ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : হবিগঞ্জের মাধবপুরে চট্টগ্রাম থেকে আসা সিলেটগামী জ্বালানি তেলবাহী একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে কয়েকটি বগি উল্টে গেছে। তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় ১১ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়নি। দীর্ঘ সময় রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী ১৬ বগির একটি ডিজেলবাহী ট্রেন মনতলা এলাকায় পৌঁছালে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে অন্তত ৫টি ওয়েল ট্যাংকার বগি লাইনচ্যুত হয়। এর মধ্যে একটি বগি পাশের একটি সেতু থেকে ছিটকে খালে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় প্রায় ৫০০ মিটার রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর ট্যাংকারগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল বের হতে থাকে। এসময় স্থানীয় কিছু মানুষ জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। পরে পুলিশ, বিজিবি ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রাতে বিকট শব্দে কয়েকটি তেলবাহী বগি লাইন থেকে ছিটকে পড়ে। পরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসানকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় ম্যানেজার এবিএম কামরুজ্জামান। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ট্রেনের গতি ও রেললাইনের ত্রুটিসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বগিগুলোতে প্রায় দুই লাখ লিটার ডিজেল ছিল, যার মধ্যে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ জ্বালানি নষ্ট হয়েছে। এরই মধ্যে দুটি বগি উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণে সিলেট-ঢাকা রুটের উপবন এক্সপ্রেস, সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের উদয়ন এক্সপ্রেস এবং চট্টগ্রাম-সিলেট রুটের পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার কাজ শেষ করে রেললাইন স্বাভাবিক করতে দুপুর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।








