ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে নারীরা সবচেয়ে নিরাপদ থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি আবু সাদিক কায়েম। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘যাদের নিজেদের নেতাকর্মীরাই নিরাপদ নয়, তারা দেশকে কীভাবে নিরাপত্তা দেবে?’
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর ফুটবল মাঠে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সাদিক কায়েম বলেন, বিগত শাসনমলে দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে জনগণের জানমাল ও সম্পদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি ‘ন্যায় ও ইনসাফ’-এর পক্ষে ভোট দিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এইচ. এম. আব্দুল হালিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল জাহিদুল ইসলাম (সিবগাতুল্লাহ)।
সভায় আরও বক্তব্য দেন খুলনা অঞ্চলের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর শহীদুল ইসলাম মুকুল ও সেক্রেটারি আজিজুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, দেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। তারা শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে। আসন্ন নির্বাচনে জনগণ ভোটের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ, দখলদার ও চাঁদাবাজদের প্রত্যাখ্যান করবে। জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ইশতেহারকে বাস্তবসম্মত ও বিজ্ঞানভিত্তিক উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, কৃষি উন্নয়ন ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি পুনব্যক্ত করেন।
ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম তার বক্তব্যের শুরুতে জুলাই আন্দোলনে নিহত শরীফ ওসমান হাদীর হত্যার বিচারের দাবিতে স্লোগান দেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সময়ে সাতক্ষীরার মানুষের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয়েছে। তাই আগামী নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি আসনেই জামায়াত প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।
জনসভায় শ্যামনগরের উপকূলীয় এলাকার নানাবিধ সমস্যাও উঠে আসে। বক্তারা নদীভাঙন রোধ, জলাবদ্ধতা নিরসন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দাবি জানান। সেই সঙ্গে রেললাইন স্থাপন, সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের বিকাশ, সড়ক ও সেতুর উন্নয়ন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার জোরালো দাবি জানানো হয়।








