‘প্রধানমন্ত্রী পুত্র’ থেকে যেভাবে বিএনপির একক নেতায় পরিণত হলেন তারেক রহমান

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক :  বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিকে এবার প্রথমবার নির্বাচনী লড়াইতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। মায়ের মৃত্যু ও দলের চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিক অভিষেকের পর তার নেতৃত্বেই দলের নির্বাচনী প্রচারণা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সমর্থকরা তাকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখলেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বিএনপি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এগুলোকে রাজনৈতিক অপপ্রচার হিসেবে দেখায়।

তারেক রহমান ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতির অভিযোগে আটক হন। আঠারো মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি পরিবারের সঙ্গে লন্ডনে চলে যান। প্রায় সতের বছর পর, ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে তিনি দলের নেতৃত্ব হাতে নেন। এর কয়েকদিনের মধ্যেই, ৯ জানুয়ারি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যানের পদে অভিষিক্ত হন। এর আগে তিনি লন্ডন থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৮ সালে তৎকালীন বগুড়া জেলা বিএনপির ইউনিটে যোগ দিয়ে। আনুষ্ঠানিকভাবে দলের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন ১৯৯১ সালে। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনের সময় দলের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা পালন করেন, যার মধ্যে হাওয়া ভবন কেন্দ্রীক নির্বাচনী প্রচারণা উল্লেখযোগ্য। ওই সময়ে তিনি সমান্তরাল নেতৃত্ব হিসেবে দৃষ্টিগোচর হন, যার কারণে পরে দুর্নীতির অভিযোগও ওঠে। তবে বিএনপি সব সময় এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক অপপ্রচার হিসেবে খারিজ করে।

২০০২ সালে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং পরে ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত হন। দলীয় কাজের জন্য তিনি তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রক্ষা করেন এবং দলের সংহতি ধরে রাখতে সক্ষম হন। বিদেশে থাকা সত্ত্বেও দলকে ধরে রাখার সক্ষমতা তাকে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করেছে। দেশে ফেরার পর তার নেতৃত্ব আরও দৃঢ় হয় এবং দলের নীতিনির্ধারণী কাজেও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দেশে প্রত্যাবর্তন। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা এবং মৃত্যু, তার বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে তার দেশে ফেরা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়ায়। দেশে ফিরে তিনি দলের একক নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন, যা দীর্ঘমেয়াদে দলের পরিচালনা ও নির্বাচনী সফলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন এবং একক নেতৃত্ব নেওয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিদেশে থেকে দলের সংহতি রক্ষা, দেশ ফেরার পর নেতৃস্থানীয় ভূমিকা গ্রহণ এবং এই নির্বাচনে নিজের অবস্থান প্রমাণ করা—এসব মিলিয়ে তার নেতৃত্ব রাজনৈতিক পরীক্ষার মুখোমুখি। বিএনপির প্রাক্তন মিত্র জামায়াতে ইসলামীকে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে সামনে রেখে এবার তার সিদ্ধান্ত, দলের ঐক্য রক্ষা এবং নির্বাচনী কৌশলই প্রতিফলন ঘটাবে তার রাজনৈতিক শক্তি ও প্রভাবের।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» সদাচরণের চেয়ে উত্তম কোনো আমল আছে কি?

» বাসচাপায় খানকার খাদেম নিহত

» কমেছে সোনার দাম

» আমি বিশ্বাস করি, আমাদের কষ্ট বৃথা যাবে না : আসিফ নজরুল

» কেমন চলছে বাংলাদেশ

» যুবককে কুপিয়ে হত্যা

» ইরানে মার্কিন ক্রু উদ্ধার অভিযানে ইসরায়েলের সহায়তা ছিল: নেতানিয়াহু

» ইলিশের দাম নাগালে আসবে যেভাবে, জানালেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

» মধ্যপ্রাচ্য থেকে দেশে ফিরল ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত মামুনের মরদেহ

» তারেক রহমানের সভাপতিত্বে নতুন সরকারের প্রথম একনেক সভা চলছে

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

‘প্রধানমন্ত্রী পুত্র’ থেকে যেভাবে বিএনপির একক নেতায় পরিণত হলেন তারেক রহমান

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক :  বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিকে এবার প্রথমবার নির্বাচনী লড়াইতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। মায়ের মৃত্যু ও দলের চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিক অভিষেকের পর তার নেতৃত্বেই দলের নির্বাচনী প্রচারণা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সমর্থকরা তাকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখলেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বিএনপি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এগুলোকে রাজনৈতিক অপপ্রচার হিসেবে দেখায়।

তারেক রহমান ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতির অভিযোগে আটক হন। আঠারো মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি পরিবারের সঙ্গে লন্ডনে চলে যান। প্রায় সতের বছর পর, ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে তিনি দলের নেতৃত্ব হাতে নেন। এর কয়েকদিনের মধ্যেই, ৯ জানুয়ারি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যানের পদে অভিষিক্ত হন। এর আগে তিনি লন্ডন থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৮ সালে তৎকালীন বগুড়া জেলা বিএনপির ইউনিটে যোগ দিয়ে। আনুষ্ঠানিকভাবে দলের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন ১৯৯১ সালে। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনের সময় দলের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা পালন করেন, যার মধ্যে হাওয়া ভবন কেন্দ্রীক নির্বাচনী প্রচারণা উল্লেখযোগ্য। ওই সময়ে তিনি সমান্তরাল নেতৃত্ব হিসেবে দৃষ্টিগোচর হন, যার কারণে পরে দুর্নীতির অভিযোগও ওঠে। তবে বিএনপি সব সময় এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক অপপ্রচার হিসেবে খারিজ করে।

২০০২ সালে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং পরে ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত হন। দলীয় কাজের জন্য তিনি তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রক্ষা করেন এবং দলের সংহতি ধরে রাখতে সক্ষম হন। বিদেশে থাকা সত্ত্বেও দলকে ধরে রাখার সক্ষমতা তাকে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করেছে। দেশে ফেরার পর তার নেতৃত্ব আরও দৃঢ় হয় এবং দলের নীতিনির্ধারণী কাজেও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দেশে প্রত্যাবর্তন। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা এবং মৃত্যু, তার বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে তার দেশে ফেরা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়ায়। দেশে ফিরে তিনি দলের একক নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন, যা দীর্ঘমেয়াদে দলের পরিচালনা ও নির্বাচনী সফলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন এবং একক নেতৃত্ব নেওয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিদেশে থেকে দলের সংহতি রক্ষা, দেশ ফেরার পর নেতৃস্থানীয় ভূমিকা গ্রহণ এবং এই নির্বাচনে নিজের অবস্থান প্রমাণ করা—এসব মিলিয়ে তার নেতৃত্ব রাজনৈতিক পরীক্ষার মুখোমুখি। বিএনপির প্রাক্তন মিত্র জামায়াতে ইসলামীকে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে সামনে রেখে এবার তার সিদ্ধান্ত, দলের ঐক্য রক্ষা এবং নির্বাচনী কৌশলই প্রতিফলন ঘটাবে তার রাজনৈতিক শক্তি ও প্রভাবের।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com