ছবি সংগৃহীত
লাইফস্টাইল ডেস্ক :বর্তমান হামের প্রকোপ বেড়েছে। আর তাই রোগ সম্পর্কে জানতে চান সবাই। হাম সম্পর্কে সাধারণ কিছু জিজ্ঞাসা এবং তার উত্তর চলুন জেনে নেওয়া যাক-
হাম একটি ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। এর নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই। সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা হলো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে হাম প্রতিরোধ। যেহেতু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে শিশুরা হামে আক্রান্ত বেশি হচ্ছে, তাই হামের টিকা সংক্রান্ত কিছু সাধারণ জিজ্ঞাসা ও উত্তর চলুন জেনে নিই-
প্রশ্ন: হামের কয় ধরনের টিকা বাজারে পাওয়া যায় (বাংলাদেশে)?
উত্তর: দুই ধরণের টিকা পাওয়া যায় (MR সরকারিভাবে ও MMR বেসরকারিভাবে)
প্রশ্ন: বাংলাদেশে হামের টিকা সাধারণত কত বয়সে দেওয়া হয়?
উত্তর: সরকারিভাবে ই.পি.আই শিডিউল অনুযায়ী দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়। প্রথম ডোজ নয় মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় ডোজ পনের মাস বয়সে।
প্রশ্ন: হাম প্রতিরোধে এই টিকার কার্যকারিতা কত?
উত্তর: নিয়মিত ২ ডোজ টিকা নিলে, হাম রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে টিকা ৯৭-৯৯% কার্যকরী।
প্রশ্ন: ৯ মাস বয়সের আগে শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয় না কেন?
উত্তর: মায়ের শরীর থেকে প্রাপ্ত (প্যাসিভ/পরোক্ষ) অ্যান্টিবডির মাধ্যমে নবজাতকের শরীরে তৈরি হওয়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শিশুকে সুরক্ষা দিয়ে থাকে।
প্রশ্ন: ৯ মাস বয়সের আগে শিশুকে হামের টিকা দেওয়া যাবে কি?
উত্তর: ক্ষেত্র বিশেষে ৬ মাসের পর হতে হামের টিকা দেওয়া যেতে পারে (যেমন: হামের প্রাদুর্ভাবের সময়, শিশুদের ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইনের সময়)। তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই পরবর্তীতে ৯ মাস এবং ১৫ মাসে বয়সে যথারীতি ২ ডোজ টিকা দিতে হবে।
প্রশ্ন: যদি কেউ ই.পি.আই শিডিউল অনুযায়ী টিকা না দিয়ে থাকেন, তবে করণীয় কি?
উত্তর: সম্পূর্ণ ২ ডোজ টিকা দিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে প্রথম ডোজের ন্যূনতম ১ মাস পরে দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে।
প্রশ্ন: আমার শিশুর বয়স ৩ বছর কিন্তু তাকে হামের টিকা দেওয়া হয়নি, সেক্ষেত্রে করণীয় কি?
উত্তর: সম্পূর্ণ ২ ডোজ টিকা দিতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথম ডোজের ন্যূনতম ১ মাস পরে দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে।
প্রশ্ন: আমার শিশুর বয়স ২ বছর কিন্তু তাকে হামের ১ম ডোজ টিকা দেওয়ার পর দ্বিতীয় ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়নি, সেক্ষেত্রে করণীয় কি?
উত্তর: যত দ্রুত সম্ভব ২য় ডোজ টিকা দিতে হবে।
প্রশ্ন: হামের ২ ডোজ টিকা দেওয়ার পর, বুস্টার ডোজ টিকা দেওয়ার প্রয়োজন আছে কি?
উত্তর: সম্পূর্ণ ২ ডোজ হামের টিকা দেওয়া থাকলে, বুস্টার ডোজ দেওয়ার কোনো দরকার নেই।
প্রশ্ন: কিশোর-কিশোরী অথবা বড়রা কি হামের টিকা নিতে পারবেন?
উত্তর: নিতে পারবেন, যদি ইতিপূর্বে হামের কোন টিকা গ্রহণ না করে থাকেন এবং Measles Serology test Negative হয়।
প্রশ্ন: কোন কোন ক্ষেত্রে হামের টিকা দেওয়া যাবে না?
উত্তর: গুরুতর-ভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া রোগী, গর্ভবতী নারী।
প্রশ্ন: হামের টিকা দেওয়ার পরেও কি হাম হতে পারে?
উত্তর: ২ ডোজ হামের টিকা নেওয়ার পরে হাম হওয়ার সম্ভাবনা খুবই খুবই কম বা অতি দুর্লভ, তবে যদি হয়েও থাকে তবে সেটি খুব স্বল্প মাত্রায় হয়।
প্রশ্ন: ভিটামিন-এ ক্যাপসুল কি হামের চিকিৎসা?
উত্তর: হাম হলে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল দিতে হবে। WHO এর নিয়ম অনুযায়ী হামের রোগীকে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল দিলে রাতকানা রোগ ও শিশু সংক্রামক ব্যাধির কারণে মৃত্যু হার অনেক কমে আসে।
প্রশ্ন: হামের রোগীর সংস্পর্শে আসলে post-exposure prophylaxis ভূমিকা আছে কি?
উত্তর: কিছু কিছু ক্ষেত্রে হামের রোগীর সংস্পর্শে (প্রথম বার) আসলে post-exposure prophylaxis (৬ দিনের মধ্যে) দিতে হয় এবং MMR Vaccine ও Immunoglobin ব্যবহার করা হয়।
প্রশ্ন: কোন কোন ক্ষেত্রে post-exposure prophylaxis দিতে হয়?
উত্তর: দ্রুত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া ব্যক্তির ক্ষেত্রে Immunoglobin দিতে হবে।
আরও কিছু জরুরি বিষয়
বয়স: জন্ম থেকে ৫ মাস পর্যন্ত Immunoglobin দিতে হবে, যদি মায়ের ২ ডোজ টিকা না দেওয়া না থাকে এবং মায়ের ইতোপূর্বে কখনো হাম না হয়ে থাকে, মায়ের measles IgG Negative হয়।
বয়স: ৬ থেকে ১৮ মাস (ইতোপূর্বে হামের কোন টিকা দেওয়া হয়নি)- MMR Vaccine (৭২ ঘণ্টার মধ্যে) অথবা Immunoglobin (৭২ ঘণ্টা থেকে ৬ দিনের মধ্যে)
গর্ভবতী নারী (ইতোপূর্বে হামের কোন টিকা দেওয়া হয়নি/ হাম হয়নি )- Immunoglobin (৬ দিনের মধ্যে)
আপনার শিশুকে নিয়মিত টিকা দিন ও যত্ন নিন এবং হামের কোন লক্ষণ দেখা দিলে অতি সত্তর নিকটস্থ হাসপাতাল অথবা শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিবেন।সূএ: ঢাকা মেইল ডটকম








