগ, বৈষম্যবিরোধী জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার কারণে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাঁধনের ওপর হামলা চালান।
আখতার হোসেন জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জাতিসংঘের একটি কর্মসূচিতে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে গেলে তিনিও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জুলাই আন্দোলনে যুক্ত সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বিদেশে গেলে তাদের ওপর হামলা, হেনস্তা ও হুমকির ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি সংসদে উল্লেখ করেন।এসব ঘটনায় বিদেশের মাটিতে হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনতে সরকারের পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ সম্পর্কে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চান তিনি।
জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ইতালির ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগের ঘটনায় সরকার কঠোর কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সঙ্গে দেশে হত্যা, লুণ্ঠন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে বিদেশে পালিয়ে থাকা ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে অবস্থানরত শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকার কোনো দ্বিধা করবে না।
সংসদে নিজের প্রথম বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান হুমায়ুন কবির। বিদেশে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলার শামিল।
তিনি আরও বলেন, জনগণের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন, গণহত্যা ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত এবং বিদেশে পালিয়ে থাকা ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে।








