ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম দাবি করেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইসলামের পক্ষে একমাত্র ভোটের প্রতীক হলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বরিশালের মেঘনা ঘেরা মেহেন্দীগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা পার্কে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। বরিশাল-৪ (মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলা) আসনের দলীয় প্রার্থী চরমোনাই পীরের ভাই সৈয়দ এছহাক মোহাম্মদ আবুল খায়েরের সমভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন চরমোনাই পীরের আরেক ভাই দলের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির বরিশাল-৫ ও ৬ আসনের প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।
সভায় ভাইয়ের পক্ষে হাতপাখা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করে চরমোনাই পীর বলেন, যারা নিজেদের মুসলমান বলে পরিচয় দেন, তাদের জন্য নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। ইসলামের পক্ষে অবস্থান নিতে হলে তা ভোটের মাধ্যমেই স্পষ্ট করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যে বিশেষভাবে নারী ভোটার, যুবক, ছাত্র, প্রথমবারের ভোটার এবং প্রবীণদের প্রতি আহ্বান জানান চরমোনাই পীর। তাঁর মতে, এই নির্বাচনে ভোট কেবল রাজনৈতিক পছন্দের বিষয় নয়, এটি আদর্শিক অবস্থান প্রকাশেরও একটি মাধ্যম।
চরমোনাই পীর আরো বলেন, ইসলামী আন্দোলন ক্ষমতার জন্য নয়, পরিবর্তনের রাজনীতি করে।
উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি নিজে কোনো আসনে প্রার্থী নই। তবু পাগলের মতো দিন-রাত ঘুরছি। কারণ সমাজের যন্ত্রণার খবর আমার কাছে এলে আমি চুপ থাকতে পারি না।’ তিনি বলেন, ‘যখন কোনো মা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার সন্তান কয়েক দিন ধরে আমাকে মা বলে ডাকছে না, সেই আর্তনাদ আমি সহ্য করতে পারি না।
যখন দেখি আমার ভাইয়েরা কারাগারে মারা যাচ্ছে, সেটাও আমি সহ্য করতে পারি না।’
বক্তব্যে বিদেশি প্রভাবের সমালোচনা করে রেজাউল করীম বলেন, ‘বিদেশের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী বাংলাদেশের বাস্তবায়ন হচ্ছে, এটাও আমি মেনে নিতে পারি না। এসব পরিবর্তনের লক্ষ্যেই আমরা রাজনীতি করি, সারা দেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার জন্য আমাদের এই রাজনীতি।’
দলের এই শীর্ষ নেতা বলেন, দেশে বহু রাজনৈতিক দল থাকলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ঘাঁটি বরিশাল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামী আদর্শভিত্তিক রাজনীতির ক্ষেত্রে বরিশাল একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
১৯৮৭ সালে ইসলামী আন্দোলন প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে চরমোনাই পীর বলেন, কেবল ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করলে দলটি অনেক আগেই সংসদ বা মন্ত্রিসভায় পৌঁছাতে পারত। তাঁর মতে, সমাজের অন্যায়, অবিচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াই এই রাজনীতির মূল লক্ষ্য।
শেষ পর্যায়ে বক্তারা শান্তি ও ন্যায়ের প্রতীক হিসেবে হাতপাখা প্রতীকের কথা উল্লেখ করেন এবং প্রার্থীর জন্য সবার দোয়া কামনা করেন।








