ছবি সংগৃহীত
আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু :ভোট দিয়ে কী পায় জনগণ? স্বাধীনতার ৫৫ বছরে জনগণ তো কম ভোট দেয়নি। কী পেয়েছে তারা? কিছুই না। কখনো পায় না। কবে কখন কী পাবে, তা-ও তারা জানে না। তবু তারা ভোট দেয়। তাদের বোঝানো হয়েছে, ভোট মানেই গণতন্ত্র এবং ‘গণতন্ত্র’ শব্দটিকে তারা ভালোবাসে। ধর্মানুসারী হিসেবে মুসলমানরা যেমন কালিমা-‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ’ জানে, হিন্দুরা গায়ত্রী মন্ত্র- ‘ওম ভোর ভাওয়া সোয়াহা, তাতসাভিতুর ভারেনিয়াম-’ জানে; তেমনি স্বাধীন সার্বভৌম ‘জনগণতান্ত্রিক বাংলাদেশ’-এর নাগরিক হিসেবে জনগণ জানে গণতন্ত্র।
অতএব তারা ভোট দেয়। সৃষ্টিকর্তাকে সন্তুষ্ট করে ‘বেহেশত’ বা ‘বৈকুণ্ঠ’ লাভের জন্য ‘কালিমা’ ও ‘গায়ত্রী মন্ত্র’ আবশ্যক। দেশের প্রভু বা প্রভুসমষ্টিকে সন্তুষ্ট করে জনগণের সামষ্টিক চাওয়াপাওয়ার জন্য যে চর্চার প্রয়োজন তা ‘গণতন্ত্র’ অর্থাৎ ‘ভোট’। অতএব আরেকটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একেবারেই দোরগোড়ায় এসে পড়েছে। দুই বছর এক মাস পাঁচ দিন পর দ্বিতীয়বারের মতো জনগণ ভোট দেবে।
‘ভোট দেওয়া’ আসলে যথার্থ গণতান্ত্রিক শব্দ নয়, বরং বলা উচিত, জনগণ ‘স্বাধীনভাবে’ তাদের ‘ভোটাধিকার’ প্রয়োগ করবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই ভোট জনগণের দেওয়ার কথা ছিল ২০২৯ সালে। কিন্তু সবকিছু ঠিকঠাক থাকে না। গত নির্বাচনের পর বিতাড়িত অথবা পলাতক এবং বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে কোনো কিছু ঠিকঠাক ছিল না।
ঠিক থাকার কথাও নয়। ছলেবলে কৌশলে বারবার ক্ষমতা দখল করে রক্তে মাংসে গড়া দেহ এবং হিংসাদ্বেষে ভরা হৃদয় নিয়ে, তদুপরি পিতৃ-মাতৃ-ভ্রাতা হত্যাকারীদের ওপর প্রতিশোধ চরিতার্থ করার ক্রোধ নিয়ে কেউ যদি টানা চারবার একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হন, তাহলে তাঁর প্রতিহিংসাপরায়ণতা ও দম্ভ যে কত ভয়াবহ হতে পারে দেশবাসী তা প্রত্যক্ষ করেছে।
শেখ হাসিনা তাঁর পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের মতোই দম্ভোক্তিপূর্ণ ‘আমি’ ও ‘আমার’ শব্দ দুটির দাসে পরিণত হয়েছিলেন। দেশের স্বাধীনতা থেকে শুরু করে সবকিছুর মধ্যে তিনি তাঁর পিতার সংগ্রাম ও স্বপ্ন খুঁজে পেতেন। তিনি তসবিহ জপার মতো বলতেন, ‘আমি মোবাইল দিয়েছি, আমি টেলিভিশন চ্যানেল দিয়েছি, আমি ইন্টারনেট দিয়েছি; এবং ‘এই দেশ আমার বাবার দেশ,’ ‘আমার বাবা ছাড়া এই দেশ স্বাধীন হতো না,’ ‘দেশের জন্য আমার বাবা জীবনের অর্ধেক সময় জেলে কাটিয়েছেন।’ সেনাবাহিনীর অফিসারদের বলতেন, ‘আমার বাবা দেশ স্বাধীন করেছিল বলে আজ মেজর থেকে মেজর জেনারেল, তা না হলে পাঞ্জাবিদের লাথি খেতে হতো,’ ইত্যাদি।
তাঁর দাবিগুলো অর্ধসত্য। যেসব দেশে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন না, ওই সব দেশ স্বল্প রক্তপাতে অথবা রক্তপাত ছাড়াই স্বাধীন হয়েছে। এ কথা সত্য, শেখ মুজিব অনেক মেয়াদে প্রায় ১৩ বছর কারাগারে ছিলেন। ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাসংগ্রামী ‘সীমান্ত গান্ধী’ নামে খ্যাত খান আবদুল গাফফার খান কারাগারে কাটিয়েছেন প্রায় ৩৭ বছর, মহাত্মা গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের কারাগারে কাটিয়েছেন সাড়ে পাঁচ বছর। তাঁদের দুজন ক্ষমতা থেকে দূরে থাকাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। কাশ্মীরের শেখ আবদুল্লাহ ও নেহরুর কারাজীবন ছিল যথাক্রমে ২০ ও ৯ বছর। উভয়েই ক্ষমতাপ্রত্যাশী ছিলেন। অতএব ত্যাগ স্বীকারের পেছনে উদ্দেশ্য কী, তা বিচার্য বিষয় হওয়া উচিত-দেশ ও জনগণের স্বার্থ অথবা ক্ষমতার মসনদে অধিষ্ঠিত হওয়া! বিশ্বের আরও বহু দেশের অনেক নেতা আরও দীর্ঘকাল কারাগারে কাটিয়েছেন।
শেখ মুজিবুর রহমান তবু ‘কষ্ট করে কেষ্ট লাভ’ করেছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনাকে সেই কষ্ট করতে হয়নি। পিতার কষ্টে অর্জিত ‘কেষ্ট’ অনায়াসে তাঁর কোলে এসে পড়েছিল। তাঁকে কারাবাস করতে হয়নি। ১৯৭৫-৮১ সালে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে স্বেচ্ছা-নির্বাসনে ছিলেন। ২০০৭-০৮ সালে বছর খানেক তাঁকে আটক রাখা হয়েছিল জাতীয় সংসদ কমপ্লেক্সে ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনে।
অন্যদিকে শেখ হাসিনার চার মেয়াদের প্রধানমন্ত্রিত্বের পুরো ১৬ বছর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তুচ্ছ মামলার প্রতিহিংসামূলক বিচারে দীর্ঘদিন কারাগারে কাটাতে হয়েছে। এর আগে এক-এগারোর সরকার খালেদা জিয়াকে শেখ হাসিনার মতো জাতীয় কমপ্লেক্সের আরেকটি ভবনে ৩৭২ দিন আটক রেখেছিল। সেই অর্থে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় কারাবরণকারী রাজনীতিবিদ এবং শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে কারাগারেই বেগম জিয়ার মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী ছিল। শেখ হাসিনা পুনরায় স্বেচ্ছ-নির্বাসনে আছে এবং নির্বাসনস্থল অভিন্ন- ভারতের রাজধানী দিল্লি।
ভোট প্রসঙ্গে ফিরে আসি। শেষবার অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২২৪ আসনে বিজয়ী হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে গঠিত সরকারকে যদি ওই সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের স্বাধীন ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে গঠিত ‘জনগণের দ্বারা জনগণের জন্য জনগণের সরকার’ বলে দাবি করেন, তাহলে ওই তত্ত্বের জনক আমেরিকান প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন সরকার সম্পর্কে তাঁর সংজ্ঞার ফ্যাসিবাদী ব্যবহার দেখে কবরে পাশ ফিরে শোবেন। শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে ভোটের প্রয়োজন পড়েনি। কষ্ট করে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে হয়নি। প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং বিনা ভোটে বিজয়ী ঘোষিত হয়েছেন।
২০১৪ ও ২০১৮ সালে যেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাবিহীন ভোটারশূন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, ২০২৪-এর জানুয়ারির নির্বাচনেও এর কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনের দিন সাংবাদিকদের কাছে ভোটার উপস্থিতির ওপর সারা দেশ থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রথমে জানান যে ভোটার উপস্থিতি ছিল ভোটসংখ্যার ২৮ শতাংশ, অর্থাৎ এক-চতুর্থাংশের কিছু বেশি। সহজ হিসাবে ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৮৯ হাজার ২৮৯ জন ভোটারের মধ্যে মাত্র ৩ কোটি ৩৫ লাখ ১৩ হাজার ভোটার ভোট দিয়েছেন।
এর আগের নির্বাচন ২০১৮ সালে যেখানে ভোটার উপস্থিতি দেখানো হয়েছিল ৮০ শতাংশ, সে ক্ষেত্রে ২০২৪ সালে মাত্র ২৮ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি জনগণকে হজম করানো কঠিন হতে পারত, যদি না প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভোটার উপস্থিতি ২৮ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীত করার ঘোষণা দিতেন। দ্বিতীয় দফায় ঘোষিত প্রদত্ত ভোটের ৭৫ শতাংশই পেয়েছিল আওয়ামী লীগ। ভোটারসংখ্যা কীভাবে বাড়ে, কীভাবে কমে তা সবাই জানে। সংখ্যার হ্রাসবৃদ্ধির খেলায় আওয়ামী লীগের চেয়ে পাকা রাজনৈতিক খেলোয়াড় বাংলাদেশে বিরল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার ভুল একবারই করেছিল, ২০০১ সালে। ২০০৮-এর নির্বাচনের পর তারা আর সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করেনি। ২০২৪-এর জুলাই-আগস্টের বিপ্লব না ঘটলে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের স্বাধীনতার শতবার্ষিকী উদ্যাপন পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার ছক কাটতে শুরু করেছিল। ১৯৪১ সাল পর্যন্ত তো রূপকল্প বা ভিশন ১৯৪১ তাদের প্রস্তুতই ছিল।
২০২৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট বলেছিল, নির্বাাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হয়নি। যুক্তরাজ্যের ফরেন অফিস বলেছিল, এ নির্বাচনে গণতন্ত্রের পূর্ব-শর্তাবলি পূরণে যথেষ্ট ঘাটতি ছিল। আওয়ামী লীগের জয়জয়কার এবং এর আগের তিন মেয়াদে একমাত্র আওয়ামী লীগের সরকার গঠনের ঘটনায় যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ ম্যাগাজিন এক নিবন্ধে উল্লেখ করেছিল, ‘বাংলাদেশ কার্যকরভাবে ‘একদলীয় রাষ্ট্রে’ পরিণত হয়েছে।’ ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ অতিরঞ্জিত কিছু বলেনি।
বাংলাদেশের মতো ভোটপাগলের দেশে ২৮ বা ৪০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি গ্রহণযোগ্য কোনো সংখ্যা নয়। পাশ্চাত্যের দেশগুলোর জাতীয়, স্থানীয় সব নির্বাচনেই ভোটার উপস্থিতি কম থাকে। ৫০ শতাংশের বেশি হাজির হলে তারা রেকর্ড ঘেঁটে বের করে যে এর ক’ দশক আগে কোনো নির্বাচনে এত অধিকসংখ্যক ভোটার ভোট দিয়েছিল। নির্বাচন বাংলাদেশের জনগণের কাছে উৎসবের মৌসুম। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভোটের দিনকে ঈদের মতো উৎসবে পরিণত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বাস্তবে জনগণের কাছে নির্বাচন বরাবরই উৎসব, বরং ঈদের আনন্দের চেয়েও বেশি।
নির্বাচনের মৌসুমে সমাজের চরম দুর্দশাগ্রস্ত ভিক্ষুক, দিনমজুর, কৃষক, শ্রমিকদের মর্যাদা ও কদর বেড়ে যায়। সুবেশী ভোটভিখারীরা পালা করে তাদের বাড়িঘরে, ফসলের খেতে, হাঁটবাজারে গিয়ে খোঁজখবর নেয়। তাদের ময়লা হাতে হাত মেলায়, আলিঙ্গন করে। নির্বাচন বিধিমালায় নিষেধাজ্ঞা যতই থাকুক এ মৌসুমে ভোটার ভাইবোনদের হাতে নগদ কিছু গুঁজেও দেয়। লুঙ্গি, শাড়ি, কম্বল বিতরণ করে। খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করে।
অতএব নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্রেও তারা যায় উৎসবে অংশ নেওয়ার ফুরফুরে মনে। এর আগের তিনটি নির্বাচনে ভোটারদের কোনো কদর ছিল না। তারা ভোট উৎসব থেকে বঞ্চিত ছিল। কারণ তাদের অধিকাংশকেই ভোট দিতে হয়নি। আওয়ামী লীগ তাদের ভোটকে অপ্রয়োজনীয় করে ফেলেছিল। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেই, কিন্তু যারাই আছে, তাদের কাছে ভোটাররা তাদের মর্যাদা ও মূল্য পাচ্ছে। দেশে এখনই উৎসবের আমেজ অনুভূত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন প্রার্থী তালিকা চূড়ান্তকরণ এবং প্রতীক বরাদ্দের পর ভোট উৎসব আরও গতি লাভ করবে।
আওয়ামী লীগপ্রধান শেখ হাসিনা দিল্লি থেকে তাঁর নিয়মিত অডিও বার্তার শেষটিতে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের উদ্দেশে নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, আওয়ামী লীগ সব সময় নির্বাচনমুখী দল। তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার আগ্রহ ব্যক্ত করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে একতরফা নির্বাচন, যা আন্তর্জাতিক মহল গ্রহণ করবে না।
গত অক্টোবর মাসে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ও একই ধরনের কথা বলেছেন, ‘ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে প্রহসনের নির্বাচন। আওয়ামী লীগকে ছাড়া কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না এবং নির্বাচনের ফলাফল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।
আওয়ামী লীগ সব সময় দাবি করে যে মোট ভোটারের ৪০ শতাংশ তাদের বাঁধাধরা ভোট। ২০০৮ সালে তা ৪৮ শতাংশে উঠে গিয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ পরবর্তী তিনটি নির্বাচনকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করার জন্য নির্বাচনকে সব রাজনৈতিক দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করেনি। নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও পক্ষপাতহীন করার পরিবর্তে প্রহসনমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার এক মেয়াদ থেকে আরেক মেয়াদে গেছে। আন্তর্জাতিক মহল প্রতিটি নির্বাচনের ফলাফলকে অগ্রহণযোগ্য বলে নিন্দা করেছে। আওয়ামী লীগ সরকার সেদিকে ভ্রুক্ষেপও করেনি। এখন সেই আওয়ামী লীগের মুখে ‘আন্তর্জাতিক মহলের’ দোহাই বরং তাদের প্রহসনের ভিন্ন মঞ্চায়নের চেষ্টা।
১৯৭০-এর নির্বাচনকাল থেকে আওয়ামী লীগ জাতিকে পদে পদে বিভ্রান্ত করেছে। দেশকে লুণ্ঠন করে জনগণের দুর্দশা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। তারা পঁচাত্তর থেকে শেখেনি, চব্বিশ থেকেও শিখবে, তা আশা করা যায় না। আল্লাহ বলেছেন : ‘ওরা মূর্খ, বধির ও অন্ধ। ওরা সত্যের পথে আসবে না’ (সুরা বাকারা ১৮)। আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে কোরআনের এই বাণী প্রযোজ্য। আর মাত্র তিন সপ্তাহ পর অনুষ্ঠেয় ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে অশুভ শক্তির ছড়ানো বিভ্রান্তি থেকে জনগণকে সজাগ রাখার দায়িত্ব কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর নয়, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দলগুলোরও।
লেখক : যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সিনিয়র সাংবাদিক । সূএ: বাংলাদেশ প্রতিদিন








