সংগৃহীত ছবি
অনলাইন ডেস্ক : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পঞ্চগড়-১ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শনিবার (৩ জানুয়ারি) নির্বাচনের বৈধ প্রার্থী হিসেবে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের নাম ঘোষণা করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান। এর মধ্যে হলফনামা বিশ্লেষণে সারজিস আলমের আয়সহ অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
যাতে বলা হয়েছে, তার পেশা ব্যবসা। আর এ খাত থেকে বার্ষিক আয় ৯ লাখ টাকা, যা মাসিক হিসাবে দাঁড়ায় ৭৫ হাজার টাকা। নেই কোনো নিজস্ব বাড়ি, নেই গাড়ি।
তবে সম্প্রতি- নেই নিজস্ব গাড়ি, নেই নিজস্ব নামে বাড়ি। তার পরেও গাড়িতে চলা ও থাকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও মন্তব্য। গাড়ি-বাড়ি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠলেও সারজিস আলম দাবি করেছেন, হলফনামায় প্রকৃত তথ্যই উল্লেখ করা হয়েছে।
এ নিয়ে সারজিস আলম বলেন, যখন ফটোকার্ডগুলো তৈরি করা হয়, তখন সেগুলো এমনভাবে করা হয় যেন বেশি রিচ পায় এবং অনেক বেশি পিআর পাওয়া যায়- এই চিন্তা করেই করা হয়। এটা সত্যি, আমি যে বাড়িতে থাকি, সেটা আমার আব্বুর করা বাড়ি। যে গাড়িটি ব্যবহার করে আমি নির্বাচনী প্রচারণা বা বিভিন্ন কাজে ঘুরি, সেটি ভাড়া করা গাড়ি। গাড়িটি আমার নিজের নয় যে, আমি সেটাকে আমার সম্পদের মধ্যে দেখাব।
হলফনামার তথ্য নিয়ে আরও বলেন, আয়ের বিষয় বা সম্পদের যে তথ্য দেয়া হয়েছে, সেখানে আসলে বাবা-মা, আত্মীয়স্বজনসহ আরও কিছু বিষয় যুক্ত করে দেখানো হয়েছে। আমরা তো আমাদের জায়গা থেকে মাত্র শুরু করেছি। আমাদের কাছে এমন অনেক বেশি সম্পদ থাকার কথা নয়, যেমনটা অনেকের আছে।
আমরা আমাদের জায়গা থেকে যতটুকু সত্য, সেটাই বলেছি। আমার কাছে যদি সব মিলিয়ে এখন ৩ লাখ টাকা থাকে, তাহলে আমি ৩ লাখ টাকাই দেখাব। আর আমি মনে করি, আমার সহযোদ্ধারা- পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব- সবাই তাদের জায়গা থেকে সহযোগিতা করছেন বলেও জানান সারজিস।
এদিকে হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, প্রার্থী সারজিস আলমের বয়স ২৭ বছর। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর। তার নামে তদন্তাধীন মামলা রয়েছে একটি। সারজিসের আয়ের উৎস ব্যবসা। এ খাত থেকে তার বার্ষিক আয় ৯ লাখ টাকা, যা মাসিক হিসাবে দাঁড়ায় ৭৫ হাজার টাকা।
অস্থাবর সম্পদের হিসাবে তিনি নগদ অর্থ ৩ লাখ ১১ হাজার ১২৮ টাকা উল্লেখ করেছেন। ব্যাংক হিসাবে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১ লাখ টাকা। এছাড়া ইলেকট্রিক পণ্য ও আসবাবপত্রসহ অর্জনকালীন মূল্যসহ মোট দেড় লাখ টাকা হলেও বর্তমানে এর মূল্য দেখানো হয়েছে ১ লাখ টাকা।
এবং স্থাবর সম্পদের মধ্যে দানকৃত ১৬ দশমিক ৫০ শতক কৃষি জমির মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ৫ লাখ টাকা।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে আয়ের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার ৬২৮ টাকা। এবং আয়কর পরিশোধ করা হয়েছে ৫২ হাজার ৫০০ টাকা।








