ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টার আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ফলে চুক্তি ছাড়াই বৈঠক শেষ করে ফিরে গেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
এই ব্যর্থতার পর ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন তিনটি কঠিন পথ খোলা রয়েছে। প্রথমত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনা চালিয়ে যাওয়া। দ্বিতীয়ত, আবারও যুদ্ধের পথে হাঁটা। তৃতীয়ত, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘ সংঘাতে জড়িয়ে পড়া।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, পরবর্তী পদক্ষেপ নিজেই ঘোষণা করবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বর্তমানে ফ্লোরিডায় অবস্থান করছেন।
ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের রেড লাইন স্পষ্ট করেছে এবং কোন বিষয়ে ছাড় দেওয়া সম্ভব সেটাও জানিয়েছে। কিন্তু ইরান সেই শর্ত মেনে নেয়নি।
বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেন, ইরানের উচিত সহজভাবে আত্মসমর্পণ করা। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, এমন সমঝোতা সহজ নয়। ওবামা প্রশাসনের সময় একটি বড় চুক্তি হতে প্রায় দুই বছর লেগেছিল।
এই আলোচনার মূল জট ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে। ইরান বলছে, আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় নিজ দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার তাদের আছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এ সুযোগ থাকলে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ খোলা রাখে।
৪০ দিনের সংঘাত এই অবস্থানকে আরও কঠোর করেছে। ফলে দুই পক্ষই এখন নিজেদের অবস্থানে অনড়।
যুদ্ধ আবার শুরু হলে তার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। নতুন করে সংঘাত শুরু হলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়বে, মূল্যস্ফীতিও আরও চাপের মুখে পড়বে। বর্তমানে যা ৩ দশমিক ৩ শতাংশে রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ক্ষয়ক্ষতি তাদের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তারা আপসহীন থাকবে।
শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষই মনে করছে, প্রথম দফার এই কূটনৈতিক লড়াইয়ে তারা এগিয়ে রয়েছে। তাই আপাতত কেউই ছাড় দিতে রাজি নয়। সূএ : নিউইয়র্ক টাইমস








