ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে শুরু হওয়া ভোটের প্রচারণায় প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে দলীয় প্রচারণায় ধর্মকে না জড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ হলেও সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই এ দেশের মূল শক্তি, তাই রাজনৈতিক দলবাজির মধ্যে ধর্মকে টেনে আনা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণাকালে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব বলেন সানজিদা ইসলাম তুলি।
সানজিদা তুলি বলেন, বাংলাদেশ একটি মুসলিম প্রধান দেশ হলেও এ দেশের মূল শক্তি হলো সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। এই দেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সবাই যুগের পর যুগ একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। আমরা ছোটবেলা থেকেই এই সহাবস্থানের সংস্কৃতি দেখেই বড় হয়েছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে গত এক বছরে রাজনীতির দলবাজির মধ্যে ধর্মকে টেনে আনার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা আমরা কোনোভাবেই আশা করি না।
বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, রাজনীতি কোনো লুকিয়ে রাখার বিষয় নয়। রাজনীতি জনগণের জন্য, জনগণের কল্যাণের জন্য। জনগণের কাছ থেকে একটি ম্যান্ডেট নিয়ে রাজনীতি করতে হয়—এই ম্যান্ডেটের মাধ্যমেই জনগণের জন্য কী করা হবে, সেটাই রাজনীতির মূল কথা। কিন্তু এই রাজনীতির ভেতরে ধর্মকে ঢুকিয়ে দেওয়া হলে সমাজে বিভাজন তৈরি হয়, যা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। প্রত্যেক ধর্ম-বর্ণের মানুষ যেন সুন্দরভাবে, নিরাপদভাবে এবং প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।
নির্বাচনি প্রচারণার বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বিএনপির এই নারী প্রার্থী বলেন, ঢাকা-১৪ আসনের এলাকা আয়তনে অনেক বড়। কিন্তু সে তুলনায় হাতে সময় অনেক কম। তারপরও দলের নেতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও সাধারণ কর্মীদের নিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করে জনগণের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। জনগণের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেলে দেখা যায়, মানুষ প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলতে পারলে নিজেদের অনেক বেশি সংযুক্ত মনে করে। সাধারণ ভোটারদের কাছে গিয়ে তিনি দেখেছেন, ধানের শীষের সঙ্গে সাধারণ মানুষের কানেকটিভিটি অত্যন্ত দৃঢ়।
সানজিদা তুলি বলেন, আমরা মানুষের সঙ্গে খুব সরাসরি কথা বলছি। আমরা কী নিয়ে আসতে চাই, কেন মানুষ আমাদের সঙ্গে থাকবে—এই বিষয়গুলো আমরা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরছি। এখানে লুকানোর কিছু নেই, ঘুরিয়ে বলার কিছু নেই। রাজনীতি কোনো গোপন বিষয় নয়। রাজনীতি জনগণের জন্য, জনগণের কল্যাণের জন্য। জনগণ এখন অনেক সচেতন, তারা বুঝে গেছে কারা কী করতে চায়।
সানজিদা বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সবসময় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন নিয়ে তিনবার সফল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ পরিচালনা করেছেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই বিএনপি রাজনীতি করে আসছে। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে দিকনির্দেশনা ও নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, সেগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ, জনগণের শক্তিতেই ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হবে।
ধর্মের প্রসঙ্গ তুলে সানজিদা তুলি বলেন, রাজনীতির মধ্যে ধর্মকে টেনে আনা যাবে না। আমরা মুসলিম প্রধান দেশ হলেও প্রত্যেক ধর্ম ও বর্ণের মানুষের অধিকার সমান। সবাই যেন খুব ভালোভাবে সহাবস্থান করতে পারে—এই সংস্কৃতিই আমাদের পরিচয়। কিন্তু গত এক বছরে যেভাবে দলবাজির মধ্যে ধর্মকে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটি আমরা প্রত্যাশা করি না। আমরা চাই, সব মানুষ যেন একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে।
নির্বাচিত হলে নিজের অঙ্গীকারের কথা জানিয়ে সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, নির্বাচিত হলে আমি ঢাকা-১৪ আসনকে একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করব। এই এলাকাকে মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংমুক্ত করতে আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে। একই সঙ্গে যানজট নিরসন ও জনদুর্ভোগ কমানো, তুরাগ নদী রক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষা, পানি ও গ্যাস লাইনের সংস্কার, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, মসজিদ ও স্কুলের দখলকৃত জমি উদ্ধার, ট্রাস্ট আধুনিক হাসপাতাল পুনরায় চালু করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ কর্মসূচি এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে আমি কাজ করব। দেশকে আবারও গণতন্ত্র ও সুশাসনের ধারায় ফিরিয়ে আনতে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই ইনশাআল্লাহ ধানের শীষকে বিজয়ী করা সম্ভব হবে।








