ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনিদের পুরান ঢাকার ওয়ারী এলাকার বাসায় গিয়ে তাদের পরিবারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জামায়াত মনোনীত ও ১১ দল সমর্থিত ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ড. মুহাম্মাদ আব্দুল মান্নান। সাক্ষাৎকালে তিনি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন এবং নিহত সাংবাদিক সাগর সরওয়ারের মায়ের কাছে দোয়া নেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে জামায়াতের এই প্রার্থীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সাক্ষাৎকারের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বলেন এবং তাদের দেশপ্রেমিক সাংবাদিক হিসেবে উল্লেখ করেন। পরে বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেন।
সাক্ষাৎকারে আব্দুল মান্নান বলেন, তিনি সাগর-রুনির আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। তার ভাষায়, সাগর-রুনি ছিলেন দেশপ্রেমিক, আর দেশপ্রেমিক হওয়ার কারণেই তাদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই তাদের দলের অবস্থান। তারা রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে চান এবং সে লক্ষ্যেই কাজ করছেন।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় ভোটের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। যেন কোনো দল একক ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ফ্যাসিস্টে পরিণত হতে না পারে, এটাই তাদের লক্ষ্য। আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একক ক্ষমতা হাতে থাকার কারণেই তারা ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠেছিল, যার ফলে গুম, খুন ও নানা নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। তিনি দাবি করেন, কোনো দলই যেন ভবিষ্যতে এমন একক ক্ষমতা না পায়, সেটাই তারা নিশ্চিত করতে চান।
এদিকে ঢাকার আদালত সূত্রে জানা গেছে, বহুল আলোচিত সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি।
জানা গেছে, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তের শুরুতে দায়িত্ব ছিল স্থানীয় থানার এক উপ-পরিদর্শকের ওপর। পরে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ সময় তদন্ত চালিয়েও রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হলে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলাটির তদন্তভার র্যাবের কাছে দেওয়া হয়।
তবে র্যাবের তদন্তেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলাটির তদন্তে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ র্যাবকে তদন্ত থেকে অব্যাহতি দিয়ে ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেন।
এর ধারাবাহিকতায় ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
৫ জানুয়ারি মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল হক নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হন। ফলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। এ নিয়ে ১২৩ বারের মতো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় বাড়ানো হলো।








