ছবি সংগৃহীত
ফিচার ডেস্ক :রমজান মাস মুসলিম বিশ্বের জন্য শুধু ধর্মীয় পালন নয়, সামাজিক সংহতি, উদারতা এবং খাদ্যের উৎসবও বয়ে আনে। তবে কিছু দেশে রমজানের উদযাপন একেবারেই আলাদা রূপ ধারণ করে। সিরিয়ার মতো দেশে রমজান উদযাপনের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো ইফতারের সময় কামান নিক্ষেপের ঐতিহ্য, যা স্থানীয়ভাবে ‘মিদফা আল ইফতার’ নামে পরিচিত।
এই প্রথার ইতিহাস বেশ আকর্ষণীয়। জানা যায়, এটি মূলত মিশরে শুরু হয়েছিল প্রায় ২০০ বছর আগে, যখন দেশটি অটোমান সাম্রাজ্যের শাসক খোশ কদমের অধীনে ছিল। একদিন সূর্যাস্তের সময় নতুন একটি কামান পরীক্ষা করার সময় ভুলবশত গোলা ছোড়া হয়। সেই মুহূর্তে কায়রো শহর জুড়ে সেই গোলার আওয়াজ হয়। মানুষ শুনে ধরে নেয়, হয়তো এটি উপবাস সমাপ্তির সংকেত। সেই ‘ভুল’ ক্রমেই রমজানের একটি স্থায়ী ঐতিহ্যে পরিণত হয়। পরবর্তীতে সিরিয়া ও লেবাননের মতো দেশেও এই প্রথা গ্রহণ করা হয়। আজকাল, সূর্যাস্তের ঠিক সময়ে কামান নিক্ষেপের আওয়াজ পুরো শহরকে ঘিরে ধরে, আর মানুষ তা শুনে ইফতার শুরু করে।

সিরিয়ার ইফতারের কামানের ঐতিহ্য লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। আজকাল বিশ্বজুড়ে অনেক পর্যটক এই অনন্য অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে সিরিয়া ও লেবানন ভ্রমণ করেন। মিদফা আল ইফতার শুধু একটি রীতিই নয়, এটি রমজানের সময় মানুষের মধ্যে ঐক্য এবং উৎসবের আনন্দ ছড়ানোর প্রতীক।
রমজানের সময় সিরিয়ায় ইফতার কেবল খাবার নয়, এটি সামাজিক মিলনের প্রতীক। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে পরিবার, প্রতিবেশী এবং বন্ধুরা একত্রিত হয়ে ইফতার সারিতে বসে। সাধারণত ইফতারের শুরু হয় খেজুর দিয়ে, যা ইসলামিক রীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খেজুরের সঙ্গে পান করা হয় পানি বা শরবত।
সিরিয়ার জনপ্রিয় ইফতার খাবারের মধ্যে রয়েছে হুমাস, তাবুলে, মসলাদার স্যুপ, গ্রিল করা মাংস ও ভাজা সবজি। এছাড়া কাতায়েফ এবং বাকলাভা মত মিষ্টি রান্না করা হয়, যা ইফতারের পরে পরিবারের সবাই মিলে উপভোগ করে। বিভিন্ন শহরে ইফতারের সময় স্থানীয় বাজার বা ‘সুক’ বসে, যেখানে মানুষ খাবারের উপকরণ এবং মিষ্টি কিনতে পারে।
ইফতারের কামান নিক্ষেপের ঐতিহ্য শুধু মজার নয়, এটি রমজানের সামাজিক ও ধর্মীয় দিককেও তুলে ধরে। কামানের শব্দ পুরো শহরকে এক সঙ্গে উদযাপনের অনুভূতি দেয়। সিরিয়ার রমজানে সন্ধ্যার আলো এবং বাজারের জীবন্ত দৃশ্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা সৃষ্টি করে।
এছাড়া সিরিয়ায় রমজানের সময় মসজিদে তারাবিহর নামাজে অংশ নেওয়া প্রচলিত। শিশুদের মধ্যে খাওয়া-দাওয়া ও উদারতা শেখানোর জন্য বিশেষ অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয় এখানে। এইসব মিলিত প্রচেষ্টা রমজানকে শুধু উপবাসের মাস নয়, বরং সামাজিক একতা, উদারতা এবং আনন্দের মাসে পরিণত করে। সূএ: জাগোনিউজ২৪.কমে








