চিকিৎসক-রোগী উভয়ের নিরাপত্তাই সরকারের অগ্রাধিকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক : চিকিৎসক এবং রোগী—উভয়ের নিরাপত্তাই সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড এম এ মুহিত। তিনি বলেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা রোগী উভয়ের নিরাপত্তা নিয়েই সরকার অত্যন্ত সচেতন ও সক্রিয় এবং এ বিষয়ে ইতিমধ্যে নানা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।আজ সোমবার রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ আয়োজিত ‘৪৮তম (বিশেষ) বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার নবনিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের যোগদান ও ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।নবনিয়োগপ্রাপ্ত তরুণ চিকিৎসকদের উদ্দেশে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন,‘চিকিৎসক হিসেবে আপনারা গুরুদায়িত্ব নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়বেন। একদিকে চিকিৎসকদের সুরক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনই সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও সুচিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রক্ষা করাও সরকারের দায়িত্ব। আমরা এই দুই নিরাপত্তা নিয়েই অত্যন্ত চিন্তিত ও সচেতন।’

চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে ড. মুহিত বলেন, চিকিৎসকদের সুরক্ষায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ৫ হাজার আনসার সদস্য মোতায়েনের ঐতিহাসিক ও বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সামগ্রিক পরিবেশ উন্নত করার ওপরও জোর দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন,‘চিকিৎসা ব্যবস্থার গুণগত মান বাড়ানো, হাসপাতালের সামগ্রিক পরিবেশের উন্নতি এবং রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রশমিত হবে। মানুষের আক্ষেপের মূল কারণগুলো সমাধান করলেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দূর করা সম্ভব হবে।’

স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন,‘আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ বিনির্মাণে ২০টি সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে। ডাক্তারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এর একটিও বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আমরা ধ্বংসপ্রাপ্ত ভগ্ন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পেয়েছি, যেখানে দুর্নীতি, দালালের দৌরাত্ম্য ও অনিয়ম চেপে বসেছিল। কিন্তু বাস্তবতার ওপর দাঁড়িয়েই আমাদের এই ব্যবস্থাকে আমূল পরিবর্তন করতে হবে।’

নবীন বিসিএস কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড মুহিত বলেন, বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়া কোনো চূড়ান্ত গন্তব্য নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘ কর্মজীবনের সূচনা প্ল্যাটফর্ম।

চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা একই সঙ্গে চিকিৎসক এবং সরকারের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা। শুধু চিকিৎসা জানলেই চলবে না, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া, ই-টেন্ডারিং ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও শুরু থেকেই সম্যক জ্ঞান অর্জন করতে হবে। মাঠপর্যায়ে উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে দূরত্ব ঘুচিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।’

ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরে তিনি প্রযুক্তিবান্ধব ও গবেষণামুখী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, সরকার আধুনিক ‘ডিজিটাল হেলথ’ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। এই নতুন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং আগামী কয়েক দশক জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে নবীন চিকিৎসকদেরই নেতৃত্ব দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. এ এন এম বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেন প্রমুখ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» কৃষিমন্ত্রীর মায়ের মৃত্যু

» ১ লাখ ৬৪ হাজার ইয়াবাসহ দুজন আটক

» বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে ইতিবাচক আলোচনা: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

» অক্টোবরে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ের ত্রিদেশীয় লড়াই

» মানচিত্র নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট ট্রাম্পের, মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব আইসল্যান্ডের

» ‘চার কোটি মানুষকে সাক্ষরতার আলোয় আনতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা হবে আরও কার্যকর’

» নারিকেল গাছকে ‘ট্রি অব লাইফ’ বলা হয় কেন জানেন?

» পালং পাকোড়া তৈরি রেসিপি

» সন্ত্রাসীদের প্রতি নমনীয়তা দেখানোর ফলেই বাঁধনের ওপর হামলা: পাটওয়ারী

» সৌদি আরবে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ বাংলাদেশি নিহত

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

চিকিৎসক-রোগী উভয়ের নিরাপত্তাই সরকারের অগ্রাধিকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক : চিকিৎসক এবং রোগী—উভয়ের নিরাপত্তাই সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড এম এ মুহিত। তিনি বলেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা রোগী উভয়ের নিরাপত্তা নিয়েই সরকার অত্যন্ত সচেতন ও সক্রিয় এবং এ বিষয়ে ইতিমধ্যে নানা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।আজ সোমবার রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ আয়োজিত ‘৪৮তম (বিশেষ) বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার নবনিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের যোগদান ও ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।নবনিয়োগপ্রাপ্ত তরুণ চিকিৎসকদের উদ্দেশে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন,‘চিকিৎসক হিসেবে আপনারা গুরুদায়িত্ব নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়বেন। একদিকে চিকিৎসকদের সুরক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনই সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও সুচিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রক্ষা করাও সরকারের দায়িত্ব। আমরা এই দুই নিরাপত্তা নিয়েই অত্যন্ত চিন্তিত ও সচেতন।’

চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে ড. মুহিত বলেন, চিকিৎসকদের সুরক্ষায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ৫ হাজার আনসার সদস্য মোতায়েনের ঐতিহাসিক ও বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সামগ্রিক পরিবেশ উন্নত করার ওপরও জোর দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন,‘চিকিৎসা ব্যবস্থার গুণগত মান বাড়ানো, হাসপাতালের সামগ্রিক পরিবেশের উন্নতি এবং রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রশমিত হবে। মানুষের আক্ষেপের মূল কারণগুলো সমাধান করলেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দূর করা সম্ভব হবে।’

স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন,‘আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ বিনির্মাণে ২০টি সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে। ডাক্তারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এর একটিও বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আমরা ধ্বংসপ্রাপ্ত ভগ্ন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পেয়েছি, যেখানে দুর্নীতি, দালালের দৌরাত্ম্য ও অনিয়ম চেপে বসেছিল। কিন্তু বাস্তবতার ওপর দাঁড়িয়েই আমাদের এই ব্যবস্থাকে আমূল পরিবর্তন করতে হবে।’

নবীন বিসিএস কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড মুহিত বলেন, বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়া কোনো চূড়ান্ত গন্তব্য নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘ কর্মজীবনের সূচনা প্ল্যাটফর্ম।

চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা একই সঙ্গে চিকিৎসক এবং সরকারের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা। শুধু চিকিৎসা জানলেই চলবে না, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া, ই-টেন্ডারিং ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও শুরু থেকেই সম্যক জ্ঞান অর্জন করতে হবে। মাঠপর্যায়ে উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে দূরত্ব ঘুচিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।’

ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরে তিনি প্রযুক্তিবান্ধব ও গবেষণামুখী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, সরকার আধুনিক ‘ডিজিটাল হেলথ’ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। এই নতুন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং আগামী কয়েক দশক জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে নবীন চিকিৎসকদেরই নেতৃত্ব দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. এ এন এম বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেন প্রমুখ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com