ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক আজ

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক আজ অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ১২টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রস্তাব এবং সংশোধনের সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হবে। একই সঙ্গে সংশোধন প্রক্রিয়ার রোডম্যাপ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, কমিটির সদস্যদের কাছে ইতোমধ্যে বৈঠকের নোটিস পাঠানো হয়েছে। বৈঠকে সংবিধানের যেসব অনুচ্ছেদ সংশোধনের বিষয়ে বিভিন্ন মহল থেকে সুপারিশ এসেছে, সেগুলো নিয়ে প্রাথমিক মতবিনিময় হবে। এ ছাড়া কমিটির কার্যপদ্ধতি, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হতে পারে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ।

সংশ্লিষ্টদের মতে জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংবিধান সংস্কার প্রশ্নটি নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। নির্বাচনব্যবস্থা, রাষ্ট্রক্ষমতার ভারসাম্য, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কারের দাবি উঠেছে। বিশেষ কমিটি এসব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলার চেষ্টা করবে। তবে বিরোধী দলের প্রতিনিধি না থাকলে আলোচনা কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে সংবিধানের মতো মৌলিক বিষয়ে সর্বদলীয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে সংশোধন প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে। সংসদ সচিবালয়ের তথ্যমতে জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হওয়ার দুই দিন আগে, ১৩ জুলাই, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। বিরোধী দলের পাঁচ সদস্যের নাম না পাওয়ায় আপাতত ১২ সদস্য নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সরকারি দলের পাশাপাশি কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিও রয়েছেন। তবে বিরোধী জোটের জন্য নির্ধারিত আসনগুলো এখনো শূন্য। কমিটি গঠনের প্রতিবাদে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে।

তখন সংসদে জানানো হয়, বিরোধী দল চাইলে যেকোনো সময় কমিটিতে যোগ দিতে পারবে। এ অবস্থায় কমিটিকে কার্যকর ও অংশগ্রহণমূলক করতে বিরোধী দলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের পর এ পর্যন্ত ১৭ বার সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্র সংস্কারের জোরালো দাবি ওঠে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংবিধান, বিচার বিভাগ, পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), নির্বাচনব্যবস্থা, জনপ্রশাসনসহ ১১ খাত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসব কমিশনের সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ও সংলাপের পর ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ গৃহীত হয়।

পরে নভেম্বরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করেন, যার ভিত্তিতে গণভোট অধ্যাদেশ জারি হয়। ওই আদেশ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেওয়ার বিধান ছিল। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের ৭৭ জন সদস্য উভয় শপথ নিলেও সরকারি দল বিএনপি জোটের এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» জুলাই হারিয়ে যাওয়া বাংলাদেশকে ফিরিয়ে দিয়েছে: আবদুল হাই শিকদার

» স্বৈরাচার কোনো দিনও ফিরে আসেনি, হাসিনাও আসবে না: আমির হামজা

» পলাতক ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে জাতীয় ঐক্য দৃঢ় করতে হবে: মাহদী আমিন

» বিরোধীদল জুলাই সনদ মাইকে বাস্তবায়ন চায়, বাস্তবে নয়: মীর হেলাল

» ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগানের বিষয়ে রাশেদ খাঁন বললেন, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন

» ডকুমেন্টারিটা দেখলে মনে হতে পারে জুলাইয়ে বিএনপির দলীয় অভ্যুত্থান হয়েছে: সারজিস আলম

» হরমুজ নিয়ে সমঝোতার আভাস, তবে ট্রাম্পের জন্য সুখবর নয়

» জুলাই কারও একার নয়, বাংলাদেশের সব মানুষের: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী

» জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারবিরোধী ক্ষোভের বিস্ফোরণ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

» গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সংস্কৃতিচর্চার ভূমিকা অপরিসীম: আইনমন্ত্রী

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক আজ

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক আজ অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ১২টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রস্তাব এবং সংশোধনের সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হবে। একই সঙ্গে সংশোধন প্রক্রিয়ার রোডম্যাপ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, কমিটির সদস্যদের কাছে ইতোমধ্যে বৈঠকের নোটিস পাঠানো হয়েছে। বৈঠকে সংবিধানের যেসব অনুচ্ছেদ সংশোধনের বিষয়ে বিভিন্ন মহল থেকে সুপারিশ এসেছে, সেগুলো নিয়ে প্রাথমিক মতবিনিময় হবে। এ ছাড়া কমিটির কার্যপদ্ধতি, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হতে পারে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ।

সংশ্লিষ্টদের মতে জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংবিধান সংস্কার প্রশ্নটি নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। নির্বাচনব্যবস্থা, রাষ্ট্রক্ষমতার ভারসাম্য, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কারের দাবি উঠেছে। বিশেষ কমিটি এসব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলার চেষ্টা করবে। তবে বিরোধী দলের প্রতিনিধি না থাকলে আলোচনা কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে সংবিধানের মতো মৌলিক বিষয়ে সর্বদলীয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে সংশোধন প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে। সংসদ সচিবালয়ের তথ্যমতে জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হওয়ার দুই দিন আগে, ১৩ জুলাই, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। বিরোধী দলের পাঁচ সদস্যের নাম না পাওয়ায় আপাতত ১২ সদস্য নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সরকারি দলের পাশাপাশি কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিও রয়েছেন। তবে বিরোধী জোটের জন্য নির্ধারিত আসনগুলো এখনো শূন্য। কমিটি গঠনের প্রতিবাদে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে।

তখন সংসদে জানানো হয়, বিরোধী দল চাইলে যেকোনো সময় কমিটিতে যোগ দিতে পারবে। এ অবস্থায় কমিটিকে কার্যকর ও অংশগ্রহণমূলক করতে বিরোধী দলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের পর এ পর্যন্ত ১৭ বার সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্র সংস্কারের জোরালো দাবি ওঠে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংবিধান, বিচার বিভাগ, পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), নির্বাচনব্যবস্থা, জনপ্রশাসনসহ ১১ খাত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসব কমিশনের সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ও সংলাপের পর ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ গৃহীত হয়।

পরে নভেম্বরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করেন, যার ভিত্তিতে গণভোট অধ্যাদেশ জারি হয়। ওই আদেশ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেওয়ার বিধান ছিল। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের ৭৭ জন সদস্য উভয় শপথ নিলেও সরকারি দল বিএনপি জোটের এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com