জনগণের কাছে ক্ষমা চাইলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতিকে কেন্দ্র করে গতবছর ডিসেম্বরে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানের জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

বুধবার রাজধানী তেহরানে দেশটির ইসলামি বিপ্লব ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি সরকারের ভুলত্রুটি স্বীকার করে নেন।

বিক্ষোভের ফলে সৃষ্ট ক্ষত কাটিয়ে ওঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, “আমরা জনগণের কণ্ঠস্বর শুনতে প্রস্তুত। আমরা জনগণের সেবক। দেশের মানুষের সঙ্গে কোনও রকম সংঘাত আমরা চাই না।”

ক্ষমা চেয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন, “দেশজুড়ে প্রতিবাদ আন্দোলন কঠোরহস্তে যেভাবে দমন করা হয়েছে, তাতে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। জনগণের কাছে আমরা লজ্জিত। ক্ষতিগ্রস্তদেরকে সাহায্য এবং ক্ষতিপূরণ দিতে আমরা দায়বদ্ধ।”

তবে ইরানে অস্থিরতা উসকে দেওয়ার জন্য তিনি দেশের শত্রুদের পরিচালিত ‘বিদ্বেষপূর্ণ অপপ্রচার’কে দায়ী করেন। বহির্বিশ্বের হুমকির মুখে ইরানে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান তিনি।

সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর কাছ থেকে ষড়যন্ত্রের মুখে ইরানে সংহতির ডাক দিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, “আমরা সবাই একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছি… আমাদের জাতিকে নিশানা করে চলমান সব য়ড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ। ইরানি জনগণের শক্তি ও ঐক্য আমাদের শত্রুর মনে উদ্বেগ তৈরি করে। আমাদেরকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।”

পামাণবিক আলোচনার বিষয়ে পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, তার সরকার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না এবং যে কোনও ধরনের যাচাই প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের তৈরি করা ‘অবিশ্বাসের দেয়াল’ পারমাণবিক আলোচনা সফল হতে দিচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির লাগাম টানতে সামরিক হামলার হুমকি অব্যাহত রেখেছেন।

ওয়াশিংটন ওই অঞ্চলে আরও একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর কথা বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা।

ইরানে বুধবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকায় অগ্নিসংযোগ এবং পদদলিত করার চিত্র দেখা গেছে। জনসভায় গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধে ভূপাতিত করা ইসরায়েলি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ এবং ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়।

দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির আহ্বানে সাড়া দিয়ে হাজারো মানুষ মিছিলে অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান।

ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনার জন্য ওমান সফর শেষে বর্তমানে কাতারে অবস্থান করছেন। কাতার ও ওমান দুই দেশই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বুধবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে, যেখানে তিনি ইরান বিষয়ে তার সরকারের উদ্বেগের কথা তুলে ধরবেন। সূত্র: আল-জাজিরা

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» কত টাকা বহন করা যাবে, এটা বলার এখতিয়ার আমার নেই: ইসি সচিব

» জামায়াত নেতাকে টাকাসহ আটকের পর আর কোনো ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়: তারেক

» তারেক রহমানকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়ালেন ৪ স্বতন্ত্র প্রার্থী

» কিছু আসনে বডি ক্যামেরার অস্বাভাবিক সংখ্যা নিয়ে জামায়াতের উদ্বেগ

» আমরা বিরোধী দলগুলোর আগ্রাসী কর্মকাণ্ডে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত: গাজী আতাউর রহমান

» চাঁদাবাজি ঠেকাতে চাঁদাবাজ.কম ওয়েবসাইট চালু করলেন পাটওয়ারী

» নিজেকে ভোট দিতে পারবেন না তাসনিম জারা ও ববি হাজ্জাজ

» ৭৪ লাখ টাকাসহ আটক হওয়া সেই জামায়াত নেতার হার্ট অ্যাটাক, সিসিইউতে ভর্তি

» ‘প্রধানমন্ত্রী পুত্র’ থেকে যেভাবে বিএনপির একক নেতায় পরিণত হলেন তারেক রহমান

» নির্বাচনে জঙ্গি হামলার শঙ্কা নেই, নাশকতা হলে কঠোর ব্যবস্থা : র‍্যাব ডিজি

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: ই-মেইল : [email protected],

মোবাইল :০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

জনগণের কাছে ক্ষমা চাইলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতিকে কেন্দ্র করে গতবছর ডিসেম্বরে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানের জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

বুধবার রাজধানী তেহরানে দেশটির ইসলামি বিপ্লব ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি সরকারের ভুলত্রুটি স্বীকার করে নেন।

বিক্ষোভের ফলে সৃষ্ট ক্ষত কাটিয়ে ওঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, “আমরা জনগণের কণ্ঠস্বর শুনতে প্রস্তুত। আমরা জনগণের সেবক। দেশের মানুষের সঙ্গে কোনও রকম সংঘাত আমরা চাই না।”

ক্ষমা চেয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন, “দেশজুড়ে প্রতিবাদ আন্দোলন কঠোরহস্তে যেভাবে দমন করা হয়েছে, তাতে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। জনগণের কাছে আমরা লজ্জিত। ক্ষতিগ্রস্তদেরকে সাহায্য এবং ক্ষতিপূরণ দিতে আমরা দায়বদ্ধ।”

তবে ইরানে অস্থিরতা উসকে দেওয়ার জন্য তিনি দেশের শত্রুদের পরিচালিত ‘বিদ্বেষপূর্ণ অপপ্রচার’কে দায়ী করেন। বহির্বিশ্বের হুমকির মুখে ইরানে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান তিনি।

সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর কাছ থেকে ষড়যন্ত্রের মুখে ইরানে সংহতির ডাক দিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, “আমরা সবাই একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছি… আমাদের জাতিকে নিশানা করে চলমান সব য়ড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ। ইরানি জনগণের শক্তি ও ঐক্য আমাদের শত্রুর মনে উদ্বেগ তৈরি করে। আমাদেরকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।”

পামাণবিক আলোচনার বিষয়ে পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, তার সরকার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না এবং যে কোনও ধরনের যাচাই প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের তৈরি করা ‘অবিশ্বাসের দেয়াল’ পারমাণবিক আলোচনা সফল হতে দিচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির লাগাম টানতে সামরিক হামলার হুমকি অব্যাহত রেখেছেন।

ওয়াশিংটন ওই অঞ্চলে আরও একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর কথা বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা।

ইরানে বুধবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকায় অগ্নিসংযোগ এবং পদদলিত করার চিত্র দেখা গেছে। জনসভায় গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধে ভূপাতিত করা ইসরায়েলি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ এবং ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়।

দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির আহ্বানে সাড়া দিয়ে হাজারো মানুষ মিছিলে অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান।

ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনার জন্য ওমান সফর শেষে বর্তমানে কাতারে অবস্থান করছেন। কাতার ও ওমান দুই দেশই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বুধবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে, যেখানে তিনি ইরান বিষয়ে তার সরকারের উদ্বেগের কথা তুলে ধরবেন। সূত্র: আল-জাজিরা

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: ই-মেইল : [email protected],

মোবাইল :০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com