কী কী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা পুরুষদের ক্ষেত্রে একান্তই আবশ্যিক?

কখনো কাজের চাপে, কখনো বা সচেতনতা না থাকায় যৌন স্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলা করেন বহু পুরুষই। তাছাড়া, এখনও যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে লজ্জা বোধ করেন অনেকে। যথাযথ পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখলে কিংবা যৌন স্বাস্থ্য বিধি মেনে চললে বিভিন্ন ধরনের জীবাণুর সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। কাজেই অন্য যে কোনো অঙ্গের যত্নের মতোই যৌনাঙ্গের যত্ন নেয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

 

যৌনাঙ্গের পরিচ্ছন্নতা এক দিকে যেমন দূরে রাখে বিভিন্ন যৌন রোগ, তেমনই বৃদ্ধি করে যৌন মিলনের সামগ্রিক আনন্দকে। কী কী যৌন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা পুরুষদের ক্ষেত্রে একান্তই আবশ্যিক?

 

যৌনাঙ্গ শুকনো রাখতে হবে
ঘাম হয় এমন কোনো কাজের পর চেষ্টা করুন শুকনো তোয়ালে দিয়ে পরিষ্কার করে গোপনাঙ্গ মুছে নিতে। অফিস থেকে গণপরিবহণে ফেরার পর, গোসল, সাঁতার কাটা কিংবা খেলাধুলোর পর এ বিষয়টি খেয়াল রাখুন। যতটা সম্ভব শুকনো রাখার চেষ্টা করুন যৌনাঙ্গ ও সংলগ্ন অঞ্চল। ত্বক ভেজা থাকলে বিভিন্ন ছত্রাকের দ্বারা তৈরি হওয়া সংক্রমণের আশঙ্কা অনেকটাই বেড়ে যায়। তবে কোনো মতেই অন্যের তোয়ালে ব্যবহার করবেন না।

 

পরিচ্ছন্ন থাকুন :নিয়মিত পরিষ্কার করুন যৌনাঙ্গ। যৌনাঙ্গ ও সংলগ্ন অঞ্চলের এমনিতেই নির্দিষ্ট গন্ধ থাকে। সঙ্গে যুক্ত হয় অতিরিক্ত ঘাম। তাই অপরিষ্কার থাকলে দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে। নিয়মিত সাবান দিয়ে নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাখা খুবই জরুরি। ব্যবহার করতে পারেন বিভিন্ন ধরনের ‘ইন্টিমেট ওয়াশ’ও, এগুলো যৌনাঙ্গ ও সংলগ্ন অঞ্চলে অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। ফলে দূরে থাকে নানা ধরনের যৌন রোগ।

 

শারীরিক সম্পর্কের সময় :যৌন মিলনের আগে ও পরে নিয়ম করে পরিষ্কার করুন লিঙ্গ, মূত্রথলি, কুঁচকি। পুরুষদের যৌনাঙ্গে টাইসন গ্রন্থির ক্ষরণ হয়। এতোই এমন একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া যা পুরুষদের অজান্তেই ঘটে, তাই বাইরে না বেরোলেও নিয়মিত গোপনাঙ্গ পরিষ্কার রাখা জরুরি।

 

আরামদায়ক অন্তর্বাস : পরুন এমন ধরনের অন্তর্বাস, যাতে বায়ু চলাচলের সুযোগ থাকে। ফ্যাশন সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি ঠিকই, কিন্তু এটাও জানা দরকার যে অতিরিক্ত আঁটসাঁট অন্তর্বাস পরলে যৌনাঙ্গে চাপ পড়ে, ঘর্ষণ হয়। স্বাস্থ্যহানি হয় গোপনাঙ্গের। এমনকি, কমে যেতে পারে শুক্রাণুর সংখ্যাও। সুতির অন্তর্বাস পরা ভালো।

 

যৌন রোগের লক্ষণ : বিভিন্ন ধরনের যৌন রোগের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন হন নিজেই। নিজের বা সঙ্গীর গোপনাঙ্গে কোনো ধরনের ঘা, ফুসকুড়ি বা ফোস্কার মতো জিনিসকে অবহেলা করবেন না। সঙ্গমের সময় শারীরিক অসুবিধা হলেও উপেক্ষা করবেন না। এই ধরনের সমস্যা যৌন রোগের লক্ষণ। লজ্জা ঝেড়ে ফেলে পরামর্শ নিন চিকিৎসকের, এতে আপনার সঙ্গে সুস্থ থাকবেন আপনার সঙ্গীও।   সূত্র: আনন্দবাজার

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» বিএনপি ছাড়া কিছু রাজনৈতিক দল চাইছে নির্বাচন পেছাতে : রুমিন ফারহানা

» ক্ষমতায় এলে প্রথমে গুমের সংস্কৃতি নিশ্চিহ্ন করা হবে : সালাহউদ্দিন

» বিশেষ অভিযানে মোট ১ হাজার ৫১৫ জন গ্রেফতার

» আ.লীগ ও জাপার হামলায় আহত রাশেদ খান, নেওয়া হলো হাসপাতালে

» ওসমান হাদীর পোস্টে সারজিস লিখলেন, ‘এ লড়াই আপনার একার নয়’

» গণঅধিকার পরিষদের শতাধিক নেতাকর্মীর পদত্যাগ

» দেশের মানুষ পেশিশক্তির রাজনীতি আর দেখতে চায় না : তাসনিম জারা

» নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে এবি পার্টির কড়া অভিযোগ

» চীনকে যতটা উন্নত ভাবি তার চেয়েও অনেক বেশি উন্নত: সারজিস

» বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে উৎসবমুখর বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ–শরণখোলা)আসন    

  

 

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

কী কী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা পুরুষদের ক্ষেত্রে একান্তই আবশ্যিক?

কখনো কাজের চাপে, কখনো বা সচেতনতা না থাকায় যৌন স্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলা করেন বহু পুরুষই। তাছাড়া, এখনও যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে লজ্জা বোধ করেন অনেকে। যথাযথ পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখলে কিংবা যৌন স্বাস্থ্য বিধি মেনে চললে বিভিন্ন ধরনের জীবাণুর সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। কাজেই অন্য যে কোনো অঙ্গের যত্নের মতোই যৌনাঙ্গের যত্ন নেয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

 

যৌনাঙ্গের পরিচ্ছন্নতা এক দিকে যেমন দূরে রাখে বিভিন্ন যৌন রোগ, তেমনই বৃদ্ধি করে যৌন মিলনের সামগ্রিক আনন্দকে। কী কী যৌন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা পুরুষদের ক্ষেত্রে একান্তই আবশ্যিক?

 

যৌনাঙ্গ শুকনো রাখতে হবে
ঘাম হয় এমন কোনো কাজের পর চেষ্টা করুন শুকনো তোয়ালে দিয়ে পরিষ্কার করে গোপনাঙ্গ মুছে নিতে। অফিস থেকে গণপরিবহণে ফেরার পর, গোসল, সাঁতার কাটা কিংবা খেলাধুলোর পর এ বিষয়টি খেয়াল রাখুন। যতটা সম্ভব শুকনো রাখার চেষ্টা করুন যৌনাঙ্গ ও সংলগ্ন অঞ্চল। ত্বক ভেজা থাকলে বিভিন্ন ছত্রাকের দ্বারা তৈরি হওয়া সংক্রমণের আশঙ্কা অনেকটাই বেড়ে যায়। তবে কোনো মতেই অন্যের তোয়ালে ব্যবহার করবেন না।

 

পরিচ্ছন্ন থাকুন :নিয়মিত পরিষ্কার করুন যৌনাঙ্গ। যৌনাঙ্গ ও সংলগ্ন অঞ্চলের এমনিতেই নির্দিষ্ট গন্ধ থাকে। সঙ্গে যুক্ত হয় অতিরিক্ত ঘাম। তাই অপরিষ্কার থাকলে দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে। নিয়মিত সাবান দিয়ে নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাখা খুবই জরুরি। ব্যবহার করতে পারেন বিভিন্ন ধরনের ‘ইন্টিমেট ওয়াশ’ও, এগুলো যৌনাঙ্গ ও সংলগ্ন অঞ্চলে অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। ফলে দূরে থাকে নানা ধরনের যৌন রোগ।

 

শারীরিক সম্পর্কের সময় :যৌন মিলনের আগে ও পরে নিয়ম করে পরিষ্কার করুন লিঙ্গ, মূত্রথলি, কুঁচকি। পুরুষদের যৌনাঙ্গে টাইসন গ্রন্থির ক্ষরণ হয়। এতোই এমন একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া যা পুরুষদের অজান্তেই ঘটে, তাই বাইরে না বেরোলেও নিয়মিত গোপনাঙ্গ পরিষ্কার রাখা জরুরি।

 

আরামদায়ক অন্তর্বাস : পরুন এমন ধরনের অন্তর্বাস, যাতে বায়ু চলাচলের সুযোগ থাকে। ফ্যাশন সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি ঠিকই, কিন্তু এটাও জানা দরকার যে অতিরিক্ত আঁটসাঁট অন্তর্বাস পরলে যৌনাঙ্গে চাপ পড়ে, ঘর্ষণ হয়। স্বাস্থ্যহানি হয় গোপনাঙ্গের। এমনকি, কমে যেতে পারে শুক্রাণুর সংখ্যাও। সুতির অন্তর্বাস পরা ভালো।

 

যৌন রোগের লক্ষণ : বিভিন্ন ধরনের যৌন রোগের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন হন নিজেই। নিজের বা সঙ্গীর গোপনাঙ্গে কোনো ধরনের ঘা, ফুসকুড়ি বা ফোস্কার মতো জিনিসকে অবহেলা করবেন না। সঙ্গমের সময় শারীরিক অসুবিধা হলেও উপেক্ষা করবেন না। এই ধরনের সমস্যা যৌন রোগের লক্ষণ। লজ্জা ঝেড়ে ফেলে পরামর্শ নিন চিকিৎসকের, এতে আপনার সঙ্গে সুস্থ থাকবেন আপনার সঙ্গীও।   সূত্র: আনন্দবাজার

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



  

 

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

Design & Developed BY ThemesBazar.Com