সংগৃহীত ছবি
অনলাইন ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিনে দিনে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে তিনি বিশ্বকে রীতিমতো হতবাক করে দিয়েছেন। তার এই আচরণকে ভালোভাবে নিচ্ছে না মার্কিন বলয়ে থাকা অনেক দেশও।
ট্রাম্পের এই বেপরোয়া আচরণে চিন্তা বেড়েছে ইরানের। আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দেশ এমনিতেই বিক্ষোভে উত্তাল। তার মাঝে কিউবাসহ ইরানকে ফের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান বিক্ষোভ দমনে বলপ্রয়োগ করলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হবে।
যদিও খামেনি সরাসরি বলেছেন, তিনি আমেরিকাকে মোকাবেলা করতে প্রস্তুত। ইরানের বিপ্লবী গার্ডও জানিয়েছে, তারা যেকোনো ধরনের আগ্রাসন মোকাবেলার জন্য প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
এদিকে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়াকে মার্কিন বাহিনীর হাতে ‘অপহরণ’ হওয়ার ঘটনাকে সম্পূর্ণ অবৈধ ও আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে ইরান। তেহরানে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান।
তিনি বলেন, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে এভাবে তুলে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক নজির। কোনো দায়িত্বশীল দেশ এ ধরনের ঘটনায় চুপ থাকতে পারে না। তিনি অবিলম্বে মাদুরোর মুক্তি দাবি করে বলেন, এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং এর ফলে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার জন্য জাতিসংঘ ও নিরাপত্তা পরিষদকে দায় নিতে হবে।
শনিবার কারাকাসে মার্কিন বাহিনীর ভয়াবহ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। ওয়াশিংটন এই অভিযানকে মাদক সংক্রান্ত অপরাধের বিচার হিসেবে দাবি করলেও ইরান একে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ভেনিজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ভেনিজুয়েলার সার্বভৌমত্বের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তারা এই আগ্রাসন বন্ধে নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল বাঘাই আরও উল্লেখ করেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থান এবং ভেনিজুয়েলার এই ঘটনা প্রমাণ করে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করছে না।
তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করে বলেন, ইরান সবসময়ই সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে নীতিগত অবস্থানে অটল থাকে, যা অনেক দেশ তাদের স্বার্থ অনুযায়ী পরিবর্তন করে। এমনকি ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও এই মার্কিন অভিযানের সমালোচনা করে বলেছেন, বাইরের শক্তি দিয়ে কোনো দেশের রাজনৈতিক সমাধান চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব নয় এবং এটি বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
অন্যদিকে, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির বিষয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় কোনো আপস করবে না। ট্রাম্পের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল ইরান সফলভাবে মোকাবিলা করবে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানিও ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো হস্তক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলবে। লারিজানির এই কড়া বার্তা এরই মধ্যে যথাযথ মহলে পৌঁছেছে বলে ইরান দাবি করেছে। সূত্র: প্রেস টিভি








