শি পিয়ংইয়ংয়ে, ৭ বছর পর চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে নতুন বার্তা

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : দীর্ঘ সাত বছর পর অবশেষে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয় সফরে গেলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। কিম জং উনের আমন্ত্রণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে তার এই আগমন ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নতুন কৌতূহল, বিশেষ করে বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরে শি জিনপিং এবং তার স্ত্রী পেং লিউয়ানকে বহনকারী এয়ার চায়নার বিশেষ বিমানটি পিয়ংইয়ং বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন এবং তার স্ত্রী রি সল জু লাল গালিচা সংবর্ধনার মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান। দুই দেশের পতাকা, ফুল আর জনতার উপস্থিতিতে পুরো পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর।

২০১৯ সালের পর এই প্রথম উত্তর কোরিয়ায় সফর করছেন শি জিনপিং। একই সঙ্গে ২০২৬ সালে এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর, যা কূটনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। শির সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতা কাই কি।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনা প্রেসিডেন্ট বছরের প্রথম বিদেশ সফরের মাধ্যমে তার কৌশলগত অগ্রাধিকার স্পষ্ট করেন। সেই দিক থেকে পিয়ংইয়ংকে বেছে নেওয়া বেইজিংয়ের বার্তা পরিষ্কার করে দিচ্ছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বেইজিংয়ে আতিথেয়তা দেওয়ার পর এই সফর নতুন ভারসাম্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

২০২৬ সালটি চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে ‘বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সহায়তা চুক্তি’র ৬৫তম বার্ষিকী। এই চুক্তি এখনো চীনের একমাত্র আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তি হিসেবে টিকে আছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরে।

পশ্চিমা কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সম্পর্ক দ্রুত ঘনিষ্ঠ হয়েছে। পিয়ংইয়ং ইতোমধ্যে রাশিয়ার পক্ষে প্রায় ১১,০০০ সেনা এবং বিপুল গোলাবারুদ পাঠিয়েছে। এর বিনিময়ে তারা পেয়েছে জ্বালানি, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহায়তা।

এই প্রেক্ষাপটে অনেকেই মনে করছেন, রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার এই ঘনিষ্ঠতা যেন চীনের প্রভাবকে ছাপিয়ে না যায়, সেটি নিশ্চিত করতেই শি জিনপিংয়ের এই সফর। একই সময়ে দুই দেশের বাণিজ্যও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই চীন-উত্তর কোরিয়া বাণিজ্য ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

দুই দিনের এই সফরে শি জিনপিং ও কিম জং উনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা, কোরিয়ান উপদ্বীপের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কৌশল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন ও সিউলের ভূমিকাকে কেন্দ্র করে কী ধরনের কৌশল নেওয়া হবে, সেটিও আলোচনায় আসতে পারে।

সব মিলিয়ে, পিয়ংইয়ংয়ে শি জিনপিংয়ের এই সফর শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন এক বার্তার ইঙ্গিত বহন করছে। সূত্র: আল-জাজিরা 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

» ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধনের সময়সীমা ২৬ সেপ্টেম্বর

» স্থগিত থাকছে বদির জামিন

» সড়ক পরিবহন আইনে হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার

» বাজেট বাস্তবায়নে ছলচাতুরি করার অধিকার কারও নেই: চরমোনাই পীর

» যেভাবে ডাউনলোড করবেন ফেসবুক মেসেঞ্জারের সব চ্যাট হিস্ট্রি

» শি পিয়ংইয়ংয়ে, ৭ বছর পর চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে নতুন বার্তা

» পররাষ্ট্রনীতিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার : শামা ওবায়েদ

» ৭২’র সংবিধান কারও কাছে বেদবাক্য, আবার কারও কাছে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার মতো কিছু: আসিফ নজরুল

» ২০০ বোতল নিষিদ্ধ সিরাপ উদ্ধার

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

শি পিয়ংইয়ংয়ে, ৭ বছর পর চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে নতুন বার্তা

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : দীর্ঘ সাত বছর পর অবশেষে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয় সফরে গেলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। কিম জং উনের আমন্ত্রণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে তার এই আগমন ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নতুন কৌতূহল, বিশেষ করে বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরে শি জিনপিং এবং তার স্ত্রী পেং লিউয়ানকে বহনকারী এয়ার চায়নার বিশেষ বিমানটি পিয়ংইয়ং বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন এবং তার স্ত্রী রি সল জু লাল গালিচা সংবর্ধনার মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান। দুই দেশের পতাকা, ফুল আর জনতার উপস্থিতিতে পুরো পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর।

২০১৯ সালের পর এই প্রথম উত্তর কোরিয়ায় সফর করছেন শি জিনপিং। একই সঙ্গে ২০২৬ সালে এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর, যা কূটনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। শির সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতা কাই কি।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনা প্রেসিডেন্ট বছরের প্রথম বিদেশ সফরের মাধ্যমে তার কৌশলগত অগ্রাধিকার স্পষ্ট করেন। সেই দিক থেকে পিয়ংইয়ংকে বেছে নেওয়া বেইজিংয়ের বার্তা পরিষ্কার করে দিচ্ছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বেইজিংয়ে আতিথেয়তা দেওয়ার পর এই সফর নতুন ভারসাম্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

২০২৬ সালটি চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে ‘বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সহায়তা চুক্তি’র ৬৫তম বার্ষিকী। এই চুক্তি এখনো চীনের একমাত্র আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তি হিসেবে টিকে আছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরে।

পশ্চিমা কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সম্পর্ক দ্রুত ঘনিষ্ঠ হয়েছে। পিয়ংইয়ং ইতোমধ্যে রাশিয়ার পক্ষে প্রায় ১১,০০০ সেনা এবং বিপুল গোলাবারুদ পাঠিয়েছে। এর বিনিময়ে তারা পেয়েছে জ্বালানি, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহায়তা।

এই প্রেক্ষাপটে অনেকেই মনে করছেন, রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার এই ঘনিষ্ঠতা যেন চীনের প্রভাবকে ছাপিয়ে না যায়, সেটি নিশ্চিত করতেই শি জিনপিংয়ের এই সফর। একই সময়ে দুই দেশের বাণিজ্যও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই চীন-উত্তর কোরিয়া বাণিজ্য ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

দুই দিনের এই সফরে শি জিনপিং ও কিম জং উনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা, কোরিয়ান উপদ্বীপের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কৌশল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন ও সিউলের ভূমিকাকে কেন্দ্র করে কী ধরনের কৌশল নেওয়া হবে, সেটিও আলোচনায় আসতে পারে।

সব মিলিয়ে, পিয়ংইয়ংয়ে শি জিনপিংয়ের এই সফর শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন এক বার্তার ইঙ্গিত বহন করছে। সূত্র: আল-জাজিরা 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com